প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৪:৪৮:৫৪ | অাপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৪:৫০:৫৮ প্রিন্ট
রোহিঙ্গা সংকটের ঘটনাক্রম

২৫ আগস্ট : আরাকানা রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির সদস্যরা ৩০টির মতো পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায়। এতে ১২ পুলিশ সদস্য নিহত হয় বলে দাবি করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর শুরু হয় ক্লিয়ারেন্স অপারেশন্স নামে সেনা অভিযান। বিদ্রোহী দমনের নামে অভিযানের কথা বলা হলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আসলে শুরু হয় গণহত্যা।

২৬ আগস্ট : বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গা স্রোত শুরু হয়। এগারো দিনে বাংলাদেশে চলে আসে অন্তত সোয়া লাখ রোহিঙ্গা।

৬ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমার সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাখাইন সংকটে অং সান সুচি সরকারকে সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দেন। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনা শুরু হয়। সুচি প্রথম মুখ খোলেন। দাবি করেন যে, রাখাইন নিয়ে ‘ভুল তথ্যের বিশাল হিমশৈল’ প্রচার করা হচ্ছে। সুচির নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নিতে এক আবেদনে স্বাক্ষর করেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই, ডেসমন্ড টুটু প্রমুখ।

৭ সেপ্টেম্বর : তুর্কি ফার্স্টলেডি এমিনি এরদোগানের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন।

৮ সেপ্টেম্বর : রাখাইনে সহস্রাধিক নিহত হয়েছে বলে জানান জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক দূত ইয়াংঘি লি।

৯ সেপ্টেম্বর : ৬৩০ কোটি টাকা সাহায্যের আবেদন জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার। পরে অবশ্য ছয় মাসের জন্য ১৬৪০ কোটি টাকা সাহায্য চাওয়া হয়। মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের।

১০ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের জানান যে, রাখাইনে গণহত্যা চলছে, নিহত হয়েছেন ৩০০০। হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান ওআইসির।

১১ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জায়েদ রা’আদ আল হুসেন বলেন, রাখাইনে যে সহিসংতা চলছে তার ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যবইয়ের দৃষ্টান্ত।’

১২ সেপ্টেম্বর : রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে চোখের জল সংবরণ করতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাখাইনে সহিংসতায় হোয়াইট হাউসের উদ্বেগ প্রকাশ। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য নতুন কমিটির ঘোষণা মিয়ানমারের। তবে অনেকেই একে প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন।

১৩ সেপ্টেম্বর : রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মত বিবৃতি। ৯ বছর পর রোহিঙ্গা ইস্যুতে একমত হল বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো।

১৫ সেপ্টেম্বর : রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ বন্ধের আহ্বান ইউরোপীয় পার্লামেন্টের, মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি। নিধনযজ্ঞ বন্ধের আহ্বান মার্কিন পররাস্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের। অ্যামনেস্টির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পোড়ামাটি কৌশলে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে মিয়ানমার সরকার।

১৬ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে ওআইসির কাছে ৬১টি রোহিঙ্গা সংগঠনের বিবৃতি। বালাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ৪ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানায় জাতিসংঘ।

১৭ সেপ্টেম্বর : জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, সংকট নিরসনে অং সান সুচির শেষ সুযোগ জাতির উদ্দেশে ভাষণ।

১৯ সেপ্টেম্বর : জাতির উদ্দেশে সুচির ভাষণ। ভাষণে ৫ সেপ্টেম্বরের পরে রাখাইনে কোনো সেনা অভিযান চলেনি বলে মিথ্যা দাবি। সেনাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। রাখাইন এখন শান্ত এবং বেশিরভাগ রোহিঙ্গা এখনও রাখাইনে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য। জাতিসংঘের ভাষণে সুচির নিন্দায় বিশ্ব নেতারা। জাতিসংঘ সম্মেলনের ফাঁকে ওআইসি কন্ট্রাক্ট গ্রুপের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ অঞ্চল তৈরিসহ ৬ প্রস্তাব পেশ করেন। রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধের আহ্বান গুতেরেসের।

২০ সেপ্টেম্বর : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, স্যাটেলাইটের ছবিতে প্রমাণ মিলেছে যে, সেনা অভিযানে মিয়ানমারের ৪৭১টি রোহিঙ্গা গ্রামের ২১৪টি ধ্বংস হয়ে গেছে।

২১ সেপ্টেম্বর : রাখাইনে গণহত্যা চলছে বলে মন্তব্য করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো।

২২ সেপ্টেম্বর : জাতিসংঘে ভাষণে রাখাইনে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। মালয়েশিয়ার গণআদালতের বিচারে সুচি ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধান দোষী সাব্যস্ত।

২৩ সেপ্টেম্বর : রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আগামী সপ্তাহে আলোচনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ সাত দেশের চিঠি।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by