ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে জাফরুল্লাহর ৫ প্রস্তাব

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ফাইল ছবি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে পাঁচটি প্রস্তাব যুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি তার প্রস্তাবে মানুষের কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বারোপের বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন। খবর যমুনা টিভির।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি আমার প্রস্তাব তুলে ধরছি। আশা করি নেতারা এটা আমলে নেবেন।

তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের কী লাভ হবে এটা পরিষ্কার করতে হবে। মানুষের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে, প্রশ্ন তুলতে হবে।

তার প্রস্তাবে আছে আইন ও বিচার বিভাগের সংস্কার, বিচারকদের স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতি, গণভোট ও ন্যায়পাল নিয়োগের প্রস্তাব থাকছে। থাকছে কৃষক-শ্রমিকদের বাড়তি প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাবও।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ৫ প্রস্তাব

১. (ক) স্থানীয় সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন খরচের সর্বোচ্চ দ্বিগুণ মূল্য স্থির হবে বিক্রয়মূল্য হিসেবে এবং নগরবাসী কৃষিপণ্য পাবেন উৎপাদক সমবায় সমিতির নির্ধারিত মূল্যের সর্বোচ্চ ২-৩ গুণ বেশি মূল্যে। অর্থাৎ কৃষকের ১ কেজি পণ্যের স্থানীয় বিক্রয় দর ৫ টাকা হলে নগরবাসী তা পাবেন ১০-১৫ টাকায়।

(খ) প্রয়োজনমাফিক সব কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য ভর্তুকি দেয়া হবে, যেন কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং ভারত ও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে কৃষিজাত পণ্যের আমদানি কমে।

২. বাজারমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ হবে এবং সামরিক বাহিনীর দরে সব শ্রমিককে রেশন দেয়া হবে। শ্রমিকরা মাসিক মাত্র ২৫০ টাকা প্রিমিয়ামে সব স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিমা সুবিধা পাবেন। শ্রমিকরা কেবল ওষুধের মূল্য দেবেন।

৩. (ক) সারা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দ্রুত উন্নয়নের নিমিত্তে ‘১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতির’ সুষ্ঠু প্রয়োগ হলে তিন মাসের মধ্যে সব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য ন্যূনতম অর্ধেক হবে এবং সব ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার দর কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কমে আসবে। হৃদরোগের চিকিৎসা খরচও একই হারে কমবে। প্রাথমিক অবস্থায় ঢাকা শহরে নতুন কোনো হৃদরোগের সরকারি হাসপাতাল তৈরি না করে ৮টি প্রধান শহরে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

(খ) গ্রামীণ জনসাধারণকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সব ইন্টার্ন চিকিৎসককে এক বছর ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণকেন্দ্রে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করে এক বছর প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে।

(গ) সব বড় ও জেলা শহরে জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স প্রথা চিকিৎসা সৃষ্টি করে দ্রুত যথাযথ চিকিৎসার জন্য রেফারেল ব্যবস্থা শুরু হবে।

(ঘ) আইনের সংশোধন করে অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়মাবলি সহজলভ্য করা হবে। বাংলাদেশের সর্বত্র ৬ মাসের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন হবে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকায়।

৪. (ক) দুই বছরের মধ্যে ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটের কর্মসংস্থান হবে।

(খ) সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তিন মাস বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষা দেয়া হবে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে।

(গ) বয়োবৃদ্ধরা অর্ধেক মূল্যে বাস ও ট্রেনে ভ্রমণ সুবিধা পাবেন এবং শিক্ষিত বয়োবৃদ্ধদের জন্য অবৈতনিক কর্মসংস্থান হবে।

৫. (ক) মুখে রক্ত সঞ্চার স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়, বরং মৃত্যুর ঘণ্টা। ঢাকা শহরে আর একটিও সরকারি বিল্ডিং, এমনকি সরকারি হাসপাতালও নয়। দুই বছরের মধ্যে প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও টেক্সট বই প্রকাশনা, গণপরিবহন, নারী উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ ব্যবস্থাপনা ৮টি প্রদেশ বা ১৭টি স্টেটভিত্তিক বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকবে সুপ্রিমকোর্ট, সেনাবাহিনী, পররাষ্ট্র, বৈদেশিক বাণিজ্য, বিমান ও সমুদ্রবন্দর, আন্তঃজেলা মহাসড়ক এবং ইনকাম ট্যাক্স ও শুল্ক ব্যবস্থাপনা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও নৌবাহিনীর সদর দফতর এবং নৌ ও বন্দর মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হবে।

(খ) আইন ও বিচার বিভাগের সংস্কার, বিচারকদের স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতি ও বিচারকাজে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। হাইকোর্টের বিচারপতিদের বার্ষিক ছুটি ৪ সপ্তাহে সীমিতকরণ এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে মামলার রায় চূড়ান্ত করা হবে। সব সিভিল ও ক্রিমিনাল মানহানি মামলায় বাধ্যতামূলক কোর্ট ফি নির্ধারণ, পুলিশ বা অন্যভাবে সৃষ্ট মিথ্যা মামলার জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা এবং কেবল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাসস্থানের শহর-আদালতে মানহানির মামলা করতে হবে, অন্যত্র নয়। অহেতুক মামলার জট কমানোর লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মানহানির মামলা করতে পারবেন না।

(গ) আইনের অপপ্রয়োগ নয়, সঠিক প্রয়োগই লক্ষ্য। খুনের মামলা ছাড়া অন্য মামলার আসামিদের হাইকোর্টে জামিন হলে সরকার সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে অহেতুক সময় ও অর্থ ব্যয় করবে না।

(ঘ) সংবিধানের সংস্কার করা হবে, গণভোট, ন্যায়পাল নিয়োগ হবে। আলাদা সাংবিধানিক কোর্ট স্থাপন করা হবে প্রত্যেক প্রদেশ বা স্টেটে। সুপ্রিমকোর্ট বসবে কেন্দ্রীয় রাজধানীতে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×