নাট-বল্টু খোলা বায়েজিদের দায় নিচ্ছে না কোনো দল
jugantor
নাট-বল্টু খোলা বায়েজিদের দায় নিচ্ছে না কোনো দল

  পটুয়াখালী প্রতিনিধি  

২৭ জুন ২০২২, ১৯:৪২:৩৪  |  অনলাইন সংস্করণ

সদ্য উদ্বোধন হওয়া পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় সিআইডি পুলিশের হাতে আটক হওয়া বায়েজিদকে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে তার নিজ জেলা পটুয়াখালীতে।

সমালোচিত কাণ্ড নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য পোস্ট করছে তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুকে। এছাড়াও ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী সম্বলিত বায়েজিদের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী। তবে এসব ক্ষেত্রে বায়েজিদের দায় নিতে চাচ্ছে না কেউ। তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন তারা।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার তেলীখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিনের ছোট ছেলে এই বায়েজিদ তালহা।

এ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লবের দাবি, বায়েজিদ এসএসসি পাশ করে ঢাকায় চলে যায়। সে কখনই ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। বরং বায়েজিদের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে সখ্যতা আছে এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে তার ছবি ফেসবুকে রয়েছে। তবে পদ্মা সেতু দেশের অর্জন এটা অস্বীকার করা সুযোগ নাই। কিন্তু সেতুর নাট-বল্টু সংযোজনে ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করে ঝুঁকিমুক্ত করা উচিত।

এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বিএনপি নেতা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনের সঙ্গে বায়েজিদকে ঘনিষ্ঠতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়াও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঘটনা অস্বীকার করা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী আশফাকুর রহমানের সঙ্গেও বায়েজিদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে; যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সুশীল সমাজে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

অপরদিকে কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রব্বানীর সঙ্গে বায়েজিদের ঘনিষ্ঠতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বায়েজিদের ছবি দেখা গেছে।

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল-হেলাল নয়ন বলেন, বায়েজিদ এখন বিএনপি ও ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত নয়।

অপরদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হৃদয় আশীষ বলেন, নাট-বল্টু খুলে আটক হওয়া বায়েজিদ তৎকালীন সময়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন মোহনের সঙ্গে ছাত্রদলের রাজনীতি করত। এছাড়াও বায়েজিদ এনায়েত হোসেন মোহনের আপন চাচাতো ভাই এবং তারা একই বাড়ির।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দেওয়া যন্ত্রণা উপেক্ষা করে সেতু নির্মাণ হয়েছে, তা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ধৃষ্টতার শামিল। পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপির লাগামহীন ষড়যন্ত্রের এটিও একটি অংশ। সরকারকে বিব্রত করতে পরিকল্পিতভাবে এ ভিডিও বার্তা ছড়ানো হয়েছে। ভিডিও ধারণের পূর্ব মুহূর্তে নাট-বল্টু খুলে রাখা হয়েছে। পরে সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত এটাকে গুরুত্ব দিয়ে মূল ঘটনা উৎপাটন করে ব্যবস্থা নেওয়া। বায়েজিদ ছাত্রলীগের কেউ নয়।

প্রসঙ্গত, রোববার পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে তা ভিডিও করে টিকটক বানানো এবং ব্যক্তিগত ফেসবুকে আপলোড করে বায়েজিদ তালহা ওরফে বায়েজিদ। এ ঘটনা দেশব্যাপী ছড়িয়ে গেলে হৈ চৈ পড়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সিআইডি পুলিশ তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

নাট-বল্টু খোলা বায়েজিদের দায় নিচ্ছে না কোনো দল

 পটুয়াখালী প্রতিনিধি 
২৭ জুন ২০২২, ০৭:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সদ্য উদ্বোধন হওয়া পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় সিআইডি পুলিশের হাতে আটক হওয়া বায়েজিদকে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে তার নিজ জেলা পটুয়াখালীতে।

সমালোচিত কাণ্ড নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য পোস্ট করছে তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুকে। এছাড়াও ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী সম্বলিত বায়েজিদের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী। তবে এসব ক্ষেত্রে বায়েজিদের দায় নিতে চাচ্ছে না কেউ। তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন তারা।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার তেলীখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিনের ছোট ছেলে এই বায়েজিদ তালহা।

এ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লবের দাবি, বায়েজিদ এসএসসি পাশ করে ঢাকায় চলে যায়। সে কখনই ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। বরং বায়েজিদের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে সখ্যতা আছে এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে তার ছবি ফেসবুকে রয়েছে। তবে পদ্মা সেতু দেশের অর্জন এটা অস্বীকার করা সুযোগ নাই। কিন্তু সেতুর নাট-বল্টু সংযোজনে ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করে ঝুঁকিমুক্ত করা উচিত।

এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বিএনপি নেতা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনের সঙ্গে বায়েজিদকে ঘনিষ্ঠতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়াও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঘটনা অস্বীকার করা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী আশফাকুর রহমানের সঙ্গেও বায়েজিদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে; যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সুশীল সমাজে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

অপরদিকে কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রব্বানীর সঙ্গে বায়েজিদের ঘনিষ্ঠতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বায়েজিদের ছবি দেখা গেছে।

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল-হেলাল নয়ন বলেন, বায়েজিদ এখন বিএনপি ও ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত নয়। 

অপরদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হৃদয় আশীষ বলেন, নাট-বল্টু খুলে আটক হওয়া বায়েজিদ তৎকালীন সময়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন মোহনের সঙ্গে ছাত্রদলের রাজনীতি করত। এছাড়াও বায়েজিদ এনায়েত হোসেন মোহনের আপন চাচাতো ভাই এবং তারা একই বাড়ির।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দেওয়া যন্ত্রণা উপেক্ষা করে সেতু নির্মাণ হয়েছে, তা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ধৃষ্টতার শামিল। পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপির লাগামহীন ষড়যন্ত্রের এটিও একটি অংশ। সরকারকে বিব্রত করতে পরিকল্পিতভাবে এ ভিডিও বার্তা ছড়ানো হয়েছে। ভিডিও ধারণের পূর্ব মুহূর্তে নাট-বল্টু খুলে রাখা হয়েছে। পরে সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত এটাকে গুরুত্ব দিয়ে মূল ঘটনা উৎপাটন করে ব্যবস্থা নেওয়া। বায়েজিদ ছাত্রলীগের কেউ নয়।

প্রসঙ্গত, রোববার পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে তা ভিডিও করে টিকটক বানানো এবং ব্যক্তিগত ফেসবুকে আপলোড করে বায়েজিদ তালহা ওরফে বায়েজিদ। এ ঘটনা দেশব্যাপী ছড়িয়ে গেলে হৈ চৈ পড়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সিআইডি পুলিশ তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পদ্মা সেতু নির্মাণ