Logo
Logo
×

রাজনীতি

নিজামী মুজাহিদ সাঈদীর জন্য সংসদে শোক

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

নিজামী মুজাহিদ সাঈদীর জন্য সংসদে শোক

মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আওয়ামী লীগ শাসনামলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর ৬ শীর্ষ নেতা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক এক সদস্যকে স্মরণ করে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

এছাড়াও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের দুইবারের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে এ সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হয়।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও শিয়া মুসলিম ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পরে তা সংসদে গৃহীত হয়। 

শোক প্রস্তাবে জামায়াতে ইসলামীর যেসব শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নাম উল্লেখ করা হয় তারা হলেন—জামায়াতের সাবেক আমির ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও কর্মপরিষদ মীর কাসেম আলী। বিএনপির সাবেক এমপি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন—সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী।  

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লিখিত সাতজনকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃতুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাঈদী কারাগারে মারা যান। আর ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাকি ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

বৃহস্পতিবার স্পিকার নির্বাচনের পর তার সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশন শুরু হলে খালেদা জিয়াসহ দেশি বিদেশি বিশিষ্টজন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিহত এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

এরপর বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে বক্তব্যের ফ্লোর দেওয়া হলে তিনি বলেন, শোকপ্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে। সেগুলো বলার জন্য তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে কথা বলার অনুরোধ করেন। স্পিকার তাকে মাইক দেন।

বিরোধী দলের উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন,  শোকপ্রস্তাব “একপেশে করে তৈরি করা হয়েছে” এবং ভবিষ্যতে সংসদকে “নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত” করতে আরও সচেতন হওয়া দরকার। এ সময় তিনি আরও কয়েকজনের নাম বলে সেগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

বক্তব্যে তিনি বলেন, সাবেক মন্ত্রী শহিদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সাবেক সংসদ মাওলানা আবদুস সোবহান, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আনছার আলী,  সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা রিয়াসাত আলী,  সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আবদুল খালেক মণ্ডল,  সাবেক সংসদ সদস্য হাফেজা আছমা খাতুন, রোকেয়া আনছার, সুলতানা রাজিয়া, রাশেদা খাতুন, সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এ কে এম ইউসুফ, নাজির আহমেদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাসেম আলীর নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার আহ্বান করছি।

বিরোধী দলের উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রসঙ্গে শোকপ্রস্তাবে ‘জামায়াতে ইসলামীর বদলে ‘হেফাজতে ইসলামী’ বলা উচিত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিহতদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেখানে ‘প্রায় দুই হাজার শহীদের’ কথা বলেন এবং শরিফ ওসমান হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা যাদের নাম বলেছেন, সেগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম আরও কয়েকটি নাম যুক্ত করার অনুরোধ জানান। তার প্রস্তাবে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছাড়াও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নাম যুক্ত করার কথা বলা হয়। পরে স্পিকার তা অনুমোদন করেন।

শোকপ্রস্তাবে আরও কিছু নাম সংযোজিত হবে বলে জানান স্পিকার। তারা হলেন—ছালেহা খানম, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, কামাল ইবনে ইউসুফ ও নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু।

এরপর প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম আরও কয়েকটি নাম যোগ করার প্রস্তাব দেন। তিনি গৌতম চক্রবর্তী, এম এ মতিন, কিশোরগঞ্জের সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, আনোয়ারুল হোসেন খান এবং এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার কথা বলেন। অন্য কোনো সাবেক সংসদ সদস্য বা বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম বাদ পড়ে থাকলে তা সংসদ সচিবালয়কে জানাতে অনুরোধ করেন।

এরপর সংসদে বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, এই সংসদ জুলাই আন্দোলনে শহিদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে অন্যায়ভাবে আমাদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আমিও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলাম, জুলাই অভ্যুত্থান না আমাকেও ফাঁসি দিয়ে দিত। আজ যে আমার নির্বাচনি এলাকা রংপুর ২ আসনের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কথা বলতে দাঁড়িয়েছি এর কৃতিত্ব জুলাই আন্দোলনের শহিদ ও আহতরা। জুলাই যোদ্ধাদের কারণে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংসদ পেয়েছি।

ঘটনাপ্রবাহ: ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম