মঞ্চ কাঁপালেন শামীম ওসমান
jugantor
মঞ্চ কাঁপালেন শামীম ওসমান

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  

২৫ জুন ২০২২, ২২:৩৭:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

শামীম ওসমান মানেই যেন অন্য কিছু , শামীম ওসমান মানেই যেন নতুন কোনো চমক। ‘খেলা হবে’ কিংবা অগ্নিঝরা বক্তব্য দিয়ে নানা সময়ে মিডিয়ার আলোচনায় থাকা এই সাংসদ এবার স্লোগান দিয়ে মঞ্চ কাঁপিয়েছেন।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিশাল ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে যোগ দেওয়ার আগে বৃষ্টির মধ্যে আনন্দ র্যা লিতে ‘কাক ভেজা’ হাজার হাজার মানুষকে মুহূর্তেই উদ্বেলিত করেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।

নারায়ণগঞ্জের সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের খোলা মাঠে তৈরি মঞ্চে বক্তৃতা দেওয়ার আগে নিজেই ধরেছিলেন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা’ স্লোগান। আর মুহূর্তেই যেন প্রকম্পিত হয়েছিল কয়েক হাজার মানুষের পাল্টা স্লোগানে।

নিজের বক্তব্য দিতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন বাঙালিদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবে না। বিশ্ব দেখেছে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। শেখ হাসিনা এখন শুধু আওয়ামী লীগ নয়, দেশের সম্পদ, আপনাদের সম্পদ।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করেছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি করা বড় আকারের মঞ্চের পাশেই ছিল বিশাল টিভি স্ক্রিন। যেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছেন কয়েক হাজার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে সকালে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যা লি বের হয়। এ সময় মূষলধারে বৃষ্টি হলেও সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে র্যা লিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া থেকে র্যা লিটি বের হয়। পরে ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে শামীম ওসমান বলেন, অনেকেই বলেছিলেন পদ্মা সেতু হবে না, বাংলাদেশ আগাবে না। এরা তারাই যারা বাংলাদেশকে এমন জায়গায় ফেলে রাখতে চায় যেখান থেকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশপ্রেম, সততা ও দৃঢ়তা দেখেছে সারা বিশ্ব। আজকে সারা বিশ্বের কাছে পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার, পদ্মা সেতু মানে বাংলাদেশ কারো পায়ে না, নিজের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

শামীম ওসমান বলেন, অনেকেই এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন। যেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলেন, সেদিন তাকে ৩২ নম্বরের বাড়িতে পর্যন্ত প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। যে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন কোথায় ছিল তাদের গণতন্ত্র আর মানবাধিকার। যে স্বাধীনতা বিরোধীরা মহান ৭১-এ আমার মা-বোনকে পাক সেনাদের হাতে তুলে দিয়েছিল, বাংলাদেশের নিরীহ মানুষদের জবাই করেছিল, সেই স্বাধীনতা বিরোধীদের নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে প্রবেশ নিষেধ করেছিলাম। যে নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম। সংসদে এক নেত্রী আমাকে বলেছিলেন, ‘তোকে আমি দেখে নেব’। তিনি সত্যিই দেখে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে ১৬ জুন আমাদের ওপর বোমা হামলা হয়েছিল, ২০ জন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, অনেকে চির পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। হামলার পর আহত অবস্থায় শুধু একটা কথাই বলেছিলাম- শেখ হাসিনাকে বাঁচান। আর বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন- আমরা নাকি জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা আইন পাশ করাতে নাকি আমরা নিজেরাই বোমা হামলা করেছিলাম। সেই ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। সামনে ষড়যন্ত্র আছে সবাই প্রস্তুত থাকুন, এক থাকুন।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) এমপি, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, জেলা পরিষদ প্রশাসক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

মঞ্চ কাঁপালেন শামীম ওসমান

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
২৫ জুন ২০২২, ১০:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শামীম ওসমান মানেই যেন অন্য কিছু , শামীম ওসমান মানেই যেন নতুন কোনো চমক। ‘খেলা হবে’ কিংবা অগ্নিঝরা বক্তব্য দিয়ে নানা সময়ে মিডিয়ার আলোচনায় থাকা এই সাংসদ এবার স্লোগান দিয়ে মঞ্চ কাঁপিয়েছেন।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিশাল ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে যোগ দেওয়ার আগে বৃষ্টির মধ্যে আনন্দ র্যা লিতে ‘কাক ভেজা’ হাজার হাজার মানুষকে মুহূর্তেই উদ্বেলিত করেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।

নারায়ণগঞ্জের সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের খোলা মাঠে তৈরি মঞ্চে বক্তৃতা দেওয়ার আগে নিজেই ধরেছিলেন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা’ স্লোগান। আর মুহূর্তেই যেন প্রকম্পিত হয়েছিল কয়েক হাজার মানুষের পাল্টা স্লোগানে।

নিজের বক্তব্য দিতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন বাঙালিদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবে না। বিশ্ব দেখেছে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। শেখ হাসিনা এখন শুধু আওয়ামী লীগ নয়, দেশের সম্পদ, আপনাদের সম্পদ।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করেছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি করা বড় আকারের মঞ্চের পাশেই ছিল বিশাল টিভি স্ক্রিন। যেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছেন কয়েক হাজার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে সকালে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যা লি বের হয়। এ সময় মূষলধারে বৃষ্টি হলেও সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে র্যা লিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া থেকে র্যা লিটি বের হয়। পরে ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে শামীম ওসমান বলেন, অনেকেই বলেছিলেন পদ্মা সেতু হবে না, বাংলাদেশ আগাবে না। এরা তারাই যারা বাংলাদেশকে এমন জায়গায় ফেলে রাখতে চায় যেখান থেকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশপ্রেম, সততা ও দৃঢ়তা দেখেছে সারা বিশ্ব। আজকে সারা বিশ্বের কাছে পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার, পদ্মা সেতু মানে বাংলাদেশ কারো পায়ে না, নিজের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

শামীম ওসমান বলেন, অনেকেই এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন। যেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলেন, সেদিন তাকে ৩২ নম্বরের বাড়িতে পর্যন্ত প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। যে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন কোথায় ছিল তাদের গণতন্ত্র আর মানবাধিকার। যে স্বাধীনতা বিরোধীরা মহান ৭১-এ আমার মা-বোনকে পাক সেনাদের হাতে তুলে দিয়েছিল, বাংলাদেশের নিরীহ মানুষদের জবাই করেছিল, সেই স্বাধীনতা বিরোধীদের নারায়ণগঞ্জের পবিত্র মাটিতে প্রবেশ নিষেধ করেছিলাম। যে নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম। সংসদে এক নেত্রী আমাকে বলেছিলেন, ‘তোকে আমি দেখে নেব’। তিনি সত্যিই দেখে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে ১৬ জুন আমাদের ওপর বোমা হামলা হয়েছিল, ২০ জন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, অনেকে চির পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। হামলার পর আহত অবস্থায় শুধু একটা কথাই বলেছিলাম- শেখ হাসিনাকে বাঁচান। আর বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন- আমরা নাকি জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা আইন পাশ করাতে নাকি আমরা নিজেরাই বোমা হামলা করেছিলাম। সেই ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। সামনে ষড়যন্ত্র আছে সবাই প্রস্তুত থাকুন, এক থাকুন।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) এমপি, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, জেলা পরিষদ প্রশাসক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পদ্মা সেতু নির্মাণ