প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০৮:৩৭:৫০ প্রিন্ট
প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আ’লীগ-জাপায় ভাগ বসাতে চায় বিএনপি

মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে রংপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

অপেক্ষাকৃত দুর্বল বিএনপির একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনী জোট বাঁধলে মাঠের পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। তবে বরাবরই এ আসনে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে আসছে।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেরকমই ইঙ্গিত মিলছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান কোন্দল শাসক দলকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। কোন্দল যদি নির্বাচন পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে তাহলে এর সুফল অন্য কেউ ঘরে তুলতে পারে।

এর আগে প্রতিবারই আশিকুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আসন্ন নির্বাচনে নতুন ও তরুণ নেতৃত্বকে মাঠে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। আশিকুর রহমান ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সরকার এবং জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র নেতা মোতাহার হোসেন মওলা।

জাতীয় পার্টির মনোনয়ন তালিকায় জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শিল্পপতি এসএম ফখর উজ জামান ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হালিম মণ্ডল রয়েছেন। জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক খাজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মমতাজ হোসেন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল উল্যাহ জুয়েলও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন।

জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে শাহ মো. হাফিজুর রহমান, গোলাম রব্বানী ও বর্তমান আমির মাওলানা এনামুল হকের কথা শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে যেকোনো একজন আগামী সংসদ নির্বাচনে যেকোনো ফর্মে নির্বাচন করতে আগ্রহী। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু) থেকে উপজেলা সভাপতি সালেক হাসনাত বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আইনুল কবির লিটন মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এদিকে মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. সৈয়দ আবু তালেবের স্ত্রী মওদুদা আখতার দিনা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন থেকে শফিউল আলম ভোলা মণ্ডল দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এ আসনে এমপি হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান।

১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কারাগার থেকে এমপি হন। পরে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রয়াত নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী এমপি হয়ে সংসদে যান।

১৯৯৬ সালে এরশাদ আবারও ভোটে জয়লাভ করেন। পরে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের আশিকুর রহমান এমপি হন। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ সোলায়মান আলম ফকির এমপি হন। পরে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পুনরায় এমপি হন আশিকুর রহমান।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ, ক্ষমতার লড়াই, নেতৃত্বের ভাগাভাগি, উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ লুটপাটের একাধিক অভিযোগের কারণে আওয়ামী লীগ তার সোনালি অতীত হারাতে বসেছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কোন্দল। জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা রমরমা না হলেও ‘এরশাদ ইমেজ’ কাজে লাগিয়ে দলটি নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে যেতে পারে। আওয়ামী লীগের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে আশিকুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না এর আগে।

এবারও তিনি দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। এরই মধ্যে তারই এক সময়ের একনিষ্ঠ কর্মী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার তার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

কথা হয় এমপি আশিকুর রহমানের সঙ্গে।

তিনি মুঠোফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘নিজ এলাকায় দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। অনেক এমপির ছেলে অনেক কিছুই করেছে কিন্তু আমার ছেলে রাশেক রহমানের বিরুদ্ধে কেউ অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারবে না। আমার ছেলে কোথাও চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কোনো কাজ করেনি।

জাকির হোসেন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ও তো আমার দলে দীর্ঘদিন ধরে সেক্রেটারি ছিল। এখনও আছে। তাকে সরানো হয়নি। জাকিরের সঙ্গে মিঠাপুকুরের কোনো সজ্জন ব্যক্তি, শিক্ষক, সুশীল সমাজের লোকজন এমনকি কোনো নেতাকর্মী নেই। উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির কোনো সদস্যও নেই তার সঙ্গে।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য সে আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আশিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। জামায়াত সর্ম্পকে আশিকুর বলেন, জামায়াতের রাজনীতি নেই বললেই চলে। তবে আমাদের কিছু নেতার সহায়তায় জেলে আটক জামায়াত-শিবিরের লোকজন জামিন নিয়ে ছাড়া পাচ্ছে। এটি আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতির কারণ।

নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি দলের পক্ষে মনোনয়ন চেয়েছি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে। সবুজ সংকেতও পেয়েছি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা এমপি আশিকুর রহমানের ছেলে রাশেক রহমানের কারণে মিঠাপুকুরে আওয়ামী লীগের ক্ষতি হয়েছে।

রাশেক রহমান নিজের নামে কমিটি করে উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ লুট করেছে। এলাকাবাসী আমার কাছে এসব অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। তিনি মনে করেন, দলের মনোনয়ন পেলে তিনি জয়লাভ করতে পারবেন।

জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি এসএম ফখর উজ জামান বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করছি। বিগত দিনে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম।

এখন পার্টির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। জাপা থেকে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি জোটগতভাবে নির্বাচন করলে রংপুর-৫ আসনে কোন দল থেকে মনোনয়ন পাবে- সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। মনোনয়ন যিনিই পাক না কেন দলের হয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আমার ভূমিকা থাকবে। জাপায় কোনো কোন্দল নেই।

এদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দু’জনের নাম বেশি আলোচিত রয়েছে। এসএম ফখর উজ জামান ছাড়াও অন্যজন হচ্ছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হালিম মণ্ডল; তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক খাজানুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় একাধিক নতুন মুখও রয়েছেন।

তারা হচ্ছেন- অবসরপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মমতাজ হোসেন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল উল্যাহ জুয়েল। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন জুয়েল। জানতে চাইলে খাজানুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এখানে বিএনপি প্রার্থীর শতভাগ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের ভোট ব্যাংক রয়েছে।

জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তাদের ভোট পড়বে বিএনপির বাক্সে। সেক্ষেত্রে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ব্যবধানে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন জামায়াত প্রার্থী শাহ মো. হাফিজুর রহমান। তিনি ৫৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে শাহ মো. হাফিজুর রহমান ছাড়াও গোলাম রব্বানী ও বর্তমান আমির মাওলানা এনামুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে।

কলেজ শিক্ষক গোলাম রব্বানী বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু দুটি নাশকতার মামলা থাকায় উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত