প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৪:৩৭:০২ প্রিন্ট
সুন্দরী ফারিয়ার আসা-যাওয়ার গল্প

ফারিয়া শাহরীন। নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দুধে আলতা গায়ের রঙের আপাদমস্তক সুন্দরী এক নারীর প্রতিচ্ছবি। কাজলে আঁকা ডাগর চোখের চাহনি, প্রশস্ত কপাল আর কালোর মাঝে হালকা সোনালি রং করা চুল। ঠিক যেন স্বর্গের অপ্সরি। মোট কথায় সুন্দরী বলতে যা বোঝায় তার সবটুকুই স্রষ্টা ঢেলে দিয়েছেন ফারিয়ার মধ্যে।

এ সৌন্দর্যকে উপযুক্ত ব্যবহারও করেছেন তিনি। অংশ নিয়েছিলেন লাক্স চ্যানেল আই সুন্দরী প্রতিযোগিতায়। অঙ্গে যার এত রূপ তাকে নিরাশ হতে হয়নি। প্রতিযোগিতায় অন্যতম সেরা সুন্দরী হয়েছিলেন তিনি।

এ বিজয়ের কথাও প্রায় দশ বছর আগের। এই দশ বছরে সুন্দরী ফারিয়ার পালকে যুক্ত হয়েছে আরও অনেক কিছুই। সুন্দরী খেতাব পাওয়ার পর বাবা-মা বলেছিলেন শোবিজে কাজ করবে, কিন্তু এতে যেন পড়াশোনার ক্ষতি না হয়। তাদের কথা রেখেছেন। পড়াশোনার ক্ষতি করে শোবিজ নিয়ে পড়ে থাকেননি তিনি। বরং পড়াশোনার জন্য শোবিজকেই বাই বাই জানিয়েছেন মাঝে মাঝে।

তাই শোবিজ ছেড়ে গত বছর পড়াশোনার জন্য উড়াল দেন মালয়েশিয়াতে। সেখানে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া মার্কেটিং বিভাগে অধ্যয়ন শুরু করেন। সে অধ্যয়ন চলছে এখনও। সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন এ সুন্দরী। ফিরেই একটি বেসরকারি চ্যানেলে উপস্থাপনা শুরু করেছেন।

আপনি তো অভিনয় আর মডেলিংয়ের মানুষ। দেশে ফিরে উপস্থাপনা কেন শুরু করলেন জানতে চাইলে ফারিয়া জানান, ‘এটি হুট করেই শুরু করা। পড়াশোনায় শেষ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শিগগিরই। তার অংশ হিসেবে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগের তিন মাসের কাজের ওপর একটি গবেষণা পেপার তৈরি করতে হবে। এ জন্য আরটিভির মার্কেটিং বিভাগে কাজ শুরু করি। কাজ করতে এসেই সরাসরি গানের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার প্রস্তাব পাই। কাজটি আমার সুবিধা মতো সময় রাতে বলে আমিও রাজি হয়ে যাই।’

এবার কতদিন থাকা হচ্ছে দেশে? এমন প্রশ্নের জবাবে ফারিয়া জানান, ‘গবেষণা পেপার রেডি করতে তিন মাস লাগবে। এ পরিমাণ সময় তো আমাকে থাকতেই হবে।’ এ সময়ে কী অভিনয়ে ফেরা হবে? ফারিয়ার হাসিমাখা উত্তর- ‘সময় কই। আমি আমার গবেষণা পেপারের কাজ শেষ করতেই দেশে এসেছি। এখন এটার বাইরে শোবিজে কাজ করার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই।’

আপনার অভিনয় শুরু তো সেই ছোট বেলা থেকেই। এখন অভিনয় না করে কীভাবে থাকছেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘মাত্র তিন বছর বয়সে আমি নতুন কুঁড়িতে অভিনয় করেছিলাম। বাবার চাকরির সুবাদে তখন আমরা কুমিল্লায় থাকতাম। আসলে সময় ও চাহিদার সঙ্গে আমাদের অনেক কিছুই তাল মিলিয়ে চলতে হয়। এখন আর তেমন খারাপ লাগে না। কয়টি আর কাজ করেছি! তবুও দর্শকরা যে এখনও আমাকে এতটা ভালোবাসেন সেটি ভাবলেই অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে।’ চলচ্চিত্রেও অভিষেক হয়েছে তার। সামিয়া জামানের চলচ্চিত্র ‘আকাশ কত দূরে’তে অভিনয় করেছেন ফারিয়া। চলচ্চিত্রে আবার কাজ করার ইচ্ছা আছে কি? প্রশ্ন রাখতেই জানান, এখন তো আর সে সময় নেই। তবে আকাশ কত দূরের পর অনেক ছবিতেই কাজ করার প্রস্তাব পেয়েছি। তাদের শর্ত আর চুক্তি আমার পছন্দ হয়নি। তাই ছবিতে অভিনয়ও করিনি। আগামীতে ছবিতে অভিনয় করব কিনা সেটি এখন বলতে পারব না। আগে পড়াশোনা শেষ করি!’

মাঝে মাঝে আসেন অভিনয় করেন। এভাবেই কী শোবিজে থাকার ইচ্ছা? উত্তরে ফারিয়া বলেন, ‘আমি কিন্তু সব সময় বেছে বেছে কাজ করি। তাই মিডিয়ায় আমার উপস্থিতি একেবারেই কম। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যেভাবে আছি, সেটিই ঠিক আছে। এভাবেই মাঝে মধ্যে অভিনয় করব, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াব।’

কিন্তু মিডিয়ায় টিকে থাকতে গেলে নিয়মিত হওয়ার একটা ব্যাপার থাকে? এ বিষয়ে প্রশ্ন রাখতেই কাটছাঁট উত্তর ফারিয়ার- ‘আমি কোনো দিন প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে চাইনি, ভবিষ্যতেও নয়। আমি শুধু জানি, আমার অগণিত ভক্তের ভালোবাসা পেয়ে এ পর্যন্ত এসেছি, সামনেও পাব।’


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত