এম নাঈম হোসেন    |    
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:১৮:৩৪ প্রিন্ট
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনরুদ্ধারের বিকল্প নেই
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হলেই অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। রাজধানীর খালগুলো ভরাট, ড্রেনেজ সিস্টেমের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ না করা এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের আর কোনো দেশ বা শহর নেই, যেখানে প্রতি বছর এরকম জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটে। এখনও যদি আমরা এই ব্যাপারে সতর্ক না হই, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হবে। 
 
কোনো একটি বিশেষ কারণে ঢাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। আমাদের অদূরদর্শী কর্মকাণ্ড এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। ঢাকায় এখন অনেক ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলছে। এই নির্মাণকাজের জন্য দীর্ঘদিন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে কাজ করা হচ্ছে। এ কারণেও অনেক সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে যায়। আবার আমাদের শহরে ড্রেনেজ সিস্টেমের অবস্থাও খুবই খারাপ, একটু বৃষ্টি হলে পানি নেমে যাওয়ার তেমন একটা ব্যবস্থা নেই। এ কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় পানি জমে থাকে। আর ভারী বৃষ্টিতে রীতিমতো বন্যা হয়ে যায়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই পানি আটকে থাকে দীর্ঘসময়। 
 
এছাড়া প্রতিনিয়ত জলাশয়গুলো ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। এ বিষয়টি দেখার মনে হয় কেউ নেই। এক সময় ঢাকা শহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ছিল। যার মূলে ছিল শহরের অভ্যন্তরে বয়ে চলা শতাধিক খাল। যেগুলো নগরীর চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। প্রচলিত উন্নয়নের নামে অধিকাংশ খালের অস্তিত্ব এখন বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট খালগুলোও সংকটাপন্ন। যেসব খাল দিয়ে এক সময় স্টিমার চলত, এখন সে পথে নৌকাও চলে না। খালের পানি এখন আর নদীতে গড়ায় না। খালগুলো হারানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জলাবদ্ধতা। 
 
স্বাধীনতা-উত্তর ঢাকা শহরে খাল ছিল ২৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে প্রবহমান খাল আছে মাত্র ৭০ কিলোমিটার। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাজধানীর খালগুলো দখলমুক্ত করার কিছুদিনের মধ্যেই আবার তা দখল হয়ে যাচ্ছে। উচ্ছেদের পর মনিটরিং না থাকার কারণেই বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে দখলদাররা। এগুলো দেখারও কেউ নেই। শুধু যে সরকার বা রাজউক দায়ী, তা কিন্তু নয়। আমরা নগরবাসী প্লাস্টিক দ্রব্যাদি বা যে কোনো ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ফেলার কারণেও ড্রেনগুলো দিয়ে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সরকার যত ভালো ড্রেনেজ সিস্টেমই বানাক না কেন, আমরা যদি রাস্তায় ময়লা ফেলি, তাহলে সরকারকে দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই।
 
রাজধানীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে হলে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো মেয়র বা সিটি করপোরেশন একা তা করতে পারবে না। এখানে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ভূমিকা আছে, যা সবাইকে পালন করতে হবে। প্রথমেই অপরিকল্পিত নগরায়ন ব্যবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। রাজউক, সিটি করপোরেশন, মেয়র, কাউন্সিলরসহ সবাইকে একটি সিদ্ধান্তে এসে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। খাল ভরাট করে যেসব স্থাপনা হয়েছে, সেগুলো সরাতে হবে। আগামীতে যাতে আর কোনো খাল ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। খালগুলো দখলমুক্ত রাখতে ওয়াসার মনিটরিং টিম গঠন করা দরকার। 
 
এছাড়া রাজউককে আরও কঠোর হতে হবে স্থাপনার অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে। সড়কগুলোতে যে খোঁড়াখুঁড়ি হচ্ছে, সেগুলো ঠিক করার একটি নির্দিষ্ট সময় থাকতে হবে। পুরো শহরের রাস্তা একসঙ্গে না কেটে সিটি করপোরেশন যদি নির্দিষ্টি সময়ে শুধু বিশেষ এলাকার সড়কগুলো মেরামত করে, তাহলে সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। তবে সবার আগে অবশ্যই জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধার করা জরুরি। এর কোনো বিকল্প পথ নেই। এছাড়া ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজন নগরীর ড্রেনেজ সিস্টেমের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ। খাল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে না পারলে প্রবল বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতেই থাকবে। সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসাকে এ ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। 
 
নিয়মিত খাল পরিষ্কার, রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রেন পরিষ্কার, সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করলেই ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। জনসাধারণ যদি যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা বিশেষ করে প্লাস্টিক দ্রব্যাদি না ফেলে, তাহলে পানির প্রবাহ সচল থাকবে। আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে ঠিক থাকি, নিজেদের দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করি, তাহলে জলাবদ্ধতা নামক এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি মনে করি।
 
লেখক:
এম নাঈম হোসেন
প্রেসিডেন্ট, ঢাকা ইয়ুথ অ্যালায়েন্স।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত