প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১২:২১:৩৭ প্রিন্ট
পাঠ্যবইয়ে ধর্ষণ রোধের পাঠ নিয়ে আপত্তি
এটা অশালীন মনে হয়েছে : রাশেদা কে চৌধুরী

এবার পাঠ্যবইয়ে ধর্ষণরোধের পাঠ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। অষ্টম শ্রেণীর গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়ে ওই পাঠটি আছে। এতে ধর্ষণরোধে ছাত্রীদের আত্মরক্ষামূলক নানা তালিম দিতে গিয়ে অন্যকে আকর্ষণ করে এমন পোশাক না পরা, বাড়িতে একা না থাকা, অপরিচিত কারও সঙ্গে বেড়াতে না যাওয়াসহ কয়েকটি কৌশল শেখানো হয়েছে। এসব বিষয় নিয়েই বিতর্ক ও আপত্তি উঠেছে।

ওই বইটি প্রকাশ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সপ্তম অধ্যায়ে যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ আছে। ৬৫ নম্বর পৃষ্ঠার ৩ নম্বর পাঠে বলা হয়েছে, যৌন নিপীড়ন সমবয়সীরা ছাড়াও যেকোনো নিকটাত্মীয়, পরিচিত ব্যক্তি, বয়স্ক যেকোনো সদস্যের মাধ্যমে হতে পারে। এসব প্রতিকূল অবস্থা থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সাবধানতার ব্যাপারে বলা হয়, বাড়িতে কখনোই একা না থাকা, পরিচিত-অপরিচিত কারও সঙ্গে একা বেড়াতে না যাওয়া, পাড়ার বখাটে দলের হয়রানিতে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কৌশলে উপেক্ষা করা। যেমন জুতা খুলে দেখানো, চড় দেখানো, গালাগাল ইত্যাদি না করে বুদ্ধির সঙ্গে পরিস্থিতি সামলাতে হবে। গার্হস্থ্যবিজ্ঞানের শিক্ষকদের মতে, এ পাঠে পরোক্ষভাবে নারীদের দায়ী করা হয়েছে। পোশাক সংক্রান্ত নির্দেশনা অযৌক্তিক। একজন মানুষ ঘরে নিরাপদ না থাকলে কোথায় থাকবে?

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার কাছে এ পাঠের বিষয়টি অশালীন মনে হয়েছে। দোষটা যেন নারীরই। এটা খুবই বিরক্তিকর। ভাবটা এমন- রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। তুমি তোমাকে রক্ষা কর। পারিবারিক-সামাজিক মূল্যবোধ ঠিক রাখলে এ ধরনের পাঠ লাগে না।’ জানা গেছে, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানের এ বইটির প্রথম মুদ্রণ হয় ২০১২ সালে। পরে পুনর্মুদ্রণ করা হয় গত বছরের জুনে। বইটি রচনা করেছেন ৬ জন নারী লেখক। সম্পাদনা করেছেন দু’জন নারী। তবে আগামী বছরও এ বই ছাত্রীদের পড়তে হবে। কেননা বইটি জানুয়ারিতে বিতরণের জন্য ছেপে ইতিমধ্যে বিতরণ শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বুধবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, আমরা বিশেষজ্ঞ লেখক দিয়ে বই লিখিয়ে থাকি। তারা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখেন। আমরা হস্তক্ষেপ করি না। এ বইটি ৬ জন নারী লেখক লিখেছেন ও সম্পাদনা করেছেন। তিনি বলেন, বই যে কোনো সময়ে সংশোধন করা যায়। যদি ওই পাঠের ব্যাপারে কোনো পরামর্শ থাকে তা গ্রহণ করা হবে।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত