প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল, ২০১৭ ০৫:৪৩:১২ প্রিন্ট
প্রাক-বাজেট আলোচনা
তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমানোর প্রস্তাব
করমুক্ত লভ্যাংশ ১ লাখ টাকা করার দাবি স্টক এক্সচেঞ্জের নেতাদের

শেয়ারবাজারকে গতিশীল করতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর্পোরেট করহার কমানোর দাবি জানিয়েছেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের নেতারা।

একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব তাদের। এই দুই সংস্থার নেতারা মনে করেন, বাজারকে গতিশীল করতে বাজেটে সুস্পষ্ট গাইডলাইন থাকা জরুরি।

এতে আগামী এক বছরে বাজারমূলধন কত হবে, কতগুলো কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির আওতায় আনা হবে তার সুস্পষ্ট গাইডলাইন থাকবে। রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ঊর্ধ্বতনরা একগুচ্ছ দাবি জানান। যার মধ্যে কর্পোরেট কর কমানোর দাবি অন্যতম।

এ ছাড়া ডিমিউচুয়ালাইজেশনের শর্ত হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জ দুটির কাছে রক্ষিত শেয়ারবাজারে ছাড়ার পর যে ক্যাপিটাল গেইন হবে তা করমুক্ত রাখা, স্টক এক্সচেঞ্জের কর অবকাশ সুবিধা ৩ বছর বৃদ্ধি, লভ্যাংশের করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রাক-বাজেট আলোচনায় আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার, ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটোয়ারী, ডিএসইর ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী। এনবিআরের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবাল, ভ্যাট নীতির ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন ও শুল্কনীতির সদস্য লুৎফর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, শুধু করহারের পরিবর্তন নয়, কৌশলগত এমন কিছু পরিবর্তন আনতে হবে যাতে কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিতে আগ্রহ দেখায়। বর্তমানে ৩০০ প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত আছে। কৌশলগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এটি ১ হাজারে উন্নীত হবে।

এ জন্য তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে কর্পোরেট করহারের পার্থক্য ৫ শতাংশ রাখতে হবে। তাহলে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়বে। এতে শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আসার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বাড়বে। একই প্রস্তাব দিয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটোয়ারী বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জকে কর অবকাশ সুবিধা না দিলে এনবিআর বছরে ১৪ থেকে ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। কিন্তু কৌশলগত প্রণোদনা দিলে বাজারে বিনিয়োগ বাড়বে।

ডিএসইর ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১৭৫ কোটি টাকা অনুদানের জন্য শেয়ারবাজারে ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হয়। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই রাতারাতি এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যা বাংলাদেশের মতো লোকসানি শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে বিরল উদাহরণ। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন বলেন, আইনের বাধ্যবাধকতা থাকায় বীমা কোম্পানিগুলো এজেন্টের বেতন দিতে পারে না।

কিন্তু যে কশিমন দিচ্ছে তার ওপর ৫ শতাংশ উৎসে আয়কর কেটে রেখে কমিশন দেয়া হচ্ছে। সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, এনবিআরকে রাজস্ব আহরণের চিন্তা করতে হয়। আবার ব্যবসা সহজীকরণের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হবে। যা সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যও সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিতে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো কার্যকর করা হবে। এটি সাহসী পদক্ষেপ। ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়া এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেক এটি বাস্তবায়নে সাহস দেখায়নি।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত