• বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭
প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৫:২২:৪৩ | অাপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৫:২২:৫১ প্রিন্ট
রোহিঙ্গা সংকট কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম

ইরাক, সিরিয়া, রুয়ান্ডাসহ বিভিন্ন দেশে সহিংসতার জেরে সৃষ্ট তীব্র মানবিক সংকট ইতিমধ্যে দেখেছে বিশ্ব। নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে অসংখ্য মানুষকে। কেউ কেউ শিকার হয়েছেন ধর্ষণ-নির্যাতনের। মানবিক দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে শিশু-বৃদ্ধদের বেলায়ও। তারা চোখের সামনে জ্বালিয়ে দিতে দেখেছেন নিজের বাড়িঘর, পুড়ে মরতে দেখেছেন পরিবারের সদস্য কিংবা স্বজনকে। এরই মধ্যে জন্মভূমি থেকে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছেন অনেকে। এবার এমনই এক সংকটে পড়েছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। নিজের জন্মভূমি মিয়ানমারে নির্মম নির্যাতন-হত্যা, ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন তারা। উপায়ান্তর না দেখে প্রতিবেশী বাংলাদেশে ইতিমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ পালিয়ে আসতেও সক্ষম হয়েছেন। এখনও আসছেন। রোহিঙ্গাদের এ সংকটকে কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম হিসেবে উল্লেখ করেছে দি ইকোনমিস্ট পত্রিকা। তারা বলছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় সেখান থেকে যে সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন; ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় গতহত্যার ঘটনায় যত মানুষ পালিয়ে গেছেন, তা তার চেয়েও বেশি।

ইকোনমিস্ট তাদের প্রতিবেদনে আরও বলেছে, ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে পুলিশের তল্লাশি-চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর পাল্টা জবাব দিতে রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী টানা অভিযান শুরু করে। তারা রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, হত্যাকাণ্ড চালায়। অসংখ্য নারী ধর্ষণের শিকার হন সেনাদের হাতে। এর মধ্যেই প্রাণে বাঁচতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু করে। সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪ লাখ ২০ হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মিয়ানমার সেনাদের এ নির্মম কর্মকাণ্ডকে ইতিমধ্যে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে মিয়ানমারের নেতারা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারগুলো জোর গলায় অস্বীকার করছেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী দেশটির নেত্রী অং সান সুচি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা বাদ দিয়ে তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে ব্যাপারটিকে তিনি বৈধতা দিয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, কেন রাখাইন থেকে মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে সে বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। মানবিক সংকট সমাধানে এগিয়ে না এসে সুচির এমন নির্বোধের মতো বাক্যচয়নে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই তার নোবেল পুরস্কার ছিনিয়ে নেয়ার দাবি তুলে বলেন, মিথ্যা বলে সত্যকে ঢাকার চেষ্টা করছেন তিনি, উল্টো ভুক্তভোগীদের দোষারোপ করছেন।

ইকোনমিস্ট জানায়, ১৯৮২ সালে মিয়ানমারের সেনা সরকার দেশটির ১৩০-এরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তালিকা থেকে রোহিঙ্গাদের বাদ দিয়ে দেয়। এতে তারা নাগরিকসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। সে সময় থেকে এখনও তারা দাবি করে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক। ১৯৯১-৯২ সালে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে অন্তত ৬ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে। কিন্তু চলতি মাসে নির্যাতন শুরু হওয়ার পর থেকে শরণার্থী প্রবাহ বহু রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সপ্তাহে গড়ে ১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী সীমান্ত পার হয়েছে। যদিও এ প্রবাহ এখন কিছুটা কমেছে। ত্রাণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এসব রোহিঙ্গাকে তারা ত্রাণ সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সংকট রয়েছে খাদ্য ও পানির। তাদের ভাষ্য, এত অল্প সময়ে এত বেশি শরণার্থী ঢুকে পড়েছে যে, তা কোনো দেশের পক্ষেই সামাল দেয়া সম্ভব না। কেননা এর সাধারণত পূর্বপ্রস্তুতি থাকে না।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন দেশে শরণার্থী প্রবেশের একটা গড় ধারণা নেয়ার চেষ্টা করেছে ইকোনমিস্ট। ইরাক, সিরিয়া, রুয়ান্ডাসহ বিভিন্ন দেশের তথ্য এ সময় তারা খতিয়ে দেখেছে। তারা দেখেছে, রুয়ান্ডা থেকে যে সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়েছে, তাকেও ছাড়িয়ে গেছে মিয়ানমার। সেখান থেকে অন্তত ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন মানুষ পালিয়ে গেছে, যা মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের বেশি। রুয়ান্ডার মানুষ সপ্তাহে গড়ে দেশ ছেড়েছে ১ লাখ ১১ হাজার।
সাম্প্রতিককালে সিরিয়া সংকটটিও ছিল ভয়াবহতম। অন্তত ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে গেছে। সপ্তাহে মানুষের এ পালানোর সংখ্যা ৩৩ হাজার। আর মিয়ানমারের রাখাইনে বসবাস করেন অন্তত ১০ লাখ রোহিঙ্গা। যার অর্ধেকই বাংলাদেশে এখন অবস্থান করছেন। এর আগে অনেকেই এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে আশ্রয় নেন। ইতিমধ্যে সুচি ঘোষণা দিয়েছেন, তারা কিছু রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত আছেন। এ প্রক্রিয়া যে কোনো সময় শুরু হতে পারে। তবে ইকোনমিস্ট বলছে, কত সংখ্যক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার সরকার ফিরিয়ে নেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত