তফসিল ঘোষণার পর ঐক্যফ্রন্ট কোন পথে এগোবে?

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

তফসিল ঘোষণার পর ঐক্যফ্রন্ট কোন পথে এগোবে?
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল পেছাতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা দেখিয়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবারই তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসি।

গত ১ নভেম্বর সরকারের সঙ্গে সংলাপে তেমন কোনো সমাধান না পাওয়া ফের দ্বিতীয় দফায় বুধবার সংলাপে বসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু সেই সংলাপেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তবে কি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বন্ধ হচ্ছে? এখন তফসিল ঘোষণার পর বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট কোন পথে এগোবে?

এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আলোচনার পথ কোনো অবস্থাতেই বন্ধ হওয়া উচিত নয়। সুষ্ঠু সমাধানের জন্য উচিত শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাওয়া।

তিনি বলেন, 'আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছি শুধু সেই লক্ষ্যেই যে সবকিছু একটা আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে হোক। তবে সরকার এ নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দুই দফা আলোচনায় বসেছে।

সেখানে, সরকার কোন জায়গাগুলোয় ছাড় দিতে পারে এবং ঐক্যফ্রন্ট তাদের দাবিগুলোর কতটুকু পর্যন্ত ছাড় দিতে পারে- সে বিষয়ে আলোচনা হয়।কিন্তু সরকারের বক্তব্য এক্ষেত্রে স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, 'আমরা সরকারের বক্তব্যের যুক্তি বুঝি না। তারা জনসমক্ষে বলেন- সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু বা সংবিধানের বাইরে কিছু তারা করতে রাজি না। কিন্তু সংসদ ভেঙে দেয়া বা বাতিল করাটা সংবিধান অনুযায়ী হতে পারে। এজন্য সংবিধান সংশোধন করা লাগে না।'

এছাড়া ইভিএম বন্ধ করার ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেন এ বিএনপি নেতা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করার জন্য নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীকে মোতায়েন করা, সেটা তাদেরকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে হোক বা না দিয়ে হোক। সে ব্যাপারেও সংবিধানে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

ঐক্যফ্রন্টের এই দাবিগুলো যদি সরকার মেনে নেয় তাহলে বিএনপি কি নির্বাচনে অংশ নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'না, আমরা বলতে চাই যে আমাদের যে নির্দলীয় সরকারের দাবি, সেটাও আছে আমাদের। কিন্তু এই দাবিগুলো মেনে নিয়ে যদি সরকার বলতো যে আপনাদের নির্দলীয় সরকারের দাবিটা সংবিধানের সঙ্গে যায় না। আমরা সেজন্য সেটা মানতে পারবো না। তাহলে আমরা বিবেচনা করে দেখতাম যে, আমরা কী করতে পারি। আর সেখানে কিন্তু একটা সমঝোতার পরিবেশ অন্তত সৃষ্টি হতো।'

কিন্তু সরকার তার অবস্থানে অনড় ভূমিকায় রয়েছে এবং বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে চাইছে না বলে মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।

তাহলে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কি সেই ২০১৪ সালের নির্বাচন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে? বিএনপি কি তাহলে নির্বাচন বর্জনের পথটাকেই বেছে নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, 'না, আমরা এখনো ঠিক ওইরকম কিছু ভাবি না। আমরা মনে করি এখনো সময় আছে, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সরকার গণতন্ত্রের স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত আচরণ করবে। আমাদের ন্যায়সঙ্গত যে প্রস্তাবগুলো আছে, সেগুলো তারা মেনে নেবে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter