করোনার যুগে আশাবাদী হন
jugantor
করোনার যুগে আশাবাদী হন

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১১ আগস্ট ২০২০, ২২:২১:২৭  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনার যুগে আশাবাদী হন
প্রতীকী ছবি

পৃথিবীজুড়ে আজ এক বিপন্ন বিস্ময় বিরাজ করছে। সবার মনে আতঙ্কের কালোছায়া। স্বস্তি নেই কিছুতেই। এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে ভালো থাকার কিছু কথা লিখেছেন- রিয়াজ রিপন

ভালো থাকাটা সম্পূর্ণই নির্ভর করে মনের ওপর। তবে, মন ভালো রাখার জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিস্থিতি। সবকিছু যখন অনুকূলে থাকে তখন অবশ্য মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। কিছু কিছু সময়ে হয়তো আমরা মনকে বোঝাতে পারি না, বা মন বুঝতেও চায় না। তখনই মনের ওপর কালো ছায়া নেমে আসে এবং এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় আমাদের শরীরে।

আমরা সমস্ত পৃথিবীবাসী একটা অস্বস্তিকর সময় অতিবাহিত করছি। এতে কাজের গতি হয়েছে শ্লথ। সবাই গৃহবন্দি হয়ে রয়েছি। অনেকে কর্ম হারিয়ে হয়েছি দিশেহারা। অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্তও। এ সময়ে চলুন, জেনে নেই ভালো থাকার কিছু উপায়।

সাংসারিক কাজগুলো নিজেরাই করে ফেলুন

একটা সময় ছিল, অফিসের কিংবা ব্যবসায়িক কাজের চাপে নিজেদের কাজ নিজেরা ঠিকমতো করতে পারিনি। সময় বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আজ আমরা এমন এক স্থানে এসে দাঁড়িয়েছি যে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। আর এ প্রতিরোধ গড়ার লক্ষ্যে শারীরিক কসরত খুবই প্রয়োজন। সেটা হতে পারে যোগ-ব্যায়াম কিংবা ঘরের কাজের মাধ্যমে। তাই, ঘরের কাজ আর পরের নয়, নিজেদের মেনেই নিজেরা করে ফেলুন। অযথা ঘরের সদস্যদের কোনো হুকুম না দিয়ে বরং নিজে একটু দায়িত্ব নিয়ে সেরে ফেলুন সাংসারিক টুকিটাকি কাজ। এতে নিজের মনোবল বাড়বে এবং আপনার সহধর্মিণীর কাজ কিছুটা হলেও কমে আসবে। হয়তো এতে আপনাদের ভালোবাসার বন্ধন নিখুঁত এবং প্রাণবন্ত হবে।

পারিবারিক সম্পর্ক মজবুত করার এটাই উপযুক্ত সময়

কর্মজীবনে নিজ অবস্থান তৈরি আর অর্থের পেছনে মরিয়া হয়ে ছুটে ছুটে পরিবারকে হয়তো ঠিকমতো সময় দেয়া হয়ে ওঠেনি। গভীর রাতে বাড়ি ফিরে সন্তান ও স্ত্রীকে ঘুমের ঘোরে পেতে হয়েছে। দু-চারটি ভালোমন্দ কথা বলা, সবার ভাবনা, চাওয়া-পাওয়া বা একটু গল্প করা, এমনটা অনেক সময়ে হয়ে ওঠেনি। এ অফুরন্ত সময়গুলোতে তাদের সময় দিন। ছেলেমেয়েরা ঘরবন্দি জীবনে কী লেখাপড়া করছে প্রয়োজনে একটু তদারক করুন। তাদের কথাকে মূল্য দিন। ভুল থাকলে বুঝিয়ে বলুন। দেখবেন নির্দ্বিধায় তারা মেনে নেবে। ভালো ভালো চিন্তা-বুদ্ধি বিনিময় করুন। এ ক্রান্তিকাল যেন আপনার সম্পর্ককে মজবুত করার জন্যই  হাজির হয়েছে।

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন

মুখরোচক তেল-ঝাল-মসলা, কোমল পানীয় বা অর্ডার করা ফাস্টফুড খাবার অভ্যাস পরিবর্তন করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারে জোর দেয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজির সঙ্গে ডিম, ফলমূল যোগ করুন। পর্যাপ্ত খাবার পানি পান করুন। এটা মনে রাখা খুবই জরুরি যে, আগের জীবনযাপন আর এখনকার জীবনযাপন এক নয়। এই বিস্ময় পরিবেশে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে খাবারের পাশাপাশি, সঠিক সময়ে বিশ্রাম, ঘুম আর পরিবারের সবার সঙ্গে হাসিখুশি থাকা বাঞ্ছনীয়।

অনেকেই হয়তো রাত জেগে লেখাপড়া, অফিস বা ব্যবসায়িক কাজ করে থাকি। আবার অনেকে বলে থাকি দীর্ঘদিন এক নিয়মে চলতে চলতে রাত জাগা আর কি! বিষয়টি এমন নয় আর হওয়াও উচিত নয় কারণ পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে যদি আমরা নিজেদের খাপ খাওয়াতে না পারি তাহলে সেখানে আমাদের পরাজয় অনিবার্য। সে কথা ভেবে, জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা খুবই প্রয়োজন।

ধর্মকর্মে সময় দিন

ধর্মেই আমাদের মুক্তি। ধর্ম মানেই তো শুদ্ধাচার। তবে, তা হোক নিয়মনীতি মেনে। নিজ নিজ ধর্মে আবেগের সঙ্গে বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন। সব ধর্মই ব্যক্তিকে পবিত্র রাখা, মিথ্যা এবং সবরকমের কলুষতা থেকে দূরে থাকা এসব ভালো অভ্যাসের তাগিদ দিয়েছে। সেদিক বিবেচনায় রেখে নিজ ধর্ম সাধনায় সময় দিন।

ঘরে থেকে আপনার কাজ নতুনভাবে গুছিয়ে নিন

সকালে ঘুম থেকে উঠেই তড়িঘড়ি যে কাজে আপনি ছুটতেন সে কাজের এখন রূপ বদলেছে। কোনো কোনো কাজ একেবারে হয়তো থেমে গেছে আবার কোনো কোনো কাজ এখন বাড়ি থেকেই করতে হচ্ছে। তাই, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব নিয়ম জানুন। আইটি-টুলস ব্যবহার শিখুন। আপনার আগের কাজ নতুনভাবে গুছিয়ে নিন। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে কাজের পরিচিতি বাড়ান। অনেকেই নানা বন্ধুসুলভ অ্যাপ ব্যবহার করছেন কিংবা অনেকে মেইল আদান প্রদান করে অফিসিয়াল কাজ সেরে নিচ্ছেন ভালো কথা, তবে সচেতন থাকুন সাইবার অপরাধ সম্পর্কে। প্রথমে অবশ্য এমন কাজে কিছুটা বেগ ও অস্বস্তিবোধ হতে পারে, পরে ঠিকই কাজ সহজ থেকে সহজতর হয়ে যায়। মেনে চলুন সব নিয়মনীতি, আলো-বাতাস-রোদ লাগান, ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
 

করোনার যুগে আশাবাদী হন

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১১ আগস্ট ২০২০, ১০:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
করোনার যুগে আশাবাদী হন
প্রতীকী ছবি

পৃথিবীজুড়ে আজ এক বিপন্ন বিস্ময় বিরাজ করছে। সবার মনে আতঙ্কের কালোছায়া। স্বস্তি নেই কিছুতেই। এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে ভালো থাকার কিছু কথা লিখেছেন- রিয়াজ রিপন

ভালো থাকাটা সম্পূর্ণই নির্ভর করে মনের ওপর। তবে, মন ভালো রাখার জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিস্থিতি। সবকিছু যখন অনুকূলে থাকে তখন অবশ্য মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। কিছু কিছু সময়ে হয়তো আমরা মনকে বোঝাতে পারি না, বা মন বুঝতেও চায় না। তখনই মনের ওপর কালো ছায়া নেমে আসে এবং এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় আমাদের শরীরে।

আমরা সমস্ত পৃথিবীবাসী একটা অস্বস্তিকর সময় অতিবাহিত করছি। এতে কাজের গতি হয়েছে শ্লথ। সবাই গৃহবন্দি হয়ে রয়েছি। অনেকে কর্ম হারিয়ে হয়েছি দিশেহারা। অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্তও। এ সময়ে চলুন, জেনে নেই ভালো থাকার কিছু উপায়।

সাংসারিক কাজগুলো নিজেরাই করে ফেলুন

একটা সময় ছিল, অফিসের কিংবা ব্যবসায়িক কাজের চাপে নিজেদের কাজ নিজেরা ঠিকমতো করতে পারিনি। সময় বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আজ আমরা এমন এক স্থানে এসে দাঁড়িয়েছি যে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। আর এ প্রতিরোধ গড়ার লক্ষ্যে শারীরিক কসরত খুবই প্রয়োজন। সেটা হতে পারে যোগ-ব্যায়াম কিংবা ঘরের কাজের মাধ্যমে। তাই, ঘরের কাজ আর পরের নয়, নিজেদের মেনেই নিজেরা করে ফেলুন। অযথা ঘরের সদস্যদের কোনো হুকুম না দিয়ে বরং নিজে একটু দায়িত্ব নিয়ে সেরে ফেলুন সাংসারিক টুকিটাকি কাজ। এতে নিজের মনোবল বাড়বে এবং আপনার সহধর্মিণীর কাজ কিছুটা হলেও কমে আসবে। হয়তো এতে আপনাদের ভালোবাসার বন্ধন নিখুঁত এবং প্রাণবন্ত হবে।

পারিবারিক সম্পর্ক মজবুত করার এটাই উপযুক্ত সময়

কর্মজীবনে নিজ অবস্থান তৈরি আর অর্থের পেছনে মরিয়া হয়ে ছুটে ছুটে পরিবারকে হয়তো ঠিকমতো সময় দেয়া হয়ে ওঠেনি। গভীর রাতে বাড়ি ফিরে সন্তান ও স্ত্রীকে ঘুমের ঘোরে পেতে হয়েছে। দু-চারটি ভালোমন্দ কথা বলা, সবার ভাবনা, চাওয়া-পাওয়া বা একটু গল্প করা, এমনটা অনেক সময়ে হয়ে ওঠেনি। এ অফুরন্ত সময়গুলোতে তাদের সময় দিন। ছেলেমেয়েরা ঘরবন্দি জীবনে কী লেখাপড়া করছে প্রয়োজনে একটু তদারক করুন। তাদের কথাকে মূল্য দিন। ভুল থাকলে বুঝিয়ে বলুন। দেখবেন নির্দ্বিধায় তারা মেনে নেবে। ভালো ভালো চিন্তা-বুদ্ধি বিনিময় করুন। এ ক্রান্তিকাল যেন আপনার সম্পর্ককে মজবুত করার জন্যই হাজির হয়েছে।

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন

মুখরোচক তেল-ঝাল-মসলা, কোমল পানীয় বা অর্ডার করা ফাস্টফুড খাবার অভ্যাস পরিবর্তন করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারে জোর দেয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজির সঙ্গে ডিম, ফলমূল যোগ করুন। পর্যাপ্ত খাবার পানি পান করুন। এটা মনে রাখা খুবই জরুরি যে, আগের জীবনযাপন আর এখনকার জীবনযাপন এক নয়। এই বিস্ময় পরিবেশে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে খাবারের পাশাপাশি, সঠিক সময়ে বিশ্রাম, ঘুম আর পরিবারের সবার সঙ্গে হাসিখুশি থাকা বাঞ্ছনীয়।

অনেকেই হয়তো রাত জেগে লেখাপড়া, অফিস বা ব্যবসায়িক কাজ করে থাকি। আবার অনেকে বলে থাকি দীর্ঘদিন এক নিয়মে চলতে চলতে রাত জাগা আর কি! বিষয়টি এমন নয় আর হওয়াও উচিত নয় কারণ পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে যদি আমরা নিজেদের খাপ খাওয়াতে না পারি তাহলে সেখানে আমাদের পরাজয় অনিবার্য। সে কথা ভেবে, জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা খুবই প্রয়োজন।

ধর্মকর্মে সময় দিন

ধর্মেই আমাদের মুক্তি। ধর্ম মানেই তো শুদ্ধাচার। তবে, তা হোক নিয়মনীতি মেনে। নিজ নিজ ধর্মে আবেগের সঙ্গে বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন। সব ধর্মই ব্যক্তিকে পবিত্র রাখা, মিথ্যা এবং সবরকমের কলুষতা থেকে দূরে থাকা এসব ভালো অভ্যাসের তাগিদ দিয়েছে। সেদিক বিবেচনায় রেখে নিজ ধর্ম সাধনায় সময় দিন।

ঘরে থেকে আপনার কাজ নতুনভাবে গুছিয়ে নিন

সকালে ঘুম থেকে উঠেই তড়িঘড়ি যে কাজে আপনি ছুটতেন সে কাজের এখন রূপ বদলেছে। কোনো কোনো কাজ একেবারে হয়তো থেমে গেছে আবার কোনো কোনো কাজ এখন বাড়ি থেকেই করতে হচ্ছে। তাই, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব নিয়ম জানুন। আইটি-টুলস ব্যবহার শিখুন। আপনার আগের কাজ নতুনভাবে গুছিয়ে নিন। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে কাজের পরিচিতি বাড়ান। অনেকেই নানা বন্ধুসুলভ অ্যাপ ব্যবহার করছেন কিংবা অনেকে মেইল আদান প্রদান করে অফিসিয়াল কাজ সেরে নিচ্ছেন ভালো কথা, তবে সচেতন থাকুন সাইবার অপরাধ সম্পর্কে। প্রথমে অবশ্য এমন কাজে কিছুটা বেগ ও অস্বস্তিবোধ হতে পারে, পরে ঠিকই কাজ সহজ থেকে সহজতর হয়ে যায়। মেনে চলুন সব নিয়মনীতি, আলো-বাতাস-রোদ লাগান, ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস