সাবধানতাই একমাত্র সুশিক্ষার পথ

  রহমান মৃধা ২১ মে ২০১৮, ১৪:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

সাবধানই একমাত্র সুশিক্ষার পথ

এখন বিশ্বায়নের যুগ। বিশ্বায়নের এই যুগে নিজেকে পাল্টে বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠা খুবই দরকার। আর বিশ্ব নাগরিক হতে হলে ভালোবাসার সেতু তৈরি করতে হবে। তার জন্য দরকার সহযোগিতা, সৃজনশীলতা, ভাতৃত্ববোধ সম্পন্ন ভালবাসা ও বোধশক্তি।

'এই কূলে আমি আর ঐ কূলে তুমি, মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়' গানের কথা, মনের কথা, পরের কথা, কিছু নতুন কথা এবং ভালোবাসার কথার সঙ্গে হবে আজ কিছু বাস্তব জীবনের কথা।

প্রেমিক-প্রেমিকার বা স্বামী-স্ত্রীর মিলনে ঘটে এক ভালোবাসার বন্ধন, গড়ে ওঠে এক নতুন জীবন মায়ের গর্ভে। শিশুর জন্মের সাথে সাথে তাকে ঘিরে গড়ে ওঠে এক নতুন সেতু, ভালোবাসার সেতু।

আজ বিশ্লেষণ করব বিশ্বের চারটি দেশকে নিয়ে। তাদের মানসিকতা, চিন্তাধারা, সামাজিকতা, স্নেহমমতাসহ বিশেষ কিছু দিক যা আশা করি ভালো লাগবে সবার। কিছু কথা থাকবে, কিছু রিফ্লেকশন থাকবে।

একটি সদ্যজাত শিশুর সাথে তার মায়ের প্রাথমিক সম্পর্ক। সাথে আরো কিছু নতুন চিন্তা ধারার সংযোজন প্রয়োজন হবে যখন শুরু হবে আমাদের বিশ্ব ভ্রমণ।

আমেরিকা, জাপান, সুইডেন এবং বাংলাদেশ। বর্তমান এসব দেশের সব বাচ্চাই হাসপাতালে প্রসব হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশে হাসপাতালের প্রসাবের সংখ্যা এখনো শতভাগের অনেক নিচে।

আমেরিকাতে শিশুর জন্মের সাথে সাথে ধাত্রী প্রাথমিক পর্যায়ের বাচ্চার দেখাশুনো করে। বাচ্চার মার বিশ্রাম নেওয়া, তার হরমোনের এবং শারীরিক ও মানষিক স্বাভাবিকতা ফিরে পেতে যা যা দরকার সেসব সুযোগ সুবিধা তারা পেয়ে থাকে হাসপাতালে থাকাকালীন।

মাঝে মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বাচ্চাকে মার কাছে আনা হয়। মজার ব্যাপার মা এসময় দিব্যি তার শিশুর সাথে কথোপকথন করে যেন একজন প্রাপ্তবয়স্কের সাথে কথাবার্তা বলছে।

তার মা ভাবে না যে এতটুকু বাচ্চা সে তো কিছুই বুঝতে পারছে না। জাপান, সুইডেন বা বাংলাদেশে বিষয়টি বেশ অন্যরকম।

এরা বাচ্চাকে হাত বোলানো, বুকের উপর রাখা, আদর করা, গানের সূরে কিছু বলা এমন আচরণ সচরাচর বাচ্চার সাথে করে থাকে। মূলকথা, পুরো বাচ্চার দায়িত্ব তারা নিজেরা নিয়ে থাকে, যদি কোন ব্যতিক্রম না ঘটে।

জন্মের শুরুতেই শিশু অণুকরণ এবং অণুসরণ করতে শুরু করে সাথে সৃস্টি হয় মিথস্ক্রিয়ার, হয় ভালোবাসার সেতু। ব্যবসা বাণিজ্য করতে সুইডেনের সাথে জাপানের যেমনটি ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয় তেমনটি হয় না আমেরিকানদের সাথে। আমেরিকানদের প্রভাবশালী আচারণ, প্যাকেজিং, কথা বলার রঙ-ঢং সুইডিস বা জাপানিজদের কাছে খুব একটা প্রশংসনীয় নয়।

এ বিষয় নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা হয়েছে এবং এমনটি প্রমাণিত হয়েছে যে এই পার্থক্যের কারণ জন্মের শুরু থেকে একটি শিশুর সময়গুলো কিভাবে মনিটরিং করা হয়েছে তার উপর।

একই ভাবে বিশ্বের কিছু জাতি কথা বলে বেশি তুলনামূলকভাবে অন্য জাতির চেয়ে। ঘন বসতিপূর্ণ জাতি কথা বলে বেশি তুলনামূলকভাবে, যেমন ইটালি বা ফ্রান্সের মানুষ বেশি কথা বলে সুইডিসদের তুলনায়।

দরিদ্রতা, সুশিক্ষা, সাংস্কৃতিক মূল্য বা না জানার কারণ প্রভাব বিস্তার করে বা করতে পারে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের উপর। কয়েকটি উধারণ:-

ইন্ডিয়াতে (কোলকাতা ছাড়া) বেশির ভাগ রাজ্যে তারা হ্যাঁ বা না যেটাই উত্তর করুক না কেন পুরো মাথা তারা নাড়াবেই। অনেক সুইডিস এদের সাথে ব্যবসা করতে এসে পড়েছে বিশৃঙ্খলার মধ্যে।

জাপানে কেউ যদি ব্যবসার কার্ড পরিচয়পত্র হিসাবে দেয়, তা চট করে পকেটে ঢুকালে চলবে না, সেটাকে তার সামনে জোরে জোরে পড়তে হবে যাতে সে বুঝতে পারে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হল, নইলে ব্যবসা করা সম্ভব হবে না।

আমেরিকানরা তাদের প্রথম পরিচয়ে হ্যান্ডশেক করে এবং তা খুব জোরালভাবে। কারণ তারা বোঝাতে চায় আমি তোমার সাথে আছি।

সুইডিসরা চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পছন্দ করে, কারণ তারা মনে করে চোখ মনের কথা বলে ইত্যাদি ইত্যাদি। মানুষের সাংস্কৃতিক আচারণ বিশাল আকারে প্রভাব বিস্তার করছে জীবনের পদে পদে।

উপরের বিষয়গুলো বর্ণনার কারণ এই যে পারস্পরিক আন্তরিকতা বা মনুষ্যত্বের উপর প্রভাব বিস্তার নির্ভর করছে মানুষের ভিতরের ও বাহিরের পারিপার্শ্বিকতার উপর।

সিঙ্ক্রোনাইজেশন, ইন্টিগ্রেশন, মাইগ্রেশন, অভিযোজন, জনসংখ্যা বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং জলবায়ু এসব বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু একজন বিশ্ব নাগরিকের জন্য।

ডিজিটালাইজেশনের যুগে শুধু পুরনো পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করলে বর্তমান পৃথিবীর নাগরিক হওয়া সম্ভব নয়, স্কুল কলেজের পড়াশুনোর সাথে “স্ট্রিট স্মার্ট” হতে হবে।

একটি ওয়ার্কসোপ দিয়ে আজকের লেখাটা শেষ করি, যারা ডাক্তারি পড়ছে তাদেরকে নিয়ে। রুগী এসেছে রুগীর প্রস্টেট ক্যানসার সে জানে তা এবং তার চিকিৎসা চলছে এবং অনেকটা ভালোর পথে।

ওয়ার্মকসপে এক দিকে এক গ্রুপ শিক্ষক অন্য দিকে এক গ্রুপ ছাত্র-ছাত্রী। উভয় গ্রুপ শুনছে রুগীর উপসর্গ এবং প্রশ্ন করছে রুগীকে নানা বিষয়ে।

পরে উভয় গ্রুপ প্রথমে আলাদাভাবে এবং পরে ঐক্যবদ্ধভাবে একটা সিদ্ধান্ত নিবে এবং সর্বশেষে সেটা প্রকাশ করবে শ্রেণিকক্ষে।

একই সিদ্ধান্তে আসলে এবং রুগীর রোগের সাথে মিলে গেলে ভাল। তবুও প্রশ্ন কেন মিলে গেল এবং তার কারণ কী? কী শিক্ষা? কী সেই শিখন পদ্ধতি?

না মিললে কারণ কী? কেন মিলল না? যোগ্যতার অভাব? নাকি অন্য কিছু, ইত্যাদি ইত্যাদি। যারা জানে তাদের থেকে শেখা এমন ধরনের মন মানসিকতা তৈরি করতে হবে বা জানতে হলে শিখতে হবে। হচ্ছে কি শিক্ষাঙ্গণে এমনটি প্রশিক্ষণ?

বিশ্ব নাগরিক হতে হলে জানতে হবে, জানতে হলে পড়তে হবে, পড়তে হলে কৌতুহলী হতে হবে, জানার আগ্রহ বাড়াতে হবে এবং অন্যকে উৎসাহিত করতে হবে।

সচেতন জাতি খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে। অজুহাত দেখানো যাবে না। সাবধানই একমাত্র সুশিক্ষার পথ। বিশেষায়িত শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে তার সমাধান।

লেখক: রহমান মৃধা, পরিচালক ও পরামর্শক সুইডেন থেকে, [email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter