যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০৩:২০:০৬ প্রিন্ট
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
নারী চিকিৎসক লাঞ্ছনায় পাঁচ ইন্টার্নের শাস্তি
স্বাচিপের এক নেতার প্রভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে এক নারী চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনায় পঁাচ ইন্টার্নকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের ডিউটি রুমে ওই চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করা হয়।

এ ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি অভিযুক্তদের ইন্টার্নশিপ ট্রেনিং স্থগিতসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির সুপারিশ করে। তদন্ত কাজে স্বাচিপের এক নেতার প্রভাব খাটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ছয় কর্মদিবসের স্থলে দুই মাস লেগেছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক চাপ থাকায় তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

তবে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে সব চাপ উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করতে কেউ সাহস দেখাবে না।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে ১৫ নভেম্বর চিঠি দেন ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। এতে তিনি উল্লেখ করেন, কলেজের কতিপয় ছাত্রের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্ত কমিটি তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি চিকিৎসককে কাজে বাধা, নারী চিকিৎকের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ আচরণ এবং হাসপাতালের পরিবেশ কলুষিত করা, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও উসকানিমূলক অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন: ডা. মো. শাকিল হোসাইন শুভ (ইন্টার্ন, অবস অ্যান্ড গাইনি ইউনিট-৪), ডা. মো. মাহিদুল হক মাহিন (ইন্টার্ন, মেডিসিন ইউনিট-১), ডা. টিএমএস ইসলাম মিয়াজী (ইন্টার্ন, সার্জারি ইউনিট-৩), ডা. মো. নকিব আলী (ইন্টার্ন, মেডিসিন ইউনিট-৪) ও ডা. হাসান ইমাম (অনারারি চিকিৎসক)।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ডা. শাকিল শুভ ও ডা. মাহিদুল মাহিনের ইন্টার্নশিপ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রশিক্ষণ সন্তোষজনকভাবে শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ডা. ইসলাম মিয়াজীর ইন্টার্নশিপ এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, ডা. নকিব আলীর বেতন (ডিসেম্বর) কর্তন করা হয়েছে এবং ডা. হাসান ইমামকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে।

৭ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ৬ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু অভিযুক্ত চিকিৎসকরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তারা বিভিন্নভাবে তদন্ত কাজকে প্রভাবিত করার চষ্টো করে।

এমনকি অভিযুক্তদের যেন শাস্তি না হয় সে জন্য স্বাচিপের একজন প্রভাবশালী নেতা অপতৎপরতা চালান। এ ছাড়া অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে যেন বহিষ্কার করা না হয় সে জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশও দেন।

১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের এক নারী মেডিকেল অফিসারকে ডিউটি রুমের দরজা বন্ধ করে লাঞ্ছিত করে অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থীসহ ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের হস্তক্ষেপে লাঞ্ছিত মেডিকেল অফিসার মুক্তি পান। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ওই চিকিৎসক লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পরদিন ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত