• বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭
প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৯:৫৬:০৯ | অাপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:২৫:২২ প্রিন্ট
দুর্গাপূজায় সিঁদুর খেলা

যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা,

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমো”

যার অর্থ দেবী সর্বপ্রাণীতে শক্তিরূপে অধিষ্ঠিতা, তাহাকে নমস্কার। তাহাকে নমস্কার। তাহাকে নমস্কার, নমস্কার, নমস্কার। বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। মায়ের আবির্ভাব সব দুঃখ-কষ্ট মুছিয়ে নতুনভাবে শুরু করবে তাদের পথ চলা এই কাম্য। প্রকৃতিও তখন সাজে নানা সাজে। ঠিক যেমন এখন কাশফুলে ছেয়ে গেছে চারিদিক। আকাশে কখনও এই মেঘ আবার এই রোদ।

প্রকৃতির এই নতুন সাজের সঙ্গে বেজে উঠে ঢাকের তাক ধুম ধুম শব্দ। মুখোরোচক খাবার থেকে শুরু করে পরনে লাল শাড়ি সাদা পাড়ে জানান দেয় মা দুর্গার আগমন ঘটে গিয়েছে পৃথিবীর বুকে। মহালয়া থেকে শুরু হয় এই উৎসব। এর পর ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এবং সব শেষে দেবীকে বিদায় জানানোর পালা দশমী। দেবীকে আগমন জানানো শুরু হয় মূলত মহালয়া থেকে।

দেবী দুর্গার বাহন মূলত সিংহ। তবে পিতার গৃহে আগমন এবং তা ত্যাগ করে কৈলাসে স্বামীগৃহে যেতে উমা একেক বার একেক বাহনে অবতরণ এবং গমন করেন। পঞ্জিকামতে এবার মায়ের আগমন ঘোড়ার পিঠে চড়ে আর দেবী দুর্গা বিদায় নেবে নৌকায় করে। মায়ের এই চারদিনের আগমনকে ভক্তকুল স্বাগত জানায় নানাভাবে। তবে বিদায়ের সুর বেজে উঠে দশমী থেকেই।

মা যেন এই পৃথিবীতে বার বার ফিরে আসে এটিই থাকে তার সন্তানদের কামনা। দশমীর দিনে কেবল মাকে বিদায় জানানোই হয় না এর সঙ্গে থাকে নানা আয়োজন আর একেক দিনকে ঘিরে একেক উৎসবের আমেজের অনুভুতি। যেমটি আছে দশমীতে। সিঁদুর দান কিংবা সিঁদুর খেলা এই দিনের অন্যতম আকর্ষণ। সকালের পূজার পর থেকে শুরু করে দেবীকে বিদায়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলে এই সিঁদুর দান।

মূলত এটিকে বলা হয় সোহাগের কিংবা বিবাহিত নারীদের সৌভাগ্য কামনাস্বরূপ হিসেবে। এটি মূলত খেলেন বিবাহিত নারীরা। তারা একে অন্যকে লাল রঙের সিঁদুরে রাঙিয়ে দেন। মাথার এক প্রান্ত থেকে শুরু করে পুরো সিঁথি জুড়ে থাকে এই সিঁদুর। এই লাল রংকে ধরা হয় শক্তির প্রতিরূপ হিসেবে। বিবাহিত নারীরা ব্যতীত এটি অবিবাহিত মেয়েরাও খেলে থাকেন।

সেই ক্ষেত্রে কপালে বড় করে সিঁদুরের টিপ পরিয়ে দেন বিবাহিত নারীরা। আর নানা রং একে অন্যকে মাখিয়ে আনন্দ প্রকাশ করা হয়। অবিবাহিত নারীদের বিবাহিত নারীরা এ জন্যই পরিয়ে দেন যাতে তারা তাদের ভবিষ্যৎ স্বামীর দীর্ঘ আয়ু এবং সাফল্য কামনা করতে পারেন। আর বিবাহিতরা একে অন্যকে সৌভাগ্যবতী আশীর্বাদ করতে পরিয়ে থাকেন। এই দিনে সব নারী সাদা শাড়ি লালা পাড় পরে থাকেন।

চারিদিকে বাজানো হয় ঢোল আর শুনা যায় উলু ধ্বনি। হাতে লালা চুড়ি আর একে অন্যকে মিষ্টি খাইয়ে যেন মায়ের এই বিদায়ের সুরকে আবার আগামী বছরের আগমনী সুরের আনন্দে রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তাই একে বিজয়া দশমীও বলা হয়। সন্তানদের কাঁদিয়ে মা বিদায় নেয় কৈলাশের দিকে। আর রয়ে যায় এই কয়দিনের মাকে ঘিরে থাকা নানা স্মৃতি আর ফিরতি বছরে মাকে আবার কাছে পাওয়ার প্রতিক্ষা।
 

 

 
[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- [email protected] এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত