গাজীপুর ও কাপাসিয়া প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর, ২০১৭ ২২:৫০:৩৯ প্রিন্ট
'বিএনপি নির্বাচনে গেলে আ'লীগের ভাগ্যে ২৫ আসনও জুটবে না'

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা নির্বাচন চাই, নির্বাচন করতে চাই। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেজন্য একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ, সমান অধিকার দিতে হবে। আমরা বলেছি, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী আপনি ক্ষমতা ছেড়ে দিন, ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ লোকের হাতে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিন। নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার করে বলেছি, দেশের মানুষ আপনাদের যে ক্ষমতা দিয়েছে, সংবিধানের মাধ্যমে সেই ক্ষমতানুযায়ী আপনারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। কারও কথা শুনবেন না। প্রয়োজনে সেসব মন্ত্রণালয় আপনারা হাতে নেবেন, যেসব মন্ত্রণালয়ে কারচুপি করার আশঙ্কা থাকে অথবা প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

তিনি শুক্রবার বিকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া ঘাঘটিয়া ওয়েলফেয়ার মাঠে এক স্মরণসভায় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র হচ্ছে তারেক রহমানকে নির্বাসিত রেখে আর দেশে ফিরতে না দেয়ার। ষড়যন্ত্র চলছে বিএনপিকে ধ্বংস করে দেয়ার, নির্মূল করে দেয়ার। ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আর ফিরিয়ে না দেয়ার। যত দিন দেশনেত্রী আছেন, তারেক রহমান আছেন, যত দিন এ দেশে একজনও দেশপ্রেমিক মানুষ আছেন তত দিন এ ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না। আমরা জানি আপনারা এ ষড়যন্ত্র  করছেন, চক্রান্ত করছেন, বিএনপি যেন নির্বাচনে আসতে না পারে। কারণ আপনারা জানেন, বিএনপি নির্বাচনে এলেই আপনাদের ভরাডুবি হবে। বিএনপি নির্বাচনে গেলে আওয়ামী লীগের ভাগ্যে ২৫টি আসনও জুটবে না। সেজন্য যত রকম কারসাজি করা, কারচুপি ও চক্রান্ত দরকার আপনারা তা করছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ’র স্মরণসভার প্রধান অতিথি ছিলেন মির্জা ফখরুল।

কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন হান্নান শাহ’র ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও শামা ওবায়েদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় সদস্য হুমায়ুন কবির খান, মিজানুর রহমান, মো. মুজিবুর রহমান ও ডা. মাজহারুল আলম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান পেরা, কাপাসিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম প্রমুখ। এ সময় গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. সোহরাব উদ্দিন, সাখাওয়াৎ হোসেন সবুজ, হান্নান মিয়া হান্নু, ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার, নাহীন আহমেদ মমতাজী, সাবেক ছাত্রনেতা হুমায়ুন কবীর রাজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সকাল থেকে প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে জেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার নেতাকর্মী খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও হান্নান শাহের ছবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে কাপাসিয়া ঘাঘটিয়া ওয়েলফেয়ার মাঠে উপস্থিত হন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, আমরা সবসময় বলেছি, আমরা সংঘাত চাই না, সংলাপ চাই, সমঝোতা চাই। যে অপকর্ম আপনারা করেছেন, কেয়ার টেকার সরকার বাতিল করে দিয়ে। যে অপকর্ম আপনারা করেছেন ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন করে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দিবতায় নির্বাচিত করে, সেই অপকর্ম ভুলে যান। আলাপ আলোচনা করেন, আমরা একটি পথ বের করি। যে পথ দিয়ে আমরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে একটি নির্বাচন করতে পারি। যে নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করবে, তাতে জনগণ তাদের ভোট দিতে পারবে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনও আপস করেন না, ভয় পান না। তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য, তাকে গ্রেফতার করার জন্য, তাকে কারাগারে আটক রাখার জন্য বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ৩৯টি মামলা দেয়া হয়েছে দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে। তিনি যখন চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলেন তখন আওয়ামী লীগের নেতারা বারবার বলার চেষ্টা করেছেন, দেশনেত্রী আর দেশে ফিরবেন না। তারা ভুলে গেছেন নয় বছর যেই নেত্রী সংগ্রাম করেছিলেন এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ১/১১ এর অসাংবিধানিক, অবৈধ সরকার পদ্ধতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। সেই নেত্রী কোনো দিন পালিয়ে যেতে পারেন না, আপস করতে পারেন না। তিনি বীরদর্পে ফিরে এসেছেন দেশের মাটিতে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, হান্নান শাহ প্রকৃতপক্ষেই ছিলেন একজন জাতীয় নেতা। আমাদের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। আজ তার মতো সাহসী মানুষ দরকার। যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নির্যাতনের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন আমাদের ডেকেছিল। আমরা সেখানে গিয়ে আমাদের প্রস্তাবগুলো দিয়ে এসেছি। আমাদের প্রস্তাবগুলো বিএনপির জন্য নয়। এ প্রস্তাব বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। এ প্রস্তাব বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা বলেছি, নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকার দিতে হবে। যে সরকার নিরপেক্ষভাবে একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান করে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে। আমরা বলেছি, এখন যে পার্লামেন্ট আছে যেটা তারা নিজেরাই তৈরি করেছে। জনগণ ভোট দেয়নি। সেই পার্লামেন্টকে ভেঙে দিতে হবে পরবর্তী নির্বাচনের আগে। যদি তা ভেঙে না দেয়া যায় তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। আমরা বলেছি, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কারণ সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকলে যারা ভোট ডাকাতি করে নিয়ে যায়, যারা জোর করে ফলাফল ঘোষণা করে, যারা লাঠিসোটা, বন্দুক-পিস্তল নিয়ে জনগণকে ভোট দিতে বাধা দেয়, তারা সেটা করতে পারবে না। কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগ) তাতে রাজি নয়। তারা বলে আমরা ২০১৪-তে যেভাবে নির্বাচন করেছি, তেমন নির্বাচন করব। এ দেশের জনগণ ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দেবে না।

তিনি সরকারকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতি দ্রুত জাতীয় কনভেনশন ডাকেন। সব রাজনৈতিক দলকে একটি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আপনারা প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন টিম তৈরি করে বিভিন্ন দেশে সফরে যান। জাতিসংঘে যান, তাদের ওই সমস্যা সমাধানে বাধ্য করেন। যে দেশগুলো মিয়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছেন চীন, ভারত, রাশিয়া তাদের কাছে অবিলম্বে যাওয়া উচিত এবং তাদের বোঝানো উচিত। এ সমস্যা সমাধান করতে, গণহত্যা বন্ধ করতে এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিদ্ধান্তও নিতে পারেনি।
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত