জোবাইদা রহমান কি শিগগিরই দেশে ফিরছেন?

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১১:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

জোবাইদা রহমান কি শিগগিরই দেশে ফিরছেন?
জোবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মাঠের বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষ। জমা নেয়ার কাজও শেষের দিকে।

দলের এই সংকটময় মুহূর্তেও সর্বোচ্চসংখ্যক মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে এক দশক নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকা বিএনপি।

এবার চার হাজার ৫৮০ ফরম বিক্রি করেছে দলটি। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চার হাজার ২৩টি ফরম বিক্রি করে মনোনয়ন বিক্রির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। জাতীয় পার্টি বিক্রি করেছে দুই হাজার ৮৬৫টি ফরম।

মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমাদানে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেলেও শঙ্কাও কম নেই।

দলটির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস সত্ত্বেও এখন দেশব্যাপী দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ ছাড়া বহু নেতাকর্মী জেলে আছেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা যদি প্রচারে না থাকতে পারেন, তবে নির্বাচনী কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে দলের দুই শীর্ষ নেতার নির্বাচনে অংশ নেয়া অনেকটাই অনিশ্চিত। দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত খালেদা জিয়া কারাবন্দি। উচ্চ আদালত তার সাজা মওকুফ কিংবা স্থগিত না করলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন করতে পারছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন।

খালেদা জিয়ার অবর্তমানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা তারেক রহমানও একাধিক মামলায় দণ্ডিত। এর মধ্যে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেকের যাবজ্জীবন দণ্ড হয়েছে।

তারেক রহমান প্রায় এক দশক ধরে লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। খুব শিগগির তার দেশে ফেরা এবং নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোনো সম্ভবনা নেই।

খালেদা জিয়ার জন্য তিন আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হলেও তারেক রহমানের পক্ষে কোনো ফরম নেয়া হয়নি।

এমতাবস্থায় হাজারও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা বিএনপির তৃণমূলে নিযুত নেতাকর্মীদের চাওয়া জিয়া পরিবারের কেউ বিএনপির রাজনীতির হাল ধরুক। একাদশ জাতীয় নির্বাচনী প্রচারে দলকে নেতৃত্ব দিক।

৯০’র দশক থেকে প্রতিটি নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে খালেদা জিয়া নির্বাচনী গণসংযোগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। বিএনপি নেতাকর্মীদের আশঙ্কা- এবার সম্ভবত সেই উদ্দীপনা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাদের।

বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ চাচ্ছে, জিয়ার পরিবারের সদস্য ও খালেদা জিয়ার বড় পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান এবার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিক।

স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এ পেশাদার চিকিৎসক বিএনপির রাজনীতির হাল ধরলে এবং নির্বাচনী প্রচারে এলে তৃণমূলের ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন বলে ধারণা দলটির নেতাদের।

কিন্তু জোবাইদা রহমানের দেশে ফেরা কিংবা নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব কিনা সেটি নিয়েও এক ধরনের ধোঁয়াশা কাজ করছে। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছুই বলতে চাইছেন না বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

তবে লন্ডন বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের শিগগিরই দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার পাসপোর্ট লন্ডন দূতাবাসে আটকা।

জানা গেছে, ডা. জোবাইদা রহমান ২০০১ সালের নির্বাচনে ঢাকার ঠিকানায় তালিকাভুক্ত ভোটার ছিলেন। এক-এগারোর পর পরিবারসহ তিনি লন্ডনে আসেন। এর পর আর দেশে ফেরেননি তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন—এমন আলোচনা দলের ভেতরে-বাইরে দীর্ঘদিনের।

জোবাইদা রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে কিছু দিন আগে ভারতের বহুল প্রচারিত দৈনিক আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অমানিশায় থাকা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিএনপির শীর্ষ দুই নেতৃত্বের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখন জিয়া পরিবারের সদস্য ডা. জোবাইদা রহমানই পারেন দলের হাল ধরতে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জোবাইদা রাজনীতিতে এলে চাঙা হবেন দলের নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক সংকটে দলীয় নেতাকর্মীরা তার কাছ থেকে সঠিক দিশা পাবেন।

আলোচনায় এমনও আছে—খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচন করতে না পারলে জোবাইদা রহমান নির্বাচনে অংশ নেবেন। সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া যে তিন আসনে (বগুড়ার দুটি ও ফেনীর একটি আসন) মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, সেই আসনগুলোতে কিংবা জোবাইদার জন্মস্থান সিলেট-১ আসন থেকেও নির্বাচন করতে পারেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ভারতে গান্ধী পরিবারের নেতৃত্ব ছাড়া কংগ্রেস যেমন চলতে পারে না, বাংলাদেশে শেখ পরিবারের কাউকে ছাড়া আওয়ামী লীগকে যেমন ভাবা যায় না, তেমনি জিয়া পরিবারের নেতৃত্ব ছাড়াও বিএনপি টিকতে পারে না। দলের নেতৃত্বে তরুণ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কোনো গ্রহণযোগ্য মুখ এনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ‘দেশি-বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষীরাও।

বিষয়টি মেনেই জুবাইদাকে রাজনীতিতে আনার কথা ভাবা হয়েছে। সিলেট ও বগুড়ার একাধিক আসনে তাকে প্রার্থীও করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কিন্তু ডা. জোবাইদার একাধিক স্বজন ও পারিবারিকভাবে সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া তো দূরের কথা, শিগগিরই তার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

লন্ডনে স্বামীর সঙ্গে বিয়ে, মিলাদ মাহফিল, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অবশ্য নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন জোবাইদা।

তারেক-জোবাইদা দম্পতি লন্ডন প্রবাসী হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীরা এখানে জোবাইদার বাবা ‘মাহবুব আলী খান স্মৃতি সংসদ’ গঠন করেন।

এ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে নিয়ে নিয়মিত অংশ নেন তারেক রহমান।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান ঢাকার একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ডা. জোবাইদা রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন—এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা ডা. জোবাইদা ১৯৯৫ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। এক-এগারোর সময়ে তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এমডি (কার্ডিওলজি) কোর্সের তৃতীয় পর্বে অধ্যয়নরত অবস্থায় অসুস্থ স্বামীর উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে ছুটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান।

জোবাইদার বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী জিয়াউর রহমানের আমলে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারে তিনি যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী জোবাইদার কাকা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন খানের চাচাতো বোন জোবাইদা চিকিৎসকদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হন।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিন থেকে রেকর্ড নম্বর ও স্বর্ণপদক নিয়ে এমএসসি করেছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×