অনলাইন ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:৩৪:৩০ প্রিন্ট
বিশ্বে ১২ কোটি ৪০ লাখ শিশু অতিরিক্ত মোটা

বিশ্বজুড়ে ১২ কোটি ৪০ লাখ শিশু-কিশোর এখন অতিরিক্ত মোটা। তাদের শারীরিক স্থূলতা বা ওবেসিটির হার গত চার দশকে বেড়েছে ১০ গুণ।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যানচেট দুই শতাধিক দেশের ওবেসিটির প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে।

বুধবার ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ডে বা বিশ্ব শারীরিক স্থূলতা দিবসে এসে এই গবেষণা ফলটি প্রকাশ করল ল্যানচেট। খবর বিবিসির।

যে হারে বিশ্বে ওবেসিটি বাড়ছে, তাতে ২০২৫ সাল নাগাদ ওবেসিটিজনিত অসুস্থতার চিকিৎসা ব্যয় বিশ্বজুড়ে ৯২০ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে সতর্ক করে দিচ্ছে ল্যানচেট।

মুখ্য গবেষক ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক মজিদ এজ্জাতি বলছেন, যদিও যুক্তরাজ্যসহ উচ্চ আয়ের ইউরোপীয় দেশগুলোতে শিশুদের ওবেসিটির হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে, কিন্তু বিশ্বের বহু জায়গাতেই সেটি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

এদিকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফিরোজ আমিন বলেছেন, অনেকের মধ্যে ওবেসিটির হার দিনকে দিন বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে খেলাধুলার সুযোগের অভাব এবং জাংক ফুডের কথা উল্লেখ করছেন ড. আমিন।

তিনি বলেন, ক্লাস ফোর থেকে কোচিং, পড়াশোনা- তাদের আসলে খেলার কোনো সুযোগ নেই। এর  পরও যতটুকু সময় তা পড়াশোনা, পরীক্ষা, কোচিং দিয়ে ব্যস্ত রাখছি আমরা। খেলাধুলার কোনো সুযোগই তাদের আমরা দিচ্ছি না।

যেহেতু আমাদের দেশে ওয়ার্কিং মাদার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হোমমেড খাবারগুলো মায়েরা আগের মতো বাচ্চাদের ঠিকমতো দিচ্ছে না। তারা পছন্দ করে ফাস্ট ফুড খাবার দিচ্ছে। যেগুলো হাই ক্যালরি খাবার।

সারাক্ষণ কম্পিউটার, ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত আছে। সে কারণে ওজন বাড়ছে এবং ওজনজনিত সমস্যা বাড়ছে। যেমন ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা।

আগে কুড়ি বছরের কম বয়সী ডায়াবেটিস রোগী তেমন একটা দেখা যেত না।

কিন্তু আজকাল এ বয়সী ডায়াবেটিস রোগী একটি বড় সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে বলে জানান ড. ফিরোজ আমিন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিডিডিআর ২০১৪ সালে ওবেসিটিবিষয়ক একটি জরিপ করেছিল।

১০ হাজার স্কুলগামী শিশু-কিশোরের ওপর চালানো এ জরিপের ফল:

দেশটির শহরাঞ্চলে ওবেসিটির হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আবার যদি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের কথা বলা হয়, তা হলে এই হার ১০ শতাংশের বেশি। যদিও দেশটিতে এখনো অপুষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এখানে অপুষ্টির হার ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

ওবেসিটি: ওবেসিটি সবচেয়ে বেড়ে গেছে পূর্ব এশিয়ায়। চীন ও ভারতে সম্প্রতি এ হার বেড়েছে।

পলিনেশিয়া ও মাইক্রোনেশিয়ায় রয়েছে সর্বোচ্চ ওবেসিটির হার। এসব দেশের প্রায় অর্ধেক তরুণ জনগোষ্ঠীই হয় স্থূল নয়তো অতিরিক্ত ওজন তাদের।

২০০০ সাল থেকেই বিশ্বজুড়ে অপুষ্ট অর্থাৎ স্বল্প ওজনের ছেলেমেয়ের সংখ্যা কমছে। ২০১৬ সালে অপুষ্ট মানুষের সংখ্যা ছিল ১৯ কোটি ২০ লাখ। সংখ্যাটি অবশ্যই স্থূল শিশু-কিশোরদের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু সেদিন হয়তো আর দূরে নয়, যেদিন, স্থূলদের সংখ্যাই বেড়ে যাবে।

পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলো কয়েক দশকের মধ্যেই ওবেসিটিকে অপুষ্টির জায়গা নিতে দেখেছে।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত