মাসুদ করিম    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০৫:৩৪:০৩ প্রিন্ট
রোহিঙ্গা সংকট
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে চীন ও রাশিয়া যাচ্ছেন শাহরিয়ার আলম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমকে বিশেষ দূত হিসেবে চীন ও রাশিয়ায় পাঠাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ও চিফ অব প্রটোকল শহিদুল করিমকে গণভবনে ডেকেছিলেন। সেখানেই তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান। সেখানে তারা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী এ সংকট মোকাবেলায় কিছু দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ দূত হিসেবে বেইজিং ও মস্কো সফরে গিয়ে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এই দুই দেশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করার নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রথমে রাশিয়া সফরে যাবেন। আগামী ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর তার রাশিয়া সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন সেন্ট পিটার্সবার্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারিয়ান ইউনিয়ন (আইপিইউ) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে যোগ দিতে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে রাশিয়া সফরে রয়েছে। তাদের সেখানে রুশ নেতাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। তারপর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম রাশিয়া যাচ্ছেন। তিনি সেখানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সফরকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লেখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিঠি নিয়ে যাবেন। এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের চীন সফরের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং উইয়ের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি নির্ধারণের পর চীন সফরের সময়সূচি জানা যাবে। সেখানে প্রতিমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিঠি নিয়ে যেতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রোহিঙ্গা সংকটে অনেকটাই মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে চীন ও রাশিয়া। মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এ দুটি স্থায়ী সদস্য দেশের কৌশলগত এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকায় তাদের এমন অবস্থান বলে জানা গেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে চীন ও রাশিয়া ভেটো দিতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীন ও রাশিয়াকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সহায়তা চাওয়া হবে; মিয়ানমারকে কোনো প্রকার শাস্তি দেয়ার জন্য নয়। বাংলাদেশ মনে করে, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েই যেহেতু চীন ও রাশিয়ার বন্ধু সে কারণে তারা রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারকে রাজি করাতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশের প্রত্যাশা থাকবে, চীন ও রাশিয়া যেন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সহায়তা করে। কারণ চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বিরোধী হলেও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিপক্ষে নয়। বরং নিরাপত্তা পরিষদের এই দুই স্থায়ী সদস্য কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কফি আনান কমিশনের রিপোর্টে মিয়ানমারকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ সব অধিকার দেয়ার সুপারিশ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নানামুখী উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। বিশেষ করে অং সান সু চির দফতরের মন্ত্রী খিয়ো টিন্ট সোয়ের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরকালে যেসব আলোচনা হয়েছে; সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নানামুখী কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তার বিশেষ দূত হিসেবে চীন ও রাশিয়া সফরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by