Logo
Logo
×

রাজনীতি

রাজপথের লড়াই থেকে আর্তমানবতার সেবায় ছাত্রদল নেতা মাহবুব আলম

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

রাজপথের লড়াই থেকে আর্তমানবতার সেবায় ছাত্রদল নেতা মাহবুব আলম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক পরিচয় যখন কেবল স্লোগান আর মিছিলের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখনই রাজনীতির প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল শাখার সভাপতি মাহবুব আলম শাহীনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ছাত্র রাজনীতির সেই ইতিবাচক এবং দায়িত্বশীল রূপটিই সামনে নিয়ে এসেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা; তার এই পথচলা প্রমাণ করে একজন ছাত্রনেতার মূল দায়বদ্ধতা মানুষের প্রতি।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজপথের প্রথমসারিতে সক্রিয় ছিলেন মাহবুব আলম। বিশেষ করে চানখারপুলের মতো সংঘাতপূর্ণ ও উত্তাল এলাকায় তার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অতীতে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথের লড়াইয়ে অংশ নিয়ে তিনি অসংখ্যবার পুলিশি হামলার শিকার হয়েছেন।

জানা গেছে, আন্দোলনের দিনগুলোতে যখন হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড়, শাহীন তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেখানে ১৫৫ জন গুলিবিদ্ধ ও আহত রোগীকে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নগদ অর্থ ও খাবার সরবরাহ করেন। আহতদের জীবন বাঁচাতে তিনি ও তার সঙ্গীরা ১৮ জুলাই থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ২৫৫ ব্যাগেরও বেশি রক্ত সংগ্রহ করে দেন। 

শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে ফেনী ও কুমিল্লার প্রান্তিক জনপদে ছুটে গেছেন তিনি। ফুলগাজী ও চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে ১৫০০-এর বেশি পরিবারকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পৌঁছে দিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গনেও এক নীরব অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছেন এই ছাত্রনেতা। আর্থিক টানাপোড়েনে যেন কারও পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেজন্য সম্পূর্ণ নাম-পরিচয় গোপন রেখে তিনি ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জন্য মোট ৬ জন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভার গ্রহণ করেছেন। 

তার মানবিক উদ্যোগের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হলো গত ২২ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বয়োবৃদ্ধ রিকশাচালক বাবুল ঢালীকে একটি সবজিভর্তি ভ্যান উপহার দেওয়া। এই বাবুল ঢালী ২০১৮ সালের এক উত্তাল আন্দোলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নিজের রিকশায় বহন করেছিলেন। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এই শ্রমজীবী মানুষের শারীরিক কষ্ট লাঘব করতেই শাহীন তার হাতে এই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তুলে দেন।

আগামীর ছাত্র রাজনীতি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে মাহবুব আলম শাহীন বলেন, ছাত্র রাজনীতির অর্থ কেবল রাজপথের স্লোগান বা ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার ও জীবনের সুরক্ষা দেওয়া। আমরা এমন এক আগামীর স্বপ্ন দেখি, যেখানে ছাত্র রাজনীতি হবে গণমানুষের আস্থার সবচেয়ে শক্ত আশ্রয়স্থল। মেধা, মানবিকতা আর সাধারণ মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ দায়বদ্ধতাই হবে আমাদের রাজনীতির মূলভিত্তি।

তার এই কাজ এবং বক্তব্য প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মেধা, মনন ও সেবামূলক এমন নেতৃত্বের হাত ধরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আগামীতে একটি স্নিগ্ধ, মানবিক এবং সাধারণ মানুষের ভরসার সংগঠনে পরিণত হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম