সাদিয়া ন্যান্সী    |    
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৪:২৬:১০ প্রিন্ট
বাউলদের দুঃখ লাঘবে বিত্তবান ও সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে

বাংলাদেশের জনপ্রিয় বাউল সঙ্গীতশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিডিয়ায় পরিচিতি পান তিনি। এরপর অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়ে শ্রোতাদের মনে স্থান করে নেন। বাংলাদেশ ছাড়াও প্রায় ৫০টি দেশে স্টেজ শোতে গান পরিবেশন করেছেন কুদ্দুস বয়াতি। তবে এ শিল্পী এখন অনেকটাই অন্তরালে। আগে অনুষ্ঠানে গান করলেও এখন সেখানে খুব একটা সরব নন। অনুষ্ঠানে দেখা না গেলেও গানের সঙ্গেই তার বসবাস। পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে বাউলদের নিয়ে একটি ফাউন্ডেশনের কাজ করছেন। চলতি বছরে ‘আসো মামা হে’ শিরোনামের একটি গান দিয়ে বেশ অলোচনায় এসেছেন এ বাউল শিল্পী। পরে আরও একটি হিপহপ গানে দেখা গেছে তাকে। গান ও ব্যক্তিগত জীবন এবং নতুন সংগঠনের নানা বিষয় নিয়ে যুগান্তরের একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তিনি।

কেমন আছেন?
কিছু বিষয় নিয়ে মন খারাপ। কেউই ভালো থাকে না। ভালো থাকার চেষ্টা করতে হয়। আমিও তাই করে যাচ্ছি।

কী বিষয়ে মন খারাপ?
এ দেশের একজন শিল্পী হাজার হাজার মানুষকে আনন্দ দেয়। কিন্তু একজন শিল্পী কীভাবে আছেন, কীভাবে তার সংসার চলে, তার ঘরে কি ভাত আছে, সে কি খেয়ে আছে, না খেয়ে আছে। এগুলো দেখার কোনো লোক নেই। আমাদের অনেক বাউলশিল্পী আছেন যারা রাস্তাঘাটে পড়ে থাকেন। আমিও একদিন চলে যাব, কিন্তু তাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না।

আপনার গানে এক ধরনের বার্তা থাকে সব সময়, বিশেষ কোনো কারণ আছে?
আমি গান গেয়েছি ‘এইদিন দিন নয় আরও দিন আছে’, ‘আম খাইও জাম খাইও তেঁতুল খাইও না, অল্প বয়সে বিয়ে করলে প্রাণে বাঁচতা না।’ এসব গানে সচেতনতার কথা ছিল। একতারা-দোতারা নিয়ে দেশে-বিদেশে সংগ্রাম করে যাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত আমি দেশপ্রেম নিয়ে মরতে চাই। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়ে সবার মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। তাই বিভিন্ন স্টেজে আমি সচেতনতার বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। করতে পেরেছেন?
আমি একটা বাউলশিল্পী। আজ কুদ্দুস বয়াতি হয়েছি। তার কাছে পৌঁছতে এখনও চেষ্টা করছি। আমাদের ঐতিহ্য, গান, একতারা-দোতারাও ঠিক রাখা প্রয়োজন। লোক শিল্পীরা অনেক কষ্টে আছে। তারা একটি যন্ত্রের জন্য গান গাইতে পারে না। না খেয়ে পড়ে আছে। আমি তাদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সে জন্য আকুলভাবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আপনার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কী ধরনের কাজ করতে চান?
আমার দেশের বাড়িতে কিছু নিজের জমি আছে। সেখানেই একটি বিল্ডিং আছে। এটির মধ্যে একটি জাদুঘরের মতো করব। বাউলদের মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের ছবি, বাউলদের আদ্যোপান্তের ইতিহাস, নানারকম বাদ্যযন্ত্র আরও অনেক কিছু রাখব। এক কথায় বাউলদের পুরনো ঐতিহ্যের সব কিছু ডিজিটাল বাংলাদেশকে দেখাতে চাই। সঙ্গে অবহেলিত বাউলশিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে চাই।

আজকাল দিনগুলো কীভাবে কাটছে?
বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকি। মাঝে মধ্যে নেত্রকোনায় যাই। গান-বাজনা করি। বিভিন্ন মাজারে যাই। গান করি। ফাউন্ডেশনের কাজ করি।

আপনি তো দেশের বাইরেও অনেক কনসার্ট করেছেন। সেসব অভিজ্ঞতা কেমন?
ভালো মন্দ মিশেই। এ পর্যন্ত বহু দেশে গান করছি। ভাবতেই ভালো লাগে। তবে আমি তো পড়ালেখা জানি না। তাই ওখানে গিয়ে ভাষাও বুঝি না। এটুকু বুঝি তারা আমার গান অনেক পছন্দ করেন। এ ছাড়া বহু দেশে গেয়েছি। সর্বশেষ ওমান গেলাম। সেখানে বাংলাদেশিরা খুব খাতির করেন আমারে।

প্রায় ৩০ বছরের ক্যারিয়ারে আপনার তেমন কোনো গানের অ্যালবাম নেই। কারণ কী?
আমি বয়াতি মানুষ। গান করি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে। অ্যালবাম করার তাগিদ নেই। তাও দুটি প্রকাশ করছিলাম। সেটা ছিল পেটের দায়ে। অনেক আগে ২০-২২ বছর হবে। আর অহন তো মানুষ ডিজিটাল হইছে, গান ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে নেয়।

বাউলশিল্পীকে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা এখন হিপহপ হিসেবেও চেনেন। বিষয়টি কেমন লাগে?
ভালো লাগে। পড়ালেখা না জানলে কী হবে, সবাইকে বুঝিয়ে দিলাম সেকেলের মানুষ হলেও আমি ডিজিটালের সঙ্গে আছি। তরুণদের সঙ্গেও তাল মিলিয়ে চলতে পারি।

সামনে এমন লুকে আবার কাজ করার ইচ্ছা আছে?
আমি সব সময় এমন লুকে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। সামনে যদি এভাবে হিপহপ লুকে কেউ আমাকে নিয়ে কাজ করতে চায়, আমি করব।

প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে অনেক কাজ করেছেন, উনি তো আপনার ওস্তাদ, তাকে মনে পড়ে?
খুব মনে পড়ে স্যারকে। তার জন্যই আজ আমাকে সবাই চিনেছেন। ৯০ সালের পর হুমায়ূন স্যারের কল্যাণে প্রথমবারের মতো একটা বিজ্ঞাপনে গান গাই ‘এই দিন, দিন না আরও দিন আছে’ শিরোনামে। তারপর থেকে অনেক দেশে-বিদেশে গান গেয়েছি। আমার কাছে তিনি ছিলেন একজন সমুদ্র, আর আমি হচ্ছি খাল। তিনি নাই তাতে কী, এ সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার নয়।

সামনের দিনের পরিকল্পনা কী?
আমি মরে গেলেও যেন এ দেশের মানুষ আমাকে মনে রাখে এমন কিছু করে যেতে চাই। বাউলশিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে চাই। সে জন্য সমাজের বিত্তবান এবং সরকারের সহযোগিতা খুব দরকার।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত