মনোনয়নপ্রত্যাশীসহ বিএনপির ৩৮ জন রিমান্ডে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি নেতাকর্মীদের নেয়া হয় ঢাকার সিএমএম কোর্টে
বিএনপি নেতাকর্মীদের নেয়া হয় ঢাকার সিএমএম কোর্টে। ছবি-যুগান্তর

রাজধানীর নয়পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা তিন মামলায় মোট ৬৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদের মধ্যে ৩৮ জন আসামির প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আর বাকি ২৭ জনকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে যে কোনো তিন কার্যদিবস জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনছারী আসামিদের রিমান্ড ও জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া ৩৮ আসামি হলেন- সাবেক ছাত্রদল নেতা মনোজ সরকার, নেত্রকোনার স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খালিদ সাইফুল্লাহ, ছাত্রদল নেতা ফাহিম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান, ছাত্রদল নেতা উৎপল সরকার, কেন্দ্রীয় বিএনপির কমিটি প্রার্থী সুফিয়ান, জাকির হোসেন, হানিফ উদ্দিন ওরফে রানা, ঢাবির মহসিন হল শাখা ছাত্রদল নেতা মাহবুব মিয়া, আনিসুর রহমান, ছাত্রদলের সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. আতিকুর রহমান তালুকদারর, মাইনুল হাসান মোহন, আনোয়ারুল হক, মোহাম্মদ সুরুজ মোল্লা প্রমুখ।

এছাড়া যাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে তারা হলেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সরকারবিষয়ক সম্পাদক আনিছুজ্জামান খান বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রার্থী ডা. নিজাম উদ্দিন, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার হারুন অর রশিদ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাহারুল আলম বাহার, বিএনপির সক্রিয় কর্মী আলমগীর হোসেন, সোনাগাজী পৌর বিএনপির সভাপতি হোসেন আহম্মদ, বিএনপির সক্রিয় কর্মী তারিকুল ইসলাম, বালিয়াকান্দার যুবদলের সহসভাপতি আরিফুজ্জামান, খায়রুল কবির কাজল, বিএনপির সক্রিয়কর্মী মুসা আহম্মেদ, আবু বক্কও সিদ্দিক।

এছাড়াও এসএম নাজমুল হোসেন, মাসুদ রানা, কেএম তারিকুল ইসলাম আরিফ, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে শামীম, রকিব আল মান্নান , সাইফুল আলম গজনবী চয়ন, ছাত্রদল নেতা মো. মোখসেদ আলম জুয়েল, নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদল সভাপতি ফরিদ হোসেন বাবু, জামায়াতের রোকন জাহিদুল ইসলাম মামুন, ছাত্রদল নেতা মো. রুবেল বেপারী, ২৭নং ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান লিপু, দারুসসালাম থানার ৯নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন ওরফে স্বপন, চাঁদপুর জেলার দক্ষিণ মতলব থানা থানার কাদেরগাঁও ইউনিয়নের বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিলানী তালুকদার, কাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহব্বায়ক মো. লিটন মজুমদার, বিএনপি সদস্য মো. সোহাগ, নাগরপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল কবির প্রমুখ।

এদিন তিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজন কুমার তালুকদার, শেখ মো. জসিম উদ্দিন এবং কাজী আশরাফুল হক তিন মামলায় গ্রেফতার ৬৫ আসামিকে আদালতে হাজির করে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড আবেদন করেন। এদের মধ্যে রিমান্ডে যাওয়া ওই ৩৮ আসামির প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

অপরদিকে রিমান্ড নাকচ করা ওই ২৭ জনের প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

আসামিদের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারিকৃত নির্বাচন আচরণবিধিতে ব্যান্ডপার্টি, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিএনপি নেত্রী আফরোজা আব্বাস এর নেতৃত্বে একটি মিছিল ফকিরাপুলের দিক হতে ব্যান্ডপার্টি, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসে।

এরপর নবী উল্লাহ নবী ও কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে অপর দুটি মিছিল শোডাউন দিয়ে একই দিকে আসতে থাকে এবং এবং সর্বশেষ মির্জা আব্বাস ৮ থেকে ১০ হাজার লোকের একটি মিছিল নিয়ে কার্যালয়ে আসেন। তারা নয়াপলটনের ভিআইপি রোড বন্ধ করে মিছিল ও শোডাউন করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার জন্য তাদের রাস্তার এক লেন ছেড়ে দেয়ার কথা বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়।

তাদের নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘনের বিষয়টি বিএনপি অফিসে অবস্থানরত রুহুল কবীর রিজভীসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের জানানো হয়। অফিসের মাইকের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিতে অনুরোধ করা হয়। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে নয়াপলটনের ভিআইপি রোডে হকস বে নামীয় গাড়ির শোরুমের উত্তর পাশে রাস্তায় আসামিরা বিএনপির পার্টি অফিস থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা কয়েকটি ককটেলও নিক্ষেপ করে। এ সময় তারা ৬০ লাখ টাকার একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে আদালতে আসামিদের রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিদের রিমান্ড শুনানি শেষ হয়। আদালতের এজলাসে আসামিদের জায়গা না হওয়ায় তাদের আদালতের বারান্দায় রেখে রিমান্ড শুনানি করেন বিচারক। শুনানি উপলক্ষে আসামিদের আত্মীয়স্বজন ছাড়াও দলীয় নেতাকর্মীদের আদালত চত্বরে ভিড় জমাতে দেখা যায়।

শুনানির শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি মো. আব্দুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত কৌঁসুলি তাপস কুমার পালসহ অন্যান্যরা জামিনের বিরোধিতা করে রিমান্ড শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, আসামিরা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে একত্র হয়ে পল্টন এলাকা বন্ধ করে দেয়। পুলিশ তাদের বোঝাতে গেলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও জড়িত অপর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন।

অপরদিকে সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মোহসিন মিয়া, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন।

শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। এ সরকারই শেষ সরকার নয়, আরও সরকার আছে। তারা (আসামিরা) নির্বাচন করতে এসেছে। তাদের ছেড়ে দিন। পুলিশ দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করতে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। দেশকে বাঁচাতে ও অরাজগ পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করতে আসামিদের রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেয়া হোক।

মোহসিন মিয়া বলেন, এরা (আসামিরা) নির্বাচন উপলক্ষে একত্র হয়েছিল। সুষ্ঠু পরিবেশ বিশৃঙ্খল করতে সরকারি কিছু লোক মাথায় হেলমেট পড়ে এসব করেছে। সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, আসামিদের মধ্যে ছয় জন আছেন যারা মনোনয়নের জন্য এসেছিলেন। তাদের কেন গ্রেফতার করা হল?

এ ছাড়া বাহারুল্লাহ বাহার নামের এক আসামিকে মসজিদে নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় এবং এক ডাক্তারকে সেখান দিয়ে রোগী দেখে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশের একটি পিকআপভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এতে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা, দুজন আনসার সদস্যসহ ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় বুধবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে রাজধানীর পলটন থানায় ওই তিন মামলা দায়ের করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×