ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার    |    
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর, ২০১৭ ০৩:০৯:১৭ প্রিন্ট
দেশপ্রেমের চশমা
প্রশংসার আড়ালে যেন ঢাকা না পড়ে আসল কাজ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপ করেছে। এ সংলাপ শুরু হয় জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে।
 
পরবর্তী সময়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ করার পর সবশেষে ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে। সংলাপের শুরুটাই হয় ভুল নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে। কারণ, সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে সংলাপে আলোচনায় ডাকা হয় কেবল ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসকারীদের। অন্য বিভাগে বসবাসকারী সুশীল সমাজ সদস্যদের অবজ্ঞা করা হয়।
 
জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সারা দেশে, আর সে নির্বাচনের ওপর আলোচনা ও পরামর্শদানের এখতিয়ার থাকবে কেবল রাজধানী শহরে বসবাসকারীদের, তা কেমন করে হয়? এ বিষয়টিতে ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরও তারা এ ভুল শোধরায়নি।
 
পরবর্তীকালে নিবন্ধিত ছোট-বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসি সংলাপ করেছে। এ সংলাপ অনুষ্ঠান প্রক্রিয়ায় ইসি নিজ গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রশংসা করার যে নীতি গ্রহণ করছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসির মনে রাখা উচিত, সাংবিধানিক পদের মর্যাদা সমুন্নত রেখে গণতান্ত্রিক পন্থায় ন্যায়সঙ্গতভাবে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ করলে এমনিতেই ইসির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
 
নিজ গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য রেফারি হয়ে খেলায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রশংসা করার দরকার হয় না। সিইসির একজন নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনাকারী রেফারির ভূমিকা পালন করলেই হয়, তার সফল রাজনীতিক বা অভিজ্ঞ কূটনীতিকের ভূমিকা পালনের কোনো প্রয়োজন নেই।
 
কোনো দলের প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার কাজটি করতে পারলেই নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
 
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক অতীতের নির্বাচন কমিশনগুলোর কর্মকাণ্ডে এমন পেশাদারিত্বের ঘাটতি থাকায় জনমনে নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। কোনো বিশেষ পরিকল্পনার পরিবর্তে নিজ দায়িত্ব ও করণীয় সঠিকভাবে পালন করার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
 
কমিশন যদি মাছি মারা কেরানীর মতো পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশনগুলোর কাজকর্ম অনুসরণ না করে বিবেকের তাড়নায় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের কাজটি করতে পারে, তাহলে জনগণের আস্থা ও প্রশংসা পেতে ইসিকে আর সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।
 
নির্বাচনের অনেক আগেই মাত্র দুটি কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি তার ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সাহসের সঙ্গে এ কাজ দুটি করলে সিইসি হয়তো তার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং অতীত কর্মজীবনের বিতর্কিত জনতার মঞ্চে ভূমিকা পালনসহ অন্য নেতিবাচক ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।
 
মনে রাখা দরকার, বর্তমান সময়ের কিছু ভালো কাজ করার মধ্য দিয়ে অর্জিত সুনাম অতীতের অনেক নেতিবাচক কাজের ফলে সৃষ্ট বদনাম ঢেকে দিতে পারে। সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিইসির সামনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির লক্ষ্যে ভালো কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সিইসি মহোদয়ের উচিত এ সুযোগ কাজে লাগানো।
 
এখানে এ বিষয়ে ইসিকে আপাতত মাত্র দুটি কাজ করার পরামর্শ দিতে চাই। এ দুটি কাজ করে ইসি সহজেই নিজের নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে পারে। এর মধ্যে প্রথম পরামর্শটি হল, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। নির্বাচনী পরিভাষায় ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা।
 
এ পরামর্শটি দেয়ার আগে বলে রাখা ভালো, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার বিষয়ে বিভিন্ন রকম পরামর্শ পেয়েছে। বড় দলগুলো থেকে প্রদত্ত পরামর্শে সমরূপতা নেই।
 
পরামর্শগুলোর মধ্যে যেমন ভিন্নতা রয়েছে, তেমনি কিছু অভিন্ন পরামর্শও রয়েছে। যেমন, বিএনপি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট করার বিরোধী। দলটি ইসিকে ইভিএম বা ডিভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রদত্ত ১১ দফা সুপারিশের নবম দফায় ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
 
আবার বিএনপি নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কাজে সেনাবাহিনী ব্যবহারের পক্ষে মত দিলেও আওয়ামী লীগ পুলিশ বাহিনী দিয়ে নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এসব বিষয়ে মতবিরোধ তীব্র হওয়ার আগেই নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়গুলোর ওপর তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে হবে।
 
এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের গৃহীত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করলেই অনুধাবন করা যাবে কমিশন কতটা স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে।
 
নির্বাচন কমিশনকে ভালো নির্বাচন করতে সবার আগে যে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না করে যে ভালো নির্বাচন করা যায় না, সে বিষয়টি স্বীকার করতে হবে।
 
কমিশনকে একটি বিষয় প্রথমেই পরিষ্কার করে বলতে হবে, যা হল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেবল নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণা করার পর নির্বাচনী প্রচারণাকালীন দুই-তিন সপ্তাহের জন্য তৈরি করতে হবে, নাকি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে সব সময়ের জন্য এমন পরিস্থিতি তৈরি করা দরকার। নির্বাচনের মাঠকে পাঁচ বছর ধরে অসমান রেখে ঠিক নির্বাচনের পূর্বে দুই-তিন সপ্তাহের জন্য ওই মাঠ সমান করতে চাইলে যে সে প্রচেষ্টা সফল হবে না সে বিষয়টি স্বীকার করা উচিত।
 
কমিশনকে এখনই এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে সচেষ্ট হতে হবে। একটি দলের নেতাকর্মীরা যদি সরকারি টাকা ও প্রটোকল ব্যবহার করে বড় বড় জনসমাবেশ করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে ভোট চান এবং অন্য একটি দল যদি নিজের টাকায়ও জনসমাবেশ করতে না পারে, তাহলে তো সেটা দুই দলের জন্য সমান সুযোগ হল না। কমিশন এ ক্ষেত্রে সমতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এখনই পদক্ষেপ নিলে নিজ ভাবমূর্তির উন্নতি হতে পারবে।
 
সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আরেকটি কাজ করতে পারলেও কমিশন লাভবান হবে। কাজটি হল, গড়িমসি না করে এখনই সরাসরি বিবৃতি দিয়ে বলে দেয়া যে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম মেশিন ব্যবহার করা হবে না। আওয়ামী লীগের ইভিএমে নির্বাচন করার প্রস্তাবটি দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচন দেখতে আগ্রহী সুধী সমাজের সমর্থন পাবে বলে মনে হয় না।
 
কারণ, ইভিএম হল অত্যন্ত সংবেদনশীল উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর একটি যন্ত্র। এ যন্ত্র ব্যবহার করে এ দেশের বেশিরভাগ প্রযুক্তি অসচেতন ভোটার ভোটদানে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। গ্রামীণ ভোটাররা যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট দিয়ে মানসিক শান্তি পান না। তাদের অনেকে ভোট দিয়ে সেই ভোট সুনির্দিষ্ট মার্কায় পড়ল কিনা তা বোঝার উপায় না থাকায় মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকেন। তার চেয়ে বড় কথা হল, বাংলাদেশি ইভিএমকে কমিশন এখনও হ্যাকপ্রুফ প্রমাণ করতে পারেনি।
 
বুয়েটে তৈরি করা ইভিএম অন্য কোনো দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরীক্ষাও করানো হয়নি। স্মর্তব্য, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে টিটি কলেজ কেন্দ্রে একটি ইভিএম থেকে ৩১০টি ভোট মুছে গেলে ওই কেন্দ্রে ওই সময়ের কমিশনকে আবারও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করতে হয়েছিল। তখন কমিশন থেকে বলা হয়েছিল, কী কারণে ইভিএম থেকে ৩১০টি ভোট মুছে গেল তা উদ্ঘাটন না করে আগামীতে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না।
 
সে ওয়াদা অনুযায়ী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়নি। কমিশন আজও দেশবাসীকে জানায়নি তারা রাসিক নির্বাচনে ইভিএম থেকে ভোট মুছে যাওয়ার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছে কিনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার থেকে নিজেদের সরিয়ে আনছে, তখন বাংলাদেশের মতো অল্পশিক্ষিত ও প্রযুক্তি অসচেতন ভোটারের দেশে কিছু রাজনৈতিক দলের ইভিএমে নির্বাচন করার আগ্রহের পেছনে কোনো অঘোষিত পরিকল্পনা আছে কিনা সে বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখার মতো।
 
ইভিএমে নির্বাচন করার মতো সময় কমিশনের হাতে নেই। কারণ, সংসদ নির্বাচন ইভিএমে করতে হলে প্রায় আড়াই লাখ ইভিএম মেশিন প্রয়োজন, যা এত স্বল্প সময়ে তৈরি ও পরীক্ষা করানো কঠিন কাজ।
 
কমিশনের যদি কোনো সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে উচিত হবে ওই নির্বাচনের ৩-৪ বছর আগে থেকে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে ইভিএম তৈরি করানো এবং ওই তৈরিকৃত মেশিন অন্য কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করিয়ে সেটা হ্যাক করা সম্ভব কিনা তা যাচাই করানো। দেশের রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞরাও এ মেশিন দেখতে এবং পরীক্ষা করতে চাইলে সে সুযোগ দেয়া উচিত।
 
তারপর ওই মেশিনকে ছোট ছোট নির্বাচনে অনেকবার পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করিয়ে এর ভুলত্রুটি আছে কিনা তা পরীক্ষা করা। এখন এ দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে গেলে কমিশনের অবস্থা লেজেগোবরে হয়ে যাবে। তবে কমিশন চাইলে ধীরেসুস্থে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে লক্ষ্যে নিয়ে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কাজ শুরু করার কথা ভাবতে পারে।
 
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে কমিশন সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিল (যুগান্তর, ১০.০৭.১৭)। এখন যদি ইসি একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আগ্রহ দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে এর পেছনে অন্য কোনো দুরভিসন্ধি আছে।
 
মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিকে গণতান্ত্রিক বিশ্ব গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে। এ নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান করা না যায় তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়বে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নস্যাৎ হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে সামাজিক শান্তি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। আর গণতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা না থাকলে সমাজে জঙ্গি তৎপরতাসহ বিভিন্ন রকম অস্বাভাবিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে।
 
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত