Logo
Logo
×

বাতায়ন

কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ: ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির যে সতর্কতা জরুরি

ফজল মুহাম্মদ

ফজল মুহাম্মদ

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫৬ পিএম

কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ: ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির যে সতর্কতা জরুরি

নির্বাচন বা যে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলেই বিদেশি কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ নতুন কিছু নয়। অতীতে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন একমনকি জুলাই আগস্ট আন্দোলনের সময়েও বিদেশি কূটনীতিকদের এ ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এখনো সেই ধারাবাহিকতাই চলছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের পর অন্তবর্তী সরকারের অধীনে যখন রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে কিছু বিষয় বাদে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঐক্যমতে পৌঁছেছে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য তারিখে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে তখনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের আনাগোনা বেড়েছে। 

ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ছাড়াও অভ্যুত্থানের আরেক শক্তি জামায়াতে ইসলামীসহ তরুণ ও ছাত্রদের নেতৃত্বে থাকা এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ এমনকি অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর সঙ্গেও ঘনঘন দেখা সাক্ষাৎ করছেন কূটনীতিকরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর এমন তৎপড়তা স্বাভাবিক মনে হলেও তাদের গতিবিধি সরল রেখায় ভাবার অবকাশ নেই। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে- এই একই ধরণের কূটনৈতিক কূটচালের শিকার হয়ে ২০০৭ সালে এক এগারো এসেছিল এদেশে। যার চরম খেসারত দিতে হয়েছিল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে। 

প্রতিবেশী বন্ধুবেশধারী রাষ্ট্রের  কংগ্রেসী প্রনব বাবুর দুতিয়ালীতে ভিনদেশী  কূটনৈতিক গং এদেশে শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদী শাসন প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। গুম খুনের রানী পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সরকার  বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল পাঠক নিশ্চয় সেগুলো ভুলে যাবেননা। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের লক্ষ কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম, গুম খুনসহ দুইশত চল্লিশ বিলিয়ন ডলার পাচারের  বিরুদ্ধে  ঐ সব ভদ্র বেশি  কূটনৈতিক গং কোনো কার্যকর জোড়ালো ভূমিকা রেখেছিল কিনা তাও আমাদের ভেবে দেখা দরকার। বরং জঙ্গি দমনের নামে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও তাদের কর্মীদের দমনে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারকে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল কারা? বিরোধী মত দমনে হাসিনাকে গ্রীণ সিগন্যাল দিয়েছিল কোন কূটনৈতিকরা সেইটাও ভুলে গেলে চলবেনা। 

আমি যেহেতু দুনিয়ার অন্যতম ধনী দেশ জি-সেভেনভুক্ত কানাডাতে বসবাস  করছি দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর যাবৎ এবং সেদেশে ফেলোশিপ প্রাপ্ত হয়ে জিও পলিটিক্স অব নর্থ আমেরিকা বিষয়ে গবেষণা করেছি, সেই সুবাদে পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন অলি গলির দৃশ্যমান আর অদৃশ্যমান কূটনৈতিক বয়ানের রকমফের সম্পর্কে কিছু কিছু ধারণা বা আন্দাজ করতে পারি। আমি বর্তমানে কিছুদিন হলো বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছি। সফরকালে দেশের একটি খ্যাতনামা বেসরকারি ঢিভি চ্যানেলের এক তরুণ সাংবাদিকের সঙ্গে দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হয়। উল্লেখ্য যে, এই তরুণ সাংবাদিক ২৪ এর জুলাই বিপ্লবে নেপথ্যে শক্তির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন; আমি যেন কূটনৈতিক পাড়ার দৌড়ঝাঁপ নিয়ে কিছু লিখি। বিশেষত কূটনৈতিক পাড়ার নয়া দৃষ্টিভঙ্গি ও নব্য অংশীজনদের বিষয়ে লিখি। কারণ, তার মতে, বিশেষত এই অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীজনদের কেউ কেউ কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে বেশ আহ্লাদিত ও আবেগতাড়িত। অনভিজ্ঞতা অথবা অদূরদর্শী কোন হঠকারি সিদ্ধান্তে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এমনকি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও হুমকিতে পড়তে পারে। থমকে যেতে পারে স্বাধীন জাতিসত্তা হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাড়াবার যে সুযোগ এসেছে তা হয়তো ভেস্তে যেতেও পারে। যা কখনোই কাম্য নয়। তাই এসব কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সম্পর্কে আরো সতর্ক ও কৌশলী হওয়ার জোড় দাবি রাখে। যে কারণে আমার আজকের এ লেখার অবতারণা। রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলোকে সাবধান ও সতর্ক করা আমাদের নৈতিক দায় বলেও মনে করি।  (চলবে)

লেখক: কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম