Logo
Logo
×

অন্যান্য

বিএনপির বিদ্রোহী হাসান মামুনকে থামাতে নানা কৌশল নুরের

Icon

জলিল রহমান, পটুয়াখালী

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

বিএনপির বিদ্রোহী হাসান মামুনকে থামাতে নানা কৌশল নুরের

ফাইল ছবি

নৌকা নেই, ধানও নেই পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে। এবারের নির্বাচন যেন চেনা রাজনীতির সব সমীকরণ ভেঙে দিয়েছে। প্রায় চার দশক ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে দলটির প্রার্থী না থাকায় ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা। আর সেই শূন্যতা দখলের প্রতিযোগিতায় একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ফলে ভোটের হিসাব এখন জটিল, অনিশ্চিত এবং সহিংসতার ঝুঁকিতে।

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার প্রার্থী। বিএনপির সঙ্গে জোটের ভিত্তিতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তার বিপরীতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন ঘোড়া প্রতীকে মাঠে রয়েছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মো. শাহ আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মুফতি আবু বকর সিদ্দীক হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে দাঁড়ানোয় হাসান মামুনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে নুরুল হক নুর বিএনপির সমঝোতার প্রার্থী হলেও তার অতীত রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক। এসব কারণে ভোটের মাঠে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে।

আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে নুর ও মামুনের পালটাপালটি কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। সর্বশেষ শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের চত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা একই দিন ও একই স্থানে নির্বাচনি কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কয়েকটি কর্মসূচি স্থগিতও করা হয়েছে। প্রশাসনের এই কড়াকড়িতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটই এবার আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। বিভিন্ন গ্রাম ও মহল্লার ভোটাররা জানান, ট্রাক ও ঘোড়া— দুই পক্ষই নীরবে আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। এক প্রবীণ ভোটার বলেন, এই এলাকা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এবার দল নাই, কিন্তু ভোট আছে। ভোট যেদিকে যাবে, এমপিও সেদিকেই যাবে।

নুর ও মামুনের প্রকাশ্য টানাপোড়েনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রচার তুলনামূলকভাবে নীরব। গলাচিপা বন্দরের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দুইজন যেভাবে মুখোমুখি লড়তেছে, এতে অন্য প্রার্থীরাও সুযোগ নিতে পারে। শেষ মুহূর্তে হিসাব পালটে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

বিএনপির ভেতরেও বিভাজন স্পষ্ট। মাঠপর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী শুরু থেকেই দ্বিধায় রয়েছেন। দশমিনা শ্রমিক দলের এক নেতা বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনেকেই ট্রাক প্রতীকে ভোট দেবে। আবার কিছু নেতাকর্মী ঘোড়ার পক্ষে কাজ করছেন; কিন্তু বাস্তবতা হলো—এটা আওয়ামী লীগের এলাকা, এখানে হিসাব এত সহজ না।

এদিকে আওয়ামী লীগের কিছু নীরব সমর্থক হুমকি ও চাপের অভিযোগ তুলে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানিয়েছেন। এতে ভোটের উপস্থিতি ও ফলাফল—দুটিই প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শুধু পটুয়াখালী–৩ নয়, জেলার অন্য আসনগুলোতেও একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- আওয়ামী লীগের ভোট যাবে কোন দিকে? পটুয়াখালী–২, ৩ ও ৪ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে আসায় এবার তাদের ভোটই হয়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জয়–পরাজয়ের মূল নিয়ামক।

ঘটনাপ্রবাহ: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম