অনলাইন ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ০৬ জুলাই, ২০১৬ ২১:১৯:১১ | অাপডেট: ০৬ জুলাই, ২০১৬ ২১:২৩:৩৫ প্রিন্ট
গুলশান হামলায় ২ ভক্ত
জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত

বাংলাদেশের গুলশানে হামলাকারীদের মধ্যে দুজন তরুণ আলোচিত বক্তা জাকির নায়েকের ভক্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত।

জাকিরের বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ায় তাকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। তবে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজ্জু  বলেছেন, জাকিরের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে তা আইনশৃংখলা বাহিনীই ঠিক করবে।

এদিকে বিতর্কের মুখে বৃহস্পতিবার সকালে জাকির নায়েকের ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডোংরির অফিসে হানা দেয়  মুম্বাই পুলিশের একটি দল।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সৌদি আরবের মক্কা সফররত জাকির নায়েক জানিয়েছেন, আগামী ১১ জুলাই দেশে ফিরে পর দিন নিজের অবস্থান ব্যাখা সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।

গত শুক্রবার রাতে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় একদল অস্ত্রধারী জঙ্গি; দেশী-বিদেশঅ অন্তত ৩৩ জন সেখানে জিম্মি হন।

হামলাকারীদের ঠেকাতে গিয়ে বোমায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে পরের দিন শনিবার ওই রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্রবাহিনী। ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ২০ জনের লাশ পাওয়া যায় জবাই করা অবস্থায়।

নিহতদের মধ্যে নয়জন ইটালির, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক৷ বাকি তিনজন বাংলাদেশী, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল৷

গুলশানের এই নিষ্ঠুর হামলায় অংশগ্রহণকারী ছয়জন তরুণের মধ্যে রোহান ইমতিয়াজ ও নিবরাস ইসলাম নামে দু'জন জাকির নায়েকের ভক্ত ছিলেন বলে বাংলাদেশী সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানায় ভারতীয় এনডিটিভি।
 
এ প্রতিবেদন প্রকাশ হলে জাকির নায়েককে ভারতে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনা।

সংগঠনটি থেকে নির্বাচিত এমপি অরবিন্দ সায়ন্ত বলেন, 'আমার বুঝে আসে না যে তিনি (জাকির) কী প্রচার করেনে। তিনি ঘৃণা করতে ও প্রতিশোধ নিতে শেখান। আমি আশ্চর্য হয়ে যাই শিক্ষিত তরুণরা তার অনুসারী...সরকারের উচিত তাকে নিষিদ্ধ করা, এ ধরণের মানুষ ভয়াবহ।'

বুধবার জাকিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'কী ব্যবস্থা নেয়া হবে তা বলা মন্ত্রী হিসেবে আমার জন্য সঙ্গত নয়। এটি আইনশৃংখলা বাহিনীর বিষয়, তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।'

তিনি বলেন, 'নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারত বহু বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে বেশ ইতিবাচক। এ কারণে যেকোনো সিদ্ধান্তই নেয়া হোক না কেন তা দু'দেশ একসঙ্গেই নেবে।'

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা যদি ঢাকা থেকে অনুরোধ পাই, তাহলে জাকির নায়েককে নিষিদ্ধের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।'
 
এদিকে গুলশান হামলায় দুই ভক্তের সংশ্লিষ্টতা ও জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্পর্কে মুখ খোলেন জাকির নায়েক।

তিনি বলেন, 'ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএস) নামটিই অনৈসলামিক। ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামটি ব্যবহার করে আমরা আসলে ইসলামের নিন্দা করছি। '

আইএসকে 'এন্টি ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া' নামে অভিহিত করে আইএস নামটি ইসলামের শত্রুদের দেয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গুলশানের হত্যাকারীরা তার অনুসারী- এমন তথ্যকে মিথ্যা দাবি করেন জাকির নায়েক বলেন, 'আমার ফেসবুক ফলোয়ারের বড় অংশই বাংলাদেশি। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের মানুষই বাংলায় প্রচারিত পিসটিভিতে আমাকে দেখেন।  ৯০ শতাংশ বাংলাদেশি আমাকে চেনেন। প্রবীণ রাজনীতিক থেকে সাধারণ মানুষ, ছাত্র, শিক্ষকরা রয়েছেন সেই তালিকায়। আর এই বিপুল মানুষের পঞ্চাশ শতাংশ আমার গুণমুগ্ধ। এই অবস্থায় জঙ্গিরা যদি আমায় চেনে তাহলে কি আমার খুব বেশি অবাক হওয়ার কথা? না।'

গুলশান হামলাকারীদের ব্যাপারে জাকির নায়েক বলেন, 'হত্যাকারীরা আমার বক্তব্যের সঙ্গে পরিচিত হতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় আমি তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছি। আমি সাধারণত ধর্মীয় বই অনুসারে বক্তব্য দেই। আমার বক্তব্য শুনে তারা যদি সঠিক ইসলামকে বুঝতে না পারে সেটা তাদের দুর্ভাগ্য।'

আলোচিত বক্তা জাকিরের পুরো নাম জাকির আব্দুল করিম নায়েক। ১৯৬৫-র ১৮ অক্টোবর ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বইয়ে তার জন্ম। বর্তমানে স্ত্রী ফাহাতের সঙ্গে তিনি দুবাইতে থাকেন। ফাহাতের বাড়ি পুনেতে। তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। দুই সন্তানই বাবার পদাঙ্ক অনুসরন করে ইসলামী প্রচারক হয়েছেন।

জাকির ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট তিনি। ভারত ও দুবাইভিত্তকি পিস টিভির মালিক তিনি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষায় বিশ্বের ২০ কোটি মানুষ টিভিতে তার অনুষ্ঠান দেখে। ফেসবুকে তার এক কোটি ৪০ লাখ ফলোয়ার রয়েছে।

ইসলাম প্রচারক হিসেবে খ্যাতিমান হলেও তার নানা বক্তব্য নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। ব্রিটেন, কানাডা সহ বেশ কয়েকটি দেশ তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এবিপিলাইভ, ইন্ডিয়া টুডে


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by