সাইফ বিন আইয়ুব    |    
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০৮:৫০:১২ প্রিন্ট
বাবাকে বন্ধু হতে হবে
‘মা’ শব্দটাকে নিয়ে আমাদের বাংলা সাহিত্যে যত লেখা হয়েছে ‘বাবা’ শব্দটাকে নিয়ে তার কীয়দাংশও হয়নি। বাবা চিরকালই দূরের কোনো এক নক্ষত্র হয়ে জ্বলজ্বল করছেন আমাদের সবার জীবনে। অসম্ভব পরিশ্রমী, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন এবং ভেতরে ভেতরে আদুরে ভাব নিয়ে যে মানুষটার ছবি সবার চোখে ভেসে ওঠে, তিনিই সম্ভবত বাবা। 
 
সন্তানদের কাছে বাবারা সবসময়ই দূরের কেউ একজন। যার সামনে সহজ হওয়া যায় না। যার সঙ্গে মন খুলে কথা বলা যায় না। কোনো আবদার নিয়ে কাছে যাওয়া তো অনেক পরের ব্যাপার। এই আধুনিক যুগেও ছেলেমেয়েদের ‘অন্যায়’ আবদারের প্রথম টার্গেট মা। সেই মাও কী খুব সহজে বাবার কাছে যেতে চান! 
 
সন্তানের অনেক অনুনয়-কান্নাকাটির পর মায়ের মুখ হয়ে ওই আবদার বাবার কান পর্যন্ত পৌঁছে। আর যখন পৌঁছে তখন আসন্ন ভূমিকম্পের আশঙ্কায় পুরো বাড়ি হয়ে পড়ে তটস্থ। বাবা এবং সন্তানের মাঝে এই যে সর্বনাশা দূরত্ব, এটাই একসময় পরিবারের কাল হয়ে দাঁড়ায়।
 
কেউ কেউ বলেন, মেয়েরা বাবার ‘ন্যাওটা’ হয়। বাবাও নাকি হয় মেয়ে অন্তঃপ্রাণ। আবার এর উল্টো কথাও প্রচলিত আছে। ছেলেরা জিনগতভাবেই বাবার স্বভাবজাত হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও আমাদের সমাজে বাবা চিরকালই ছেলেমেয়েদের নাগালের বাইরেই থেকে যান। বাবা কখনোই একজন ‘বন্ধু’ হয়ে ওঠেন না।
 
প্রবোধকুমার সান্যাল বলেছেন, ‘জন্মদাতা হওয়া যতটা সহজ বাবা হওয়া ঠিক ততটাই কঠিন।’ জন্মদানের পর ছেলেমেয়েকে মানুষ করার জন্যই হোক আর তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্যই হোক দিনরাত অর্থের পেছনে ছুটলে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক কোনোকালেই স্বাভাবিক হয় না। অথচ সেটা হওয়াই জরুরি ছিল। 
 
বাবা-সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিসেস মেহজাবীন হককে। তিনি বলেন, ‘ছোট বাচ্চারা অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়। এক্ষেত্রে বাবা পাশে থাকলে সন্তানের আচরণ ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আসাই স্বাভাবিক। তাই বাবাকে অবশ্যই বন্ধুর মতো হতে হবে। 
 
সন্তানের জীবনযাপনে পাশে থেকে বন্ধুর মতো বুদ্ধি-পরামর্শ দিতে হবে। এখনকার বাবারা অনেক বেশি কর্মব্যস্ত সময় কাটান। সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরেন কিংবা বাসায় এসেও অফিসের কাজ করেন। সন্তানকে দেয়ার মতো তার কাছে কোনো সময়ই আর থাকে না। ফলে বাবার সঙ্গে সন্তানদের দূরত্ব তৈরি হয়। আর ছোটবেলায় সম্পর্কের যে দূরত্ব সে দূরত্ব পরে পরিণত বয়সেও দূর হয় না। তাই আদর্শ বাবা মাত্রই সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুভাবাপন্ন হবেন- সেটাই কাম্য।’
 
ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাবার কাছ থেকে পাওয়া সময়ের হেরফেরেই খারাপ-ভালোর বিচার করে ফেলে। সন্তানকে একেবারেই সময় না দেয়া চূড়ান্ত রকমের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়া। খুব ব্যস্ততা থাকলে নিয়ম করে একটা নির্দিষ্ট সময় সন্তানের জন্য বরাদ্দ রাখুন। সম্ভব হলে প্রতিদিনের কর্মতালিকাতেই এটি রাখুন। তাকে বোঝান, আপনিই তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। ভালো বন্ধু। যে কোনো সমস্যাতে যেন বিনা দ্বিধাতেই সে আপনার কাছে চলে আসতে পারে।
 
[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- [email protected] এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত