১৩ নভেম্বর আ.লীগের লকডাউনের ডাক
গণতন্ত্র রক্ষায় ফ্যাসিবাদবিরোধী ‘রাজনৈতিক ঐক্য’ জরুরি
এএইচএম ফারুক
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১৫ পিএম
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ‘আওয়ামী স্বৈরতান্ত্রিক নব্যবাকশালী’ শাসনের অবসান ঘটে। মূলত সুশাসনের অনুপস্থিতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতন্ত্র ধ্বংস, গুম-খুন, ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব, সীমাহীন দুর্নীতি ও একনায়কতন্ত্রের অভিযোগে জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতিত হয়। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে।
এই সরকার রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন, বিচারিক সংস্কার এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থানের ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রশাসনিক দ্বিধা। এই বাস্তবতায় কোনো পক্ষের উদাসীনতা বা প্রতিক্রিয়ার বিলম্ব রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলতে পারে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পতিত আওয়ামী লীগ, যারা একদা গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার কায়েম করেছিল, আজ পলাতক অবস্থায় থেকেও দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে- এটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক প্রতিরোধের আনুষ্ঠানিক ‘টেস্ট কেস’-এর অংশ।
পতনের পরও ষড়যন্ত্রের ছায়া
আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা দেশ-বিদেশে থেকে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গুপ্ত বার্তা এবং অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ডাক দিয়ে তারা রাজধানী দখলের হুমকি দিয়েছে।
আ.লীগের শাসনকাল: গণতন্ত্রের মৃত্যু ও রাষ্ট্রীয় দখল
২০০৯ থেকে ২০২৫ এই দীর্ঘ সময়জুড়ে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে কার্যত একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করে। গুম-খুনের শিকার হন কয়েক শতাধিক নাগরিক। এ সময় বিরোধী দল, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, ছাত্রনেতা সবাইকে দমন করা হয়। দলীয় সার্থে রাষ্ট্রীয় বাহিনী র্যাব, পুলিশ, বিজিবি এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করা হয়। অনেক সেনা কর্মকর্তাকেও প্রেষণে নিযুক্ত করে বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনীতে নিয়ে ব্যবহার করা হয় রাজনৈতিক প্রয়োজনে।
শেখ হাসিনার শাসনকালকে অনেকেই ‘স্বৈরতান্ত্রিক নব্যবাকশালী শাসন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে একদলীয় শাসন চালু হয়। শেখ হাসিনা সেই মডেলকে আধুনিক রূপ দিয়ে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, মিডিয়া- সবকিছু নিয়ন্ত্রণে নেন রাজনৈতিক স্বার্থে।
১৩ নভেম্বরের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি: প্রতিবাদের নামে অস্থিরতার ছক
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এটি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সম্ভাব্য রায়কে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১০-১২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচিও দিয়েছে। এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির পলাতক কেন্দ্রীয় নেতারা, যারা ভারতে এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছেন।
এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিনকে ‘প্রতিবাদের দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, কোটাবিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, যার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি চরমে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নজরদারি জোরদার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক প্রতিরোধের আনুষ্ঠানিক ‘টেস্ট কেস’ এর অংশ; যা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম হিসেবে সংবিধানবিরোধী।
ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার ছক: রাজধানীতে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের নির্দেশে রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলের নামে জঙ্গি কায়দায় সংঘটিত নাশকতার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাবতলী, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, পোস্টারিং এবং উসকানিমূলক স্লোগান ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এসব মিছিলের সময় গুপ্ত স্থান থেকে বের হয়ে ৫-১০ মিনিটের মধ্যে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় কর্মীরা, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের শনাক্ত করতে না পারে।
দৈনিক ইত্তেফাকের ‘১০ মাসে ঢাকায় ঝটিকা মিছিল থেকে প্রায় ৩ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী গ্রেফতার’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে জানা যায়- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৩,০০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের হয়ে নাশকতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মিছিলগুলো জঙ্গি সংগঠনের কৌশলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
সংবিধান ও নিষিদ্ধ সংগঠনের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড
বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল যদি রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত হয়, তা নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। আওয়ামী লীগকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপরও রাজধানীতে তাদের নেতাকর্মীদের গোপন মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, উসকানিমূলক পোস্টারিং চলতে দেখা যাচ্ছে। ৮ নভেম্বর দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন ‘গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ স্কুলে ককটেল বিস্ফোরণ’ এবং ‘১৩ তারিখে আমরা সবাই ঢাকা যাব: ফেসবুক পোস্টে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার’ সূত্রে দেখা যায় ১৩ নভেম্বরের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৎপরতা শুরু করেছে। এসবই নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের অংশ। এটি সংবিধান ও ফৌজদারি আইনের পরিপন্থি।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও নেতাদের ষড়যন্ত্রের ছক
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালান শেখ হাসিনা। দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ভারতের হিন্দুন বায়ুঘাঁটিতে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক যোগাযোগ ও ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা ভারতীয় ভূরাজনীতির সঙ্গে এই আশ্রয়ের সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে।
ভারতের কোলকাতায় আওয়ামী লীগের একটি ‘পার্টি অফিস’ খোলা হয়েছে, যেখানে নিয়মিত ভিড় করছেন পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ ও মধ্যম স্তরের নেতারা। এই অফিস থেকে দেশের অভ্যন্তরে বার্তা পাঠানো, অর্থায়ন এবং কর্মসূচি পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ কর্মীরা দেশে গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হলেও, শীর্ষ নেতারা ভারতে বিলাসী জীবনযাপন করছেন।
এ অবস্থান ও তৎপরতা শুধু রাজনৈতিক নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
ছাত্র আন্দোলন, আনসার আন্দোলন ও পেশাজীবীদের উসকানি
আওয়ামী লীগের পতনের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘পরীক্ষা ছাড়া অটো পাশ’ আন্দোলন উসকে দেওয়া হয়। আনসার বাহিনীর মধ্যে বেতন বৈষম্য ও পদোন্নতি নিয়ে ক্ষোভকে উসকে দিয়ে বাহিনীর শৃঙ্খলা দুর্বল করার চেষ্টা হয়। চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা, আইনজীবীসহ পেশাজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আন্দোলনের নামে রাজধানীতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়, যাতে অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা যায়।
জনমনে প্রতিক্রিয়া: তীব্র অসন্তোষ ও নিরাপত্তা দাবি
১৩ নভেম্বরের লকডাউন ঘোষণাকে দেশের সাধারণ মানুষ ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে এবং তারা ক্ষুব্ধ। তারা মনে করে, যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের আবার ফিরে আসার কোনো অধিকার নেই। তবে রাজধানীতে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি, ককটেল বিস্ফোরণ, গুপ্ত মিছিল- সবই জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা সরকারের কাছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ দাবি করছে। কারণ ষড়যন্ত্রকারীরা যে কোনো কিছু করতে পারে- এমন শঙ্কা কেউ উড়িয়ে দিচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিভাজন ও নিরাপত্তা নীতির দুর্বলতা
পলাতক-পতিত ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার পরিকল্পনা এখন স্পষ্ট। তারা ভারতে, ইউরোপে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির ছক আঁকছে। অথচ দেশের রাজনীতিবিদরা এখন সংস্কার, গণভোট, ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক মহলে নীরবতা ও দ্বিধা স্পষ্ট, যা এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে। ফ্যাসিস্টবিরোধী শক্তি- বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদ এবং ইসলামী দলগুলোসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো নিজেরাই দলাদলি, বিভেদ ও নেতৃত্ব সংকটে জর্জরিত। ফলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার পরিবর্তে বিভাজন আরও প্রকট হচ্ছে।
এই বাস্তবতায়, বাংলাদেশের রাজসৈতিক এবং নিরাপত্তা নীতিতেও একটি মৌলিক পুনর্বিন্যাস জরুরি। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ইস্যুতে বিভাজন নয়- প্রয়োজন সর্বদলীয় সমঝোতা, জাতীয় নিরাপত্তা নীতি এবং সাংবিধানিক ঐকমত্য। এই মুহূর্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষাই হওয়া উচিত সব পক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার।
সুপারিশ: রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া জরুরি
১. নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। ২. রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে- বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কূটনৈতিক এলাকা ও সরকারি স্থাপনায়। ৩. বিদেশে অবস্থানরত পলাতক শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। ৪. জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যম ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালাতে হবে। ৫. অন্তর্বর্তী সরকারকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং ৬. ফ্যাসিস্ট বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলকে আস্থায় নিয়ে দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যই পথ
বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থানের ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রশাসনিক দ্বিধা। এই বাস্তবতায় কোনো পক্ষের উদাসীনতা বা প্রতিক্রিয়ার বিলম্ব রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলতে পারে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পতিত আওয়ামী লীগ, যারা একদা গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার কায়েম করেছিল, আজ পলাতক অবস্থায় থেকেও দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সুতরাং এ পরিস্থিতিতে দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিরাপত্তা নীতিতে মৌলিক পুনর্বিন্যাস, সর্বদলীয় ঐকমত্য এবং প্রশাসনিক দৃঢ়তা ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। জনগণ আর কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হতে চায় না। তারা চায় স্থিতিশীলতা, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনরুদ্ধার- যেখানে নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত থাকবে।
লেখক: সাংবাদিক, লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
