নাজমুল হুদার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তায়

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০২:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

নাজমুল হুদার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিয়তায়
ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। ফাইল ছবি

দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার মামলায় সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে চার বছর কারাদণ্ড দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। এতে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে ৬৭ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ পায়। প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণার একবছরেরও বেশি সময় পর এই রায়টি প্রকাশিত হলো।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি করা হলে তা জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি ও দেশের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আরো বলা হয়, নাজমুল হুদার আপিলের কোনো সারবত্তা পাওয়া যায়নি। আপিল খারিজ করা হল। বাকি সাজা ভোগ করতে বিচারিক আদালতের রায়ের কপি গ্রহণের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিলকারী (নাজমুল হুদা) বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

এতে ব্যর্থ হলে বিচারিক আদালত তার গ্রেফতার নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য মীর আকতার হোসেন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদা।

বিএনপি সরকারের আমলে তিনি যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে এ টাকা জমা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।

এ মামলায় ২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট নাজমুল হুদাকে সাত বছর ও তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২০ মার্চ হাইকোর্ট তাদের খালাস দেন।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। আপিল বিভাগ ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় বিচার করার নির্দেশ দেন।

পুনঃশুনানি শেষে গত বছরের ৮ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে নাজমুল হুদাকে চার বছর কারাদণ্ড ও সিগমা হুদাকে তার কারাভোগ কালকে সাজা হিসেবে ঘোষণা করেন।

রায়ের কপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে আদালত তাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু নাজমুল হুদা আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিট করেন।

রিটটি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এরপর তিনি আত্মসমর্পণ ছাড়াই আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। এ বছরের ৭ জানুয়ারি সেই আবেদনও খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

ফলে এ মামলায় নিম্ন আদালতে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতেই হচ্ছে।

বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের দেয়া রায়ে বলা হয় দুর্নীতি একটি অভিশাপ। সমাজের সবক্ষেত্রে দুর্নীতি দেখা যায়। দুর্নীতি সমাজের নৈতিক অবস্থা নষ্ট করে এবং সরকারি কর্মচারীর দুর্নীতি কেবল নৈতিক অবস্থাই নষ্ট করে না বরং এটি জাতীয় অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।

‘সরকারের উচ্চপর্যায়ে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি করা হলে তা জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি ও দেশের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন নাজমুল হুদা দম্পতি।

তবে নাজমুল হুদাকে আপিল করার আগে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পন করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুদক আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

তিনি বলেন, এ রায়ের কারণে আসন্ন নির্বাচনে নাজমুল হুদা প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলেন।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, রেকর্ডসহ প্রকাশিত রায়টি নিম্ন আদালত যেদিন রিসিভ করবে, সেদিন থেকে আত্মসমর্পণের ৪৫ দিন কার্যকর হবে।

অর্থাৎ হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়টি বিচারিক আদালত যেদিন গ্রহণ করবে, সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

এ অবস্থায় নাজমুল হুদা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না- জানতে চাইলে খুরশীদ আলম খান বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(ঘ) অনুযায়ী আমি মনে করি উনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এটা আমার নিজস্ব আইনি অভিমত।

তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ে যে সাজা দেয়া হয়েছে, উচ্চ আদালতের রায়ে সে সাজা থেকে খালাস পেতে হবে অথবা উচ্চ আদালতে সে সাজা স্থগিত হতে হবে।

‌‘তবেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। যেহেতু উচ্চ আদালতের রায়ে উনাকে চার বছরের সাজা দেয়া হয়েছে, তাই নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তাকে সর্বোচ্চ আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেতে হবে।’

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭-০৮ সালে (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়) তিনটি মামলা হয়। একটি জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে।

দ্বিতীয়টি এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা হিসেবে ছয় লাখ টাকা অবৈধভাবে নেয়ার অভিযোগে।

তৃতীয়টি আকতার হোসেন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর জাহির হোসেনের কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে।

প্রথম মামলাটিতে নাজমুল হুদাকে ১২ বছর সাজা দেন নিম্ন আদালত। আপিলে হাইকোর্ট প্রথম মামলাটি খারিজ করে তাকে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেন। দ্বিতীয় মামলাটির কার্যক্রম আদালতের আদেশে বন্ধ আছে।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিভিন্ন মেয়াদে খাদ্য, তথ্য এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কার আদেশের পরও বিএনপির পরিচয়েই রাজনীতিতে থাকার চেষ্টা করেন।

অবশেষে ২০১২ সালে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স (বিএনএ), বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি) এবং সর্বশেষ ‘তৃণমূল বিএনপি’ গঠন করেন।

সম্প্রতি এ দলটিকে নিবন্ধন দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×