তৃণমূলে আধুনিক উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই: ডা. নাসির

  ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ব্যুরো ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন
মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে এবার আওয়ামী লীগের চমক মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন। নতুন মুখ হিসেবে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। তাকে ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে চৌগাছা ও ঝিকরগাছাবাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন। সোমবার যুগান্তরের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, তৃণমূলে আধুনিক উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান কাজ। ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩৫ হাজার হেলথ সেন্টার রয়েছে। এখানে মানসম্মত অপারেশনের সুযোগ নেই। সেখানে সংকটগুলো কাটিয়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নেই। এখানে আধুনিক ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন দুটি হাসপাতাল করতে চাই। এই হাসপাতালে সব ধরনের অপারেশনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যেমন-সার্জন, কার্ডিওলজিস্ট, অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হবে। মানুষের আধুনিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যা যা করণীয় সব করা হবে।

দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না উল্লেখ করে মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকাকে দুর্নীতিমুক্ত করব। এখানে চাঁদবাজি, দুর্নীতি যেন না হয়, সেই বিষয়ে আমার অবস্থান কঠোর হবে।

মাদকমুক্ত দুই উপজেলা গড়ার অঙ্গীকার করে অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, মাদকাসক্তদের জন্য আমরা বিশেষ কর্মসূচি (প্রোগ্রাম) করব। আমি যখন বিজিবিতে ছিলাম, তখন মাদক নির্মূলে কাজ করেছি। মাদকাসক্তদের ফিরিয়ে আনতে কাজ করেছি। তাদের মাদক থেকে দূরে রেখে, পুনর্বাসন করেছি। নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত করতে কাজ করব। এমনইভাবে টিনএজারদের (কিশোর) নিয়েও নানা কর্মসূচি করার আছে। সেটি আমি করব।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা করছেন উল্লেখ করেন অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের মূলমন্ত্র গ্রামে হবে; শহরের সুযোগ। অর্থাৎ গ্রামের মানুষ শহরের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি আমি স্থানীয় চাহিদার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিচ্ছি। আমার ইশতেহারেও স্থানীয় উন্নয়নের চাহিদাগুলো স্থান পাবে। স্থানীয়দের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উন্নয়নের চাহিদাগুলোকে গুরুত্ব দিতে চাই।

তিনি উল্লেখ করেন, এ ছাড়াও মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) সাসটেনঅ্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) বাস্তবায়নের যা যা করণীয় সেইগুলো করলে এলাকার অনেক উন্নয়ন হবে। এ ক্ষেত্রে যা যা করণীয়, সেগুলো করবই। সরকারের অনেক সংস্থার উন্নয়নমূলক কর্মসূচি রয়েছে। স্থানীয় জনগণের চাহিদার বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করব।

ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করলে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক ঝিকরগাছা-চৌগাছা গড়তে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা চাই।

বেড়ে ওঠার গল্প

মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন ১৯৫৫ সালে ১ জানুয়ারি যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার ডহরমাগুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ আলী বিশ্বাস। তিনি মাগুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাতা খাইরুন নেছা ছিলেন গৃহিণী।

নাসির উদ্দিন ১৯৬৯ সালে যশোর মুসলিম একাডেমী থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৭১ সালে যশোর সরকারি এমএম কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। এর পর ১৯৮০ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ও ১৯৯৬ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভিনটিভ ও সোশ্যাল মেডিসিন মহাখালী থেকে মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথ উত্তীর্ণ হন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০৫ সালে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষা ও রাজনীতি

ডা. নাসির উদ্দিন বর্তমানে ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মহাজোট, বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের (আসাফো) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নাসির উদ্দিনের বাবা সৈয়দ আলী বিশ্বাস মাগুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য ছিলেন। মেঝভাই শাহাবুদ্দিন স্বাধীনতাপরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেজো ভাই মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তিনি মাগুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন।

ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন একই ইউনিয়ন থেকে ২০১১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মোটকথা তার পরিবার মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী পরিবার।

মুক্তিযুদ্ধ

১৯৭০ সালে যশোর সরকারি এমএম কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত সদস্য ছিলেন ডা. নাসির উদ্দিন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

যশোর সরকারি এমএম কলেজের ছাত্র থাকাবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজে অংশগ্রহণ এবং অন্যান্য বন্ধুও অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেন।

রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা

৮নং সেক্টরের অধীনে চৌগাছা যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের সঙ্গে একই এলাকায় আমি যুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব ও সাহসিকতার জন্য সমর পদক, জয় পদক, রণতারকা পদক পান।

মেজর জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ইউএন পিস মেডেল সুদান ও ইউএন পিস মেডেল মোজাম্বিক পেয়েছিলেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে কর্মরত থাকাকালীন সাহসিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট বর্ডার গার্ড পদক লাভ করেন। বর্তমানে ঢাকার মার্কস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৯ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন।

২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলাম। ১৯৮২ সালের ১৬ জুন থেকে ৯৪ সালের ১১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় মেডিকেল উপদেষ্টা ও প্রশাসক হিসেবে বিভিন্ন চিকিৎসা ইউনিট প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০১২ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজে অধ্যক্ষ ও কমান্ড্যাট হিসেবে প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর হতে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ল্যাবএইড গ্রুপের ল্যাবএইড হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে অদ্যাবধি তিনি ঢাকার মার্কস মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

স্ত্রী ডা. রওশনারা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ মেডিসিন, ঢাকার সহযোগী অধ্যাপক। তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সক্রিয় সদস্য। বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা এবং ছোট ছেলে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : যশোর-২: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×