মাহবুব হাসান    |    
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৫:১৫:৪৭ প্রিন্ট
সাত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন
মেয়র প্রার্থী মনোনয়নেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব আ’লীগের

২০১৮-এর ১৮ মার্চের মধ্যে রংপুর, ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাজীপুর, ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিলেট, ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনা, ৫ নভেম্বরের মধ্যে রাজশাহী এবং ২৩ নভেম্বরের মধ্যে বরিশালের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে টেস্ট কেস হিসেবে দেখছে সরকার। এসব নির্বাচনে হেরে বিএনপির হাতে কোনো রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। বরং সিটি নির্বাচনগুলোতে জয়ী হয়ে সরকারের জনপ্রিয়তা অক্ষুণেœর প্রমাণ দিতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। আর এজন্য মেয়র প্রার্থী মনোনয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি কোন্দল মিটিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করে মনোনীত প্রার্থীর জন্য কাজ করতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।


আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সিটি কর্পোরেশনে জিততে চায় তারা। কারণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সংসদ নির্বাচনে। তখন বিরোধী শক্তিগুলো দেশি-বিদেশি মহলকে বোঝাতে সক্ষম হবে, বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই এ বিষয়টি মাথায় রেখেই নির্বাচনী ছক কষছে ক্ষমতাসীন দলটি। সিটি নির্বাচনে ৭টির বেশির ভাগেই জয় চায় আওয়ামী লীগ। এ জন্য চলছে আগাম প্রার্থী যাচাই-বাছাই। জয় এনে দিতে পারবেন এমন মেয়র প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছেন নীতিনির্ধারকরা। ৮ জুলাই গণভবনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, সেদিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য কাজ গুছিয়ে আনতে নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, অতীতের সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমরা সামনে কাজে লাগাব। আশা করি, সামনের সব নির্বাচনে আমরা জয়ী হব। এ দেশের মানুষ শেখ হাসিনার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং দেশ পরিচালনায় তার সাফল্যকে মূল্যায়ন করবে। তিনি বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে এবার মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের বিষয়ে সম্প্রতি শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিতব্য সাত সিটি নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নানা সূত্রে তথ্য সংগ্রহ করছেন। দলের পাশাপাশি নিজস্ব সূত্রগুলোকেও কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন জনমত জরিপের ভিত্তিতে কোন সিটিতে কাকে মনোনয়ন দিলে ভালো হবে, সে বিষয়ও পর্যালোচনা করছেন তিনি। তবে যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। কেন না, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের অসহযোগিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেরেছিল বলে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে প্রমাণ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে রংপুর এবং ২০১৩ সালের ১৫ জুন রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল এবং ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে রংপুর ছাড়া বাকি ৫টিতে হেরেছিল আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি নির্বাচনেও পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-এর ১৮ মার্চের মধ্যে রংপুর, ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাজীপুর, ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিলেট, ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনা, ৫ নভেম্বরের মধ্যে রাজশাহী এবং ২৩ নভেম্বরের মধ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেদিন একাধিক সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ শুরুর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পুরনো প্রার্থীরাই থাকতে পারেন। তবে রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থী পদে পরিবর্তন আসতে পারে। আর এবারই প্রথম নির্বাচন হবে ময়মনসিংহে। আরও জানা গেছে, আসন্ন ৭ সিটি নির্বাচনে জয়লাভের কৌশল নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা আলাপ-আলোচনা করছেন। সূত্র জানায়, এমন একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে কেউ অসুস্থ রাজনীতি করলে মনোনয়ন পাবেন না বলে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। দলীয় প্রার্থীর জয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটিতে এখন থেকেই দলীয় কোন্দল মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এজন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে একাধিক সিটিতে গিয়েছেন। আবার বিভাগীয় যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদকদেরও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে বলেছেন।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, মনে করা হচ্ছে রাজশাহীতে মেয়র থাকাকালে খায়রুজ্জামান লিটনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং যেহেতু তেমন কোনো শক্তিশালী প্রার্থীও সেখানে নেই তাই তিনিই আবার মনোনয়ন পাবেন। লিটন যুগান্তরকে বলেন, দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাকে কাজ করতে বলেছেন। তিনি ইতিমধ্যেই নানাভাবে গণসংযোগ করছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

সিলেটেও সাবেক মেয়র বদরউদ্দীন আহমেদ কামরানের মতো শক্তিশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী আর কেউ নেই। তাই সেখানেও বিকল্প কাউকে ভাবা হচ্ছে না। তবে রংপুরে বর্তমান মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু আওয়ামী লীগের নেতা হলেও নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। এবার সেখানে চলছে নতুন হিসাব-নিকাশ। যে কোনো মূল্যে এ সিটি ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদের এ শহরে দলীয় মনোনয়ন চান বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাফিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমানের ছেলে ও উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক রাশেক রহমান। এদের তিনজনেরই রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি থাকলেও এ শহরে জাতীয় পার্টির সঙ্গে ভোটযুদ্ধে জেতার ক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান কেন্দ্রের নেতারা। একমাত্র বর্তমান মেয়র ঝণ্টুই এ ক্ষমতা রাখেন বলে মনে করা হয়। ঝণ্টুু যুগান্তরকে বলেন, তিনি দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন। আরও অনেকেই মনোনয়ন চাইছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল যাকেই প্রার্থী করুক তিনি দলের হয়ে কাজ করবেন। একই ধরনের বক্তব্য প্রার্থী হতে ইচ্ছুক রাশেক রহমানের। তিনি যুগান্তরকে বলেন, অনেক দিন ধরে দলের হয়ে কাজ করছেন। এ শহরের নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন। দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন।

এদিকে বরিশালে গতবারের প্রার্থী শওকত হোসেন হীরন প্রয়াত হওয়ায় এবার মেয়র প্রার্থী হতে চান সেরনিয়াবাত পরিবারের কেউ। সেক্ষেত্রে ১৫ আগস্টের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট ছেলে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত অথবা তার বড় ভাই আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মধ্য থেকে একজনকে প্রার্থী করা হতে পারে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গতবারের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বর্ষীয়ান নেতা। সেখানে তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শহীদ শেখ আবু নাসেরের ছেলে শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েলের নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে। গাজীপুরে গতবারের প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান অথবা বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে থেকে একজনকে মনোনয়ন দেয়া হবে।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত