রায় বাতিল করে গ্রেনেড হামলা মামলার পুনঃতদন্ত দাবি বিএনপির

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

রিজভী
ফাইল ছবি

রায় বাতিল করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পুনঃতদন্ত দাবি করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় বাতিল করতে হবে।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দকে বাদ দিয়ে নিরপেক্ষভাবে পুনঃতদন্ত করে পুনরায় বিচার কার্যক্রম শুরু করার দাবিও জানান বিএনপির এ নেতা।

২১ আগস্টের গ্রেনেড বোমা হামলা নিয়ে শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আচরণ, বক্তব্য ও মন্তব্য সামঞ্জস্যহীন ও রহস্যাবৃত বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মুক্তাঙ্গনে পুলিশের অনুমতি নিয়ে কেন সেদিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করল?

রিজভী বলেন, বিএনপি সরকারের সময় বাংলাদেশ পুলিশি রাষ্ট্র ছিল না। অবারিত ছিল গণতন্ত্র। রাজধানীতে জনসভার জন্য সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণের পর নিয়ম ছিল মাইক ব্যবহারের অনুমতি নিতে হতো পুলিশের কাছ থেকে।

তিনি বলেন, মূল চার্জশিট দাখিলকারী কর্মকর্তা এএসপি ফজলুল কবিরের কাছে গত ২০০৭ সালের ২২ নভেম্বর জবানবন্দি প্রদানকালে সমাবেশে পুলিশের অনুমতি না দেয়ার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

‘অথচ সমাবেশে পুলিশের অনুমতি প্রদান না করার বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২০ আগস্ট তারিখ থেকে ২০০৭ সালের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় সোয়া তিন বছর সময়কালে কখনই কোনো সভা-সমিতি-সাক্ষাৎকার-আলোচনাসভা-বিজ্ঞপ্তি ও প্রচারণায় কোথাও তিনি উল্লেখ করেননি।’

রিজভী আরও বলেন, ২০ আগস্ট সমাবেশ অনুষ্ঠানের আগের দিন বিকালে মহানগরের বেরাইদ স্কুল মাঠে এক জনসভায় দীর্ঘ বক্তৃতা করেন শেখ হাসিনা। সেই বক্তৃতায়ও তিনি অনুমতি না প্রদানের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

‘২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সেই সমাবেশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায় ২০-২২ মিনিট ধরে বক্তৃতা করেন। সেই বক্তৃতায়ও তিনি একটিবারের জন্যও বলেননি- পুলিশি অনুমতি না পাওয়ার কারণে তাকে মুক্তাঙ্গনে সভা না করে এখানে করতে হচ্ছে’, যোগ করেন রিজভী।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ২১ আগস্ট মর্মান্তিক ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকার দেন। সেই সাক্ষাৎকারেও তিনি এমন অনুমতি না প্রদানের বিষয়ে কোনো শব্দই উচ্চারণ করেননি।

রিজভী বলেন, ২০১২ সালের ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে টিভিতে প্রচারিত এক বক্তব্যে বলেছিলেন- ২০০৪ সালের ২০ আগস্ট রাতে পুলিশ সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালের ২২ আগস্ট শেখ হাসিনার এ বিষয়ক বক্তব্য দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় ছাপা হয়। যার বিবরণ এমন- ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, শেষ রাতে অনুতির কারণ কি ছিল?’ ...প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- ‘ব্রিটিশ হাইকমিশনারের হামলার পর আমরা মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। শেষ রাতে অনুমতি দেয়া হয়। কেন তা দেয়া হয়েছিল?’

রিজভী বলেন, প্রশ্নাতীতভাবে সত্য যে, পুলিশ ১৯ আগস্ট তাদের অনুমতি দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা মিলছে না।

তিনি আরও বলেন, ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট আওয়ামী লীগ মুক্তাঙ্গনে সমাবেশের জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমতি গ্রহণের পর পুলিশের কাছে মাইক ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন করে। ১৯ আগস্ট সমাবেশ করার লিখিত অনুমতি দেয়।

‘মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ তিন দিন ধরে প্রচার-প্রচারণা চালাল, আর ২১ আগস্ট সমাবেশের দিন হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদল করে কেন দলীয় অফিসের সামনে গেল? এতে কারও বুঝতে বাকি থাকে না, এর মধ্যে কোনো দুরভিসন্ধি কাজ করেছে’, যোগ করেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়নি, অথচ ফরমায়েশি রায় চাপিয়ে দেয়া হল। আইন, বিচার ও প্রশাসনকে প্রতিহিংসা পূরণের হাতিয়ার করে আওয়ামী লীগের ক্রমান্বয়ে দানবীয় আত্মপ্রকাশ জাতির জীবনপ্রবাহ রুদ্ধ করার অভিঘাত।

তিনি আরও বলেন, সত্য ঘটনাকে মিথ্যা হিসেবে অভিহিত করা আর মিথ্যাকে সত্য বলা আওয়ামী লীগের আদর্শিক চেতনা। জনগণকে তারা এতটাই অপাংক্তেয় মনে করে যে, তাদের ধোঁকাবাজি জনগণ টের পাবে না।

ঘটনাপ্রবাহ : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter