‘ভারতের সহায়তা চাই’, পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের নেতার ভিডিও ভাইরাল
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টানা ২৭ দিন ধরে চলা তীব্র অসহযোগ আন্দোলনে কার্যত অচল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর। আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান আর সরকারের কঠোর দমননীতি দুয়ে মিলে অঞ্চলটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। তবে সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা অন্তত ২০।
এ ছাড়া পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত এবং এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় কাশ্মীরে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যে কাশ্মীরের জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতা সরদার আমান খান ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক অভিযান চালানোর পর ইসলামাবাদ ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে।
জেএএসি নেতা নয়াদিল্লির প্রতি মানবিক সহায়তা পাঠানোর এবং নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
তার যুক্তি, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বেসামরিক মানুষের যেন ভারতে যাওয়ার সুযোগ বেছে নেওয়ার অধিকার থাকে।
আরও পড়ুন
সম্প্রতি জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতা সরদার আমান খানের এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে খানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের ভারতের সহায়তা দরকার। খাদ্যসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে... আমাদের আপনাদের সহায়তা প্রয়োজন।’
তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান জোরদার হওয়ায় কাশ্মীরের বাসিন্দারা খাদ্য ও ওষুধের সংকটে পড়েছেন। এতে সেখানে গুরুতর মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে খান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কি নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) দিকে এগিয়ে যাব?’ জবাবে জনতা বারবার স্লোগান দেয়, ‘এগিয়ে চলুন।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের দাবির জবাবে যদি কর্তৃপক্ষ গুলি চালায়, তাহলে ‘আমাদের সামনেও অন্য পথ খোলা রয়েছে।’
জেএএসি নেতা পুঞ্চ ও ডোডা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) খুলে দেওয়ারও আহ্বান জানান। তার দাবি, ইসলামাবাদের দমন অভিযান ওই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
তবে এনডিটিভি ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওটি ৩০ জুনে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশের।
গত ৫ জুন থেকে বিধানসভায় সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে আজাদ কাশ্মীরের রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন ডাকা হরতালের পর থেকেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়।
"Help Us, India": PoJK Protesters Make Direct Appeal Amid Food Shortage
— OsintTV 📺 (@OsintTV) July 5, 2026
On the 26th day of protests, one of the main protest leaders, Sardar Aman Khan, appealed to the people across the Line of Control and to India for help, alleging that Pakistan has blocked food and medicine… pic.twitter.com/DRg3z2AlrL
এদিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।
পিটিআইয়ে এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে পিটিআই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের জন্য নয়; বরং কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান জানাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে পিটিআই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দল।
দলটি জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-এর চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আজাদ কাশ্মীরে স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না।
