নেসারুল হক খোকন    |    
প্রকাশ : ২২ আগস্ট, ২০১৭ ০৩:১০:১৫ | অাপডেট: ২২ আগস্ট, ২০১৭ ০৩:১২:৫০ প্রিন্ট
আইন কর্মকর্তার মতামতেই বেহাত হয় মূল্যবান সম্পত্তি
সরকারের স্বার্থবিরোধী মতামত দেয়ার সময় পূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন মান্নান খান * জাল দলিলের ভুয়া তথ্য জুড়ে দিয়ে পদে পদে জালিয়াতি * রেকর্ড সংশোধনের যে আবেদন করা হয়, সেটিও জাল

‘নালিশি ভূমি যেহেতু পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত নয়, সেহেতু সেটেলমেন্ট রেকর্ড ভ্রমাত্মক (ভুল) ও মনগড়াভাবে প্রণীত হয়েছে। এখন বিষয়টি সংশোধনের এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের রয়েছে। এ অবস্থায় বর্ণিত রেকর্ড সংশোধন করে আবেদনকারীর অনুকূলে নামজারি করার বিষয়ে জেলা প্রশাসক ঢাকাকে জানিয়ে দেয়া যেতে পারে।’ এটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন আইন কর্মকর্তা শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনির মতামত।

সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি রক্ষার পরিবর্তে উদ্দেশ্যমূলক এ ধরনের মতামত দেয়ায় হাতছাড়া হয়ে যায় ৫৭ শতক মূল্যবান সম্পত্তি। সরকারি সম্পত্তি বেহাত করা নিয়ে যখন এত বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটে, তখন পূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন আবদুল মান্নান খান। অভিযোগ রয়েছে, জমিটি আত্মসাৎ করতে প্রভাবশালী মহল মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দফতরে মোটা অঙ্কের অর্থলগ্নি করে। এ সুবাদে সরকারি স্বার্থ সুরক্ষা না করে এভাবে বেআইনি মতামত দিয়ে দ্রুত জালিয়াত চক্রের নামে নামজারির ব্যবস্থাসহ রেকর্ড সংশোধন করা হয়। অথচ জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, ‘আলোচ্য সম্পত্তিটি আরএস ও মহানগর জরিপে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে পূর্ত ও নগর (বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত) মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত।’ যুগান্তরের তথ্যানুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর এ দুর্নীতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে।

সূত্র জানায়, এসি ল্যান্ড অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিত্যক্ত সম্পত্তি হওয়ায় আবেদনকারীর নামে ওই সম্পত্তির নামজারি ও জমাভাগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি দেন ঢাকার ডিসি। অপরদিকে জানা যায়, আইনে আছে- ‘সর্বশেষ জরিপে প্রকাশিত খতিয়ানের বিষয়ে যে কোনো আদেশ প্রদানে ‘ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল’ এখতিয়ারবান। জরিপ-পরবর্তী স্বত্বলিপি গেজেটে চূড়ান্ত প্রকাশনার পর কোনো সংশোধনীর দাবি থাকলে তা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং সর্বশেষ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে বিচার্য।’ ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর এ বিষয়ে গেজেটও প্রকাশিত হয়। কিন্তু পরীবাগের পরিত্যক্ত এ সম্পত্তি সরকারের নামে নামজারি না করে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান লঙ্ঘন করা হয়।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন আইন কর্মকর্তা বর্তমানে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত (যুগ্ম সচিব) শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার তিন লাইনের মতামত সঠিক ছিল। পরিত্যক্ত সম্পত্তি রেকর্ড সংশোধনের এখতিয়ার স্থানীয় প্রশাসনের আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নেই।’ তাহলে কীভাবে আইনি মতামত দেয়া হল প্রশ্ন করা হলে আলবেরুনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক আমার মতামত মানতে বাধ্য নন। আর এসি ল্যান্ড জমির প্রকৃত রেকর্ডপত্র দেখেই তো নামজারি করার কথা।’

এ বিষয়ে ঢাকার তৎকালীন জেলা প্রশাসক বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন যুগান্তরকে বলেন, ‘জমিটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত হওয়ার কারণেই তো আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছিলাম।’ আবু রায়হান আলবেরুনি বলেছেন, তিনি আইনি মতামত দিলেও জেলা প্রশাসক এটা মানতে বাধ্য নন। এর জবাবে ইউসুফ হারুন বলেন, ‘সেটি তো ছিল গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তার বক্তব্য। এছাড়া আইন কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব ও প্রতিমন্ত্রী দ্বিমত পোষণ করেননি। ফলে আইন কর্মকর্তার আইনি মতামত অবশ্যই পূর্ত মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য।’ তিনি জানান, জায়গা হল মন্ত্রণালয়ের। এখন সেই মন্ত্রণালয় যদি বলে তাদের জায়গা তারা ছেড়ে দেবে বা সেটি ব্যক্তিমালিকানার সম্পত্তি, তাহলে ঢাকা ডিসির কিছু করার নেই। এ ধরনের অবস্থায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওই মতামত বা বক্তব্যের পর জেলা প্রশাসনের কিই-বা করার আছে, বা ছিল তা আমার সঠিক জানা নেই।’
এ ব্যাপারে রমনা সার্কেলের তৎকালীন এসি ল্যান্ড খাদিজা তাহেরা ববির সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফ হারুনের কাছে রাজধানীর মাহমুদনগর মৌজার পরীবাগে পরিত্যক্ত জমির রেকর্ড সংশোধনে আবেদন করেন আইনজীবী খলিলুর রহমান। ওই আবেদনে তিনি নিজেকে মেট্রোপলিটন বিল্ডার্সের নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির নাম ব্যবহার করে খলিলুর রহমান মূলত জালিয়াতির আশ্রয় নেন। ওই আবেদনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রভাবশালী একজন কর্মকর্তা সুপারিশও করেন। সূত্র বলছে, এরপরই আবেদন সংশ্লিষ্ট নথি ভিআইপি মর্যাদায় আইন মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মতামত পায়।

খলিলুর রহমান আবেদনে উল্লেখ করেন, তিনি মেট্রোবিল্ডার্সের ম্যানেজিং পার্টনার কেএম জাকির হোসেনের পক্ষে নিযুক্ত অ্যাডভোকেট। এ পরিচয়ে তিনি কেএম জাকির হোসেনের পক্ষে রেকর্ড সংশোধন করতে চান। এতে বলা হয়, ‘সাবেক ৩নং পরীবাগ বর্তমানে ২২/১ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউস্থ ৫৬ দশমিক ৮০ শতক জমির মালিক বেগম ফরহাদ বানু। ‘করণিক ভুলবশত’ হাল সাং রাষ্ট্রপতির ১৬/৭২ মোতাবেক পরিত্যক্ত সম্পত্তি সরকার পক্ষে পূর্ত ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয় লিপিবদ্ধ হয়েছে। তাই এটি সংশোধনপূর্বক নামজারির প্রার্থনা করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ কেএম জাকির হোসেন। তিনি এখন মঠোফোনেও কথা বলতে পারেন না। এ কারণে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি মেয়ে ব্যবহার করেন।

খলিলুর রহমানের করা আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেনের মেয়ে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়নি। খলিলুর রহমান নামে কোনো আইনজীবীকে আমরা চিনি না।’ তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে অন্য একজন ফোন করে এ বিষয়ে আইনি সহায়তার প্রস্তাব দিতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জমি জালিয়াত চক্রের নানা কর্মকাণ্ডে কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পরীবাগের জমির রেকর্ড সংশোধনের বিষয়ে আমরা কোনো আইনজীবীকে নিয়োগ করিনি। এটা নিশ্চিত।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ কথা আব্বার বরাত দিয়েই বলতে পারেন।’

রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, খলিলুর রহমানের আবেদনের পরই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে রমনা সার্কেলের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। এরপর ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল রমনা সার্কেলের তৎকালীন এসি ল্যান্ড মো. আসাদুজ্জামান ডিসি ইউসুফ হারুনের কাছে প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনের একাংশে বলা হয়, ‘আবেদনকৃত জমিতে একটি দালান ও একটি টিনশেড ওয়ার্কশপসহ জায়গাটি মেসার্স মেট্রোবিল্ডার্সের দখলে আছে। ওই জমি ফরহাদ বানুর নামে রেকর্ড হলেও হাল সাং রাষ্ট্রপতির ১৬/৭২ আদেশ মোতাবেক পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত আছে।

পরিত্যক্ত সম্পত্তির বিষয়ে ১৯৮৬, ১৯৮৮ সালে দুই দফায় প্রকাশিত সম্পূরক গেজেটের ‘ক’ ও ‘খ’ তালিকার কোনোটিতেই এ দাগ নেই। তাছাড়া সেগুনবাগিচার পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড কর্তৃক ২০১১ সালের ৩ অক্টোবরের স্মারকপত্রে পরিত্যক্ত সম্পত্তির গেজেটে অর্ন্তভুক্ত নয়। অন্যদিকে রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ‘মেসার্স মেট্রোপলিটন বিল্ডার্স প্রা. লিমিটেডের পক্ষে কেএম জাকির হোসেন ১৯৯৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রিকৃত ৮৮৯নং দলিলের মাধ্যমে ফরহাদ বানুর কাছ থেকে প্রাপ্ত হন।’

এদিকে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, খলিলুর রহমানের আবেদনের ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ২৬ মে ঢাকার তৎকালীন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরেট আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে আবারও সুস্পষ্ট প্রতিবেদন চেয়ে এসি ল্যান্ডকে চিঠি দেন। এসি ল্যান্ড সাইদুজ্জামান দুই দিনের মাথায় ২৯ মে প্রতিবেদন সরবরাহ করেন। নতুন এ প্রতিবেদনেও বলা হয়, ‘আলোচ্য জমিটি হাল সাং রাষ্ট্রপতির ১৬/৭২নং আদেশে পরিত্যক্ত সম্পত্তি, সরকার পক্ষে পূর্ত ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ড হয়েছে।’ তবে সুস্পষ্ট এ প্রতিবেদনে ‘দালান ও টিনেশেড ওয়ার্কশপসহ মেসার্স মেট্রোবিল্ডার্সের দখলে আছে’ লাইনটি নেই। এমনকি মেট্রোপলিটন বিল্ডার্স যে দলিলের মাধ্যমে মালিকানা দাবি নিয়ে রেকর্ড সংশোধনের উদ্যোগ নেয়, সেটিও উল্লেখ করা হয়নি।

এরপর তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফ হারুন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে দাফতরিক চিঠি দেন। ২০১৩ সালের ১০ মার্চ পাঠানো ওই চিঠিতে ডিসি বলেন, ‘১৯৮৬ ও ’৮৮ সালের পরিত্যক্ত সম্পত্তির ‘ক’ ও ‘খ’ তালিকায় এ জমি নেই।’ তার পাঠানো পত্রেও জাল দলিলের তথ্য দেয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি পত্রে উল্লেখ করেন, ‘মেট্রোপলিটন বিল্ডার্সের পক্ষে চেয়ারম্যান কেএম জাকির হোসেন ১৯৯৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তারিখের রেজিস্ট্রিকৃত ৮৮৯নং দলিলে ফরহাদ বানুর কাছ থেকে কিনে নেন।’ আবার চিঠির শেষাংশে ডিসি বলেন, ‘নালিশি সম্পত্তি আরএস ও মহানগর জরিপে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।’

প্রতিবেদনে খাজনা পরিশোধের তথ্য তুলে ধরে ধরা হয়। জেলা প্রশাসকের চিঠি পাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২০ জুন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বর্ণিত দাগ ও খতিয়ান উল্লেখ করে আইনগত মতামতের জন্য নথিটি আইনকোষে পাঠানো নিশ্চিত করে নোটশিট অনুমোদন করেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন আইন কর্মকর্তা আবু রায়হান আলবেরুনি ২০১৩ সালের ২৫ জুলাই জেলা প্রশাসকের তথ্য-উপাত্ত সমর্থন করে নোটশিটে ওপরে উল্লিখিত মতামত দেন।

নোটশিটের এ ধারাবাহিকতায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান ও সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়া যেতে পারে। নথিতে নোটশিটের ৫ম পাতায় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত পায় ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। এতে বলা হয়, ‘আলোচ্য প্রস্তাব ও প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো আইন বা বিধিগত অস্পষ্টতা বা ব্যাখ্যার বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি কোনো মামলা-মোকদ্দমার কথাও ব্যক্ত করা হয়নি। রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর ১৪ অনুচ্ছেদের উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘প্রত্যাশিত মন্ত্রণালয়কে স্বাধীনভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিবেচ্য প্রস্তাবটি নিষ্পত্তি করার পরামর্শ প্রদান করা যেতে পারে।’

এ মতামত সংক্রান্ত নোটশিটে তৎকালীন আইনমন্ত্রী, সচিব, যুগ্ম সচিব (মতামত) ও সংশ্লিষ্ট শাখার উপসচিব স্বাক্ষর করেন। এরপরই গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে আলোচিত ওই নথিটি। পরে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. জালাল উদ্দিন ওই বছরের ৮ অক্টোবর জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে দাফতরিক পত্র দেন। এতে তিনি পরীবাগের ওই জমির দাগ খতিয়ান উল্লেখ করে বলেন, ‘৫৬ দশমিক ৮০ শতক জমি পরিত্যক্ত সম্পত্তির প্রকাশিত গেজেটভুক্ত নয়, সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের নামজারি ও জমাভাগের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনগত এখতিয়ার।’ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এ পত্র হাতে পেয়ে ১৩ সালের ৫ নভেম্বর জেলা প্রশাসক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে ঢাকার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরের কাছে পাঠান। ১৪ নভেম্বর তৎকালীন আরডিসি মো. শওকত আলী ৮০ পাতার এ নথি রমনা সার্কেলের সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠান। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের নামজারি ও জমাভাগের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনগত এখতিয়ার।’

২০ নভেম্বর এ পত্র গ্রহণ করে এসি ল্যান্ড নামজারি কেস রুজুর আদেশ দেন। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর সার্ভেয়ার মনিরুল ইসলাম, আবু জাফর ও ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার নামজারির পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করেন। ওই প্রস্তাবেও জাল দলিলের (৮৮৯/১৯৯৯) উদ্ধৃতি দেয়া হয়। যুগান্তরের তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, কেএম জাকির হোসেনকে জমির মালিক দেখাতে যে দলিলের কথা বলা হয়, সেটি সেগুনবাগিচা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির দলিল। জালিয়াত চক্রটি ওই দলিল জাল করেই মূল্যবান এ জমি আত্মসাতের চেষ্টা করে। এ ধারাবাহিকতায় ২১ দিনের ব্যবধানে ৪টি শুনানি করে তৎকালীন এসি ল্যান্ড খাদিজা তাহেরা ববি আইনজীবী খলিলুর রহমানের আবেদন অনুযায়ী নামজারির প্রস্তাব অনুমোদন করেন। পরে দুই দফায় মেট্রোপলিটন বিল্ডার্সের নামে এ জমির ৩৫ হাজার ৪৬৪ টাকা খাজনাও আদায় করা হয়। অথচ কেএম জাকির হোসেন বা পরিবার এ টাকা পরিশোধই করেনি।

এদিকে এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি ডিসির কাছে সরাসরি আবেদন করিনি। কেএম জাকির হোসেনকে আমি চিনতাম। কিন্তু তিনি মুজিবুর রহমান নামে একজন আইনজীবীকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়োগ করেন। তাই সেখানে যদি আমার নাম লেখা হয়ে থাকে তবে জালিয়াতি করা হয়েছে। যতটুকু মনে পড়ে, আবদুর রহমান ও বল্টু নামে দু’জন মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন। তারাই এ কাজ করতে পারেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা এতে সুপারিশ করেননি। যদি এমন কিছু থাকে তবে তা-ও জালিয়াতি করে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by