•       রংপুর সিটি নির্বাচন: প্রার্থীদের হলফনামায় বিভ্রান্তিমূলক তথ্য আছে: সুজন; ইসিকে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ       প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নাটোর সদরের ১২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণির আজকের গণিত পরীক্ষা স্থগিত       রাজধানীর শুক্রাবাদে নির্মাণাধীন ভবন থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের মরদেহ উদ্ধার
প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০৮:৪৪:১০ প্রিন্ট
দেখ বিশ্ব, রোহিঙ্গাদের ওপর পৈশাচিক বর্বরতা

মিয়ানমারের রাখাইনে বর্বর নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এদের অনেকে ভয়াবহ নির্যাতন সয়েছেন। রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন ও গণহত্যা চলছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো মন্তব্য করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার গুরুতর আহত অনেকের ছবি প্রকাশ করেছে ।

রকেট হামলায় ক্ষতবিক্ষত হিরন আর আক্তার

মোহাম্মদ হিরন ও মোহাম্মদ আক্তার নামের দুই ভাইয়ের শরীর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হিরনের বয়স ছয় বছর আর আক্তারের চার বছর। তাদের দুজনের হাতই পুড়ে গেছে। তাদের চাচা মোহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, মিয়ানমার সেনাদের রকেট হামলায় ওদের আরও দুুই ভাইবোন মারা গেছে। তাদের একজনের বয়স ছিল সাত বছর আর আরেকজনের ১০ মাস। তারা এখন বাস করছেন কক্সবাজারের কুতুপালং আশ্রয় কেন্দ্রে। তিনদিন হেঁটে তারা বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

আনোয়ারার শরীরে লেলিহান শিখা

আনোয়ারা বেগম জানান, একদিন তার ঘুম ভেঙে যায় আগুনের লেলিহান শিখার তাপে। তার বাড়ি মংডুর শহরতলিতে। তিনি জেগে দেখেন তাদের ঘরের ছাদ জ্বলছে। তিনি তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার মাথায় ভেঙে পড়ে ছাদ। নাইলনের পোশাক তার হাতে গলে পড়ে। বাংলাদেশে তাকে নিয়ে আসেন তার স্বামী। এতে সময় লাগে আটদিন। আনোয়ারা বলেন, মনে হয়েছিল মারা যাব। কিন্তু সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করেছি।

বাঁশের স্ট্রেচারে বাংলাদেশে

এই নারীর নাম কালাবারো। বাড়ি মংডুতে। তার স্বামী, কন্যা ও এক ছেলেকে হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনারা। সেনাদের গুলি লাগে তার ডান পায়ে। কয়েক ঘণ্টা তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলেন। ওরা মনে করেছিল তিনি মারা গেছেন। পরে তার নাতি তাকে খুঁজে পায়। বাংলাদেশে আসতে তার সময় লেগেছে ১১ দিন। এক গ্রাম্য ডাক্তার তার পা কেটে ফেলে দেন। চারজন বাঁশের স্ট্রেচারে করে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
কালাবারো বলেন, ‘আমরা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আসার সময় পোড়া গ্রাম আর লাশ দেখেছি।’

নীরবে কেঁদে বুক ভাসায় সেতারা

সেতারা বেগমে বয়স ১২ বছর। তারা নয় ভাইবোন। একদিন মংডুতে তাদের বাড়িতে রকেট হামলা চালানো হয়। সেতারার মা আরাফা বলেন, এতে ঘরে আগুন লেগে গেলে আমি নয় সন্তানের মধ্যে আটজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে পেরেছিলাম। কিন্তু ভেতরে আটকা পড়ে সেতারা। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম সে আগুনের মধ্যে চিৎকার করছে। কিন্তু তাকে উদ্ধার করা যাচ্ছিল না। যখন তার কাছে পৌঁছানো গেল ততক্ষণে সে মারাত্মাকভাবে পুড়ে গেছে।
সেতারার বাবা তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এতে দুদিন সময় লেগে যায়। শুরুতে কোনো চিকিৎসাই পায়নি সেতারা। তার পা এখন ভালো হয়েছে কিন্তু আঙুলগুলো আর নেই। সেতারার মা জানায়, সে এখন বাকরুদ্ধ। কারও সঙ্গে কথা বলে না। নীরবে কেঁদে বুক ভাসায়।

পুরো শরীরটাই পুড়ে গেছে জোবায়েরের

মোহাম্মদ জোবায়েরের প্রায় পুরো শরীরটাই পুড়িয়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গ্রামে একটি বিস্ফোরণে তার এ পরিণতি। তিনি আশঙ্কা করছেন হয়তো অন্ধ হয়ে যাবেন। বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে বেহুঁশ ছিলেন তিনি। তার ভাই ও অন্যের সহায়তায় বাংলাদেশে আসেন তিনি। এতে সময় লাগে চার দিন। জোবায়ের বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আমি চোখে কিছু দেখতে পাইনি। ২৩ দিন ভর্তি ছিলাম কক্সবাজারের সরকারি হাসপাতালে।’ তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় তার কিছু আত্মীয় তাকে আর্থিক সহায়তা করেছিল। এখন চিকিৎসার মতো টাকা তার হাতে নেই।

চোখের সামনে তিন ছেলেকে হত্যা

মমতাজ বেগমের মুখমণ্ডলজুড়ে ভারি ব্যান্ডেজ। তিনি জানান, একদিন সেনারা এসে তাদের জিনিসপত্র দিয়ে দিতে বলে। আমি তাদের বললাম আমি গরিব মানুষ, দেয়ার মতো কিছু নেই। এ কথা শুনে একজন আমাকে পেটাতে শুরু করে আর বলে, তোর কাছে টাকা না থাকলে মেরে ফেলব।

মারধরের পর তারা তাকে ঘরের ভেতর বেঁধে রেখে চালায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এতে তার তিন ছেলে মারা যায়। তিনি বলেন, ওরা শুধু আমার সন্তানদেই হত্যা করেনি, হত্যা করেছে আমাদের ভবিষ্যৎকেও।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত