|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জনাব তারেক রহমান!
বিপুল বিজয়ে প্রথমেই আপনাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা! এই বিজয়ে অহংকারী না হয়ে আপনি অনেক অভিজাত পদক্ষেপ নিয়ে আপনার শুভ বোধের যে পরিচয় দিয়েছেন তা জাতি স্মরণ রাখবে নিশ্চয়ই। কোনো বিজয় মিছিল কিংবা উদ্দাম উল্লম্ফন দেখান নি। তবে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন কিনা জানি না। আপনি শুভ বোধের প্রকাশ ঘটালেও আপনার দলের অনেক উচ্ছ্বাসী লোকজন উত্তেজনার যে বিপ্লবী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন সেই বিস্ফোরণে আহত এমনকি সম্ভ্রমও হারিয়েছে অনেকেই। জানি উচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়, তবু আপনি যে দলীয়ভাবে আপনার নেতা-কর্মীদের শান্ত থেকে দেশ গড়ায় মনেযোগী হতে বলেছেন-সেজন্য আপনার প্রতি পুরো জাতি কৃতজ্ঞ।
জামায়াত এবং এনসিপি প্রধানের বাসায় গিয়ে যে সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতা দেখালেন তা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই ঔদার্য যে লোক দেখানো ‘গরু মেরে জুতা দান’ নয়-তা জাতি বিশ্বাস করতে চায় আগামী দিনের সরকারের কার্যক্রম দেখে।
আপনার হাতেই রোপিত হোক উদার এবং পরমতসহিষ্ণু গণতন্ত্রের ধারা। ন্যায়-ইনসাফপূর্ণ একটি সরকার ব্যবস্থা গড়তে আপনি অঙ্গীকার করেছেন-সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চাটুকারি আর গুপ্ত বামদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে আপনাকে। আপনার কপালে সিজদার চিহ্ন পুরো জাতিকে আশ্বস্ত করে যে ইহকালীন নয় পরকালীন বিচারে বিশ্বাসী আপনি সকল প্রকার নেতিবাচক রাজনীতি এবং দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকতে পিছপা হবেন না।
এবারের নির্বাচন পরবর্তী পরিবেশ ছিল বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে অনন্য সাধারণ। বিরোধী দল জামায়াত জোটের হাতে কেউ আক্রান্ত হয় নি, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার শিকার হতে হয় নি কাউকে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ফলাফল নিয়ে জামায়াত জোটের শত আপত্তি সত্ত্বেও তাদেরকে ভাঙচুরের মতো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে কেউ দেখে নি। এই ঘটনা জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি শুভ ইঙ্গিত বৈ কি। তারা আইনি লড়াই লড়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
আপনি একটি ভদ্র বিরোধীদল পেয়েছেন বলে ধরে নিয়ে এই শুভবোধকে অসম্মান করবেন না এটা জাতির প্রত্যাশা। মনে রাখতে হবে-যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণে আপনি আজ প্রধানমন্ত্রীর শিরস্ত্রাণ পরতে যাচ্ছেন তারা আপনাকে সম্মান জানায়। কিন্তু অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য, মিথ্যা প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে ছিল তাদের নিরস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন।
আপনি আপনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন দেওয়া প্রথম ভাষণে বলেছিলেন মার্টিন লুথার কিংয়ের স্বপ্নের মতো আপনার একটি পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সমাদৃত এবং সম্মানিত করার পর্যায়ে নিয়ে যাক-এই প্রত্যাশা রইলো। আপনি সকল দলের সমন্বয়ে জাতীয় সরকার করার কথা বলেছিলেন। বিরোধীদল এরইমধ্যে আপনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে মন্ত্রিসভায় যোগ না দেওয়ার কথা জানিয়েছে। কিন্তু জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ যে-কোনো ইস্যুতে দলের উর্ধ্বে দেশকে প্রাধান্য দিয়ে দূরদর্শি নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা নিলে আপনি ছোট হবেন না, তবে দেশ অনেক বড় হবে।
পররাষ্ট্র বিষয়ক যে-কোনো বৃহৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের সহায়তা নিলে আপনি বিতর্কের উর্ধ্বে থাকবেন। মনে রাখতে হবে আমরা একটি ছোট দেশ কেবল ভৌগোলিক পরিমাপে। কিন্তু আমাদের জনশক্তি আর মনোবলের দিক থেকে আমরা যথেষ্ট সমৃদ্ধ। সুতরাং প্রতিবেশি দেশসহ পররাষ্ট্র বিষয়ক সকল বিষয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে নিজস্ব শক্তি-সামর্থের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় বিন্দুমাত্র হীনবল কিংবা নতজানু হবেন না-এটা আপনার কাছে ব্যক্তিত্বপূর্ণ দেশপ্রেমিক জনতার একান্ত চাওয়া। সবশেষে যে বিষয়টি বলবো তাহলো: আপনার ব্যাপারে ফ্যাসিস্ট আমলে বিচিত্র নেতিবাচক ট্যাগ লাগানো হয়েছে আপনি নিশ্চয়ই অনবহিত নন। আপনি আপনার ন্যায় এবং ইনসাফপূর্ণ শাসনের মাধ্যমে সেইসব ট্যাগকে মিথ্যা এবং রাজনৈতিক মিথ্যাচার বলে প্রমাণ করবেন আশা করি।
আপনার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত। আপনার মা-ও ছিলেন আপোষহীন দেশনেত্রী। আপনি তাদের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবেন-এটাই জাতির প্রত্যাশা।
আপনার সার্বিক সাফল্য কামনা করি।

