অনলাইন ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৩:০৫:৪৪ প্রিন্ট
ধর্ষণের জন্য অল্প বয়সী মেয়েদের ধরে আনত 'গুরমিত বাহিনী'

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের যৌন চাহিদা পূরণ করতে অল্প বয়সী মেয়েদের ধরে আনত তার নারী বাহিনী।

ওই নারী বাহিনী মেয়েদের ধরে আনার পর গুরমিতের কাছে ধর্ষিত হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দিত। পরে রাতের বেলা তাদের গুরমিতের গুহায় ঢুকিয়ে দিত।

গত মাসে দুই নারী শিষ্যকে ধর্ষণের মামলায় ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধানগুরু গুরমিতকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার পর এমন বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসছে।

সম্প্রতি পুলিশ গুরমিতের গোপন গুহায় তল্লাশি চালিয়েছে। এ সময় তার এক গোপন সেনাবাহিনী সম্পর্কেও জানা যায়। কুরবানি ডাল নামে এ বাহিনীর কাজ ছিল জীবনের বিনিময়ে হলেও ধর্ষক বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এদিকে যে নারীরা গুরমিতের জন্য প্রতি রাতে অল্প বয়সী মেয়ে সরবরাহ করতেন, তারাও এক সময় এ ভণ্ড গুরুর কাছে ধর্ষিত হয়েছিলেন।

জানা গেছে, প্রতি রাতে নতুন নতুন মেয়ে লাগত ধর্ষক বাবার। তার কাছ থেকে নাবালিকারাও রেহাই পেত না।

তবে শুধু যৌন হেনস্থা নয়, অনেক শিষ্যের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে শারীরিক সম্পর্ক করতেন গুরমিত। এ শিষ্যরা ধর্ষক বাবার এতটাই বশ ছিল যে, তিনি যা বলতেন তারা অন্ধের মতো তাই করতেন।

পরে এ নারীরাই নতুন নতুন মেয়ে ধর্ষক বাবার জন্য ধরে আনতেন। আর ধর্ষকগুরুর ডেরায় বহু রাজনৈতিক নেতাও বিনোদনের জন্য যাতায়াত করতেন। তারা সেখানে মদ ও নারী নিয়ে মত্ত থাকতেন।

গুরমিতের নারী বাহিনীর সদস্যরা মূলত রোবটের মতো কাজ করতেন। তাদের কোনো মানবিকতা ছিল না, কোনো অনুভূতি থাকত না। তারা ছোট ছোট শিশুর চিৎকারেও ক্ষান্ত হতো না। বরং নির্বিকারভাবে মেয়েদের বাবার গুহায় ঢুকিয়ে দিতেন।

ধর্ষক বাবা যে নারী শিষ্যদের কারণে শাস্তি পেলেন, তাদের একজন বলেন, গুরমিতের নারী দলকে বিষকন্যা বলা হতো।
ওই নারী বলেন, তিনি গুহার বাইরে নিরাপত্তা দিতেন। তখনই দেখেছিলেন বহু মেয়ে সেখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কেউই বলত না, তাদের সঙ্গে কী হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মূলত সেখানে মেয়েদের ঢোকানো হতো। তারপর বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাদের প্রলোভন দেখানো হতো। বলা হতো, বাবা তাদের নির্বাচিত করেছেন, নিজের সবচেয়ে প্রিয় শিষ্য হিসেবে। এবার তাদের পবিত্র করার জন্য নিজের কাছে ডাকবে।

শুধু ধর্ষিতা হওয়াই নয়; গুরমিতের জন্য রান্না থেকে কাপড় কাচাসহ সব কাজই করতে হতো ধর্ষিত নারীদের।

এদিকে বিষকন্যারা ডেরার সব মেয়ের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতেন। কেউ বাবার বিরুদ্ধে মুখ খুললে দিনের পর দিন খাবার জুটত না। এ ছাড়া আরও নানা ধরনের অত্যাচার চলত।

এদিকে ডেরায় থাকা ছেলেরা কোনো মেয়ের দিকে তাকালে তাদের কড়া শাস্তি দেয়া হতো। এদিকে দলিত নারীদের ডেরায় কাজের লোকে পরিণত করা হয়েছিল।

ভণ্ডগুরু গুরমিত সিংকে ধর্ষণসহ নানা অপকর্মে যারা সহযোগিতা করতেন, তারা এখনও প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ানোর কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র: এবিপি আনন্দ


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত