কড়া পুলিশ পাহারায় ডিসির সঙ্গে রুহুল আমিন হাওলাদারের সাক্ষাৎ

  পটুয়াখালী প্রতিনিধি ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ২১:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

কড়া পুলিশ পাহারায় ডিসির সঙ্গে রুহুল আমিন হাওলাদারের সাক্ষাৎ
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। ছবি: যুগান্তর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিশ্চিত করার কথা বলে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়া জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার পুলিশের কড়া পাহারায় বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন।

টাকা ফেরত দেয়ার ভয়ে অনেকটাই এখন আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। আর প্রকাশ্যে আসলে নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীকে সার্বক্ষণিক পাহারায় রাখছেন।

মঙ্গলবার রুহুল আমিন পটুয়াখালীতে গিয়েছেন। বিগত দিনের তুলনায় জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পটুয়াখালীতে যাওয়ার চিত্র ছিল একেবারে ভিন্ন।

দীর্ঘ ৫টি বছর জেলা আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে পটুয়াখালী আসলেও মঙ্গলবার তিনি পুলিশ পাহারায় হেলিকপ্টারযোগে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আসেন। সেখানে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের কয়েকটি পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এর আগে মনোনয়ন গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর থেকে জাতীয় পার্টির এই নেতার বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে চলছে দফায় দফায় কর্মসূচি।

মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির মহাসচিবের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ ও মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহাজাহান মিয়ার বাসার সামনে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে 'বাকেরগঞ্জের রুহুল আমিন বাকেরগঞ্জে চলে যা'- এ স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের সিদ্ধান্তে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকী) আসনটি দখল করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

যদিও তিনি ওই নির্বাচনে নিজের ভোটটাও দিতে আসেননি। নির্বাচনের আগমুহূর্ত থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভোটপ্রক্রিয়ায় কৌশলীর ভূমিকায় ছিল জেলা আওয়ামী লীগ। তার নির্বাচনী মাঠে বর্তমান পটুয়াখালীর পৌরসভার মেয়র ডা. শফিকুল ইসলাম ঘোর বিরোধিতা করলেও ফল দাঁড়ায় শূন্যের কোঠায়।

শেষমেশ মহাজোটের সিদ্ধান্তে জেলা আওয়ামী লীগ একাট্টা হয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিনকে নির্বাচিত করেন।

এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগ ও তৃণমূল রাজনীতি জাতীয় পার্টির এই নেতার পাশে থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন নেতারা। কারণ বিগত পাঁচ বছরে পটুয়াখালীর কোনো উন্নয়নে রুহুল আমিনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নের কোঠায়।

যতবার পটুয়াখালীতে এসেছেন হেলিকপ্টারযোগে। ২০০ গজ কোনোদিন স্থানীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে পায়ে হেঁটেছেন এমন চিত্র দেখা যায়নি। পটুয়াখালী এক আসনের মানুষের কাছে তিনি হেলিকপ্টার এমপি হিসেবে তার পরিচিতি লাভ করেছেন।

এমনকি দুই ঈদেও তার পদচারণা হয়নি এ আসনে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের ক্ষোভ একেবারে কম নয়। অনেক নেতা দল থেকে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির জেলা শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মইনুল ইসলাম দুলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমি নব্বইয়ের দশক থেকে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জড়িত রয়েছি। কিন্তু রুহুল আমিনের কার্যক্রমে আজ দল থেকে আমি দূরে রয়েছি। দীর্ঘজীবনে আমি দল থেকে অবহেলা ছাড়া কিছুই পাইনি।' জাতীয় পার্টির পটুয়াখালীর সিনিয়র পদে থাকা আরও এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে জানান, আমি তার নির্বাচনে ২০ লাখ টাকা খরচ করেছি এবং দলের জন্য অনেক কিছু করেছি। কিন্তু আমাদের এমপি সাহেব একদিন আমার খোঁজখবর নেননি। তাই দল থেকে দূরে সরে আছি। মঙ্গলবার তিনি পটুয়াখালী আসবেন এ তথ্যটিও আমাদের জানানো হয়নি। তিনি শুধু নিজের ভালোটাই বোঝেন।'

একইভাবে পটুয়াখালী জাতীয় পার্টির অনেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে নানা কটূক্তি করেন।

গত পাঁচ বছরে রুহুল আমিনের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। শুধু এমপি খাতে বরাদ্দকৃত উন্নয়নমূলক কাজের ভাগবাটোয়ারা কমিশন নিতেই পটুয়াখালী আসা ছিল তার মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার গ্রহণযোগ্য ছিল নগণ্য।

অপরদিকে প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সভায় অনুপস্থিত থেকেছেন ধারাবাহিকভাবে। সব মিলিয়ে নিজ দলের নেতকর্মীসহ এলাকার জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। বলতে গেলে গত পাঁচ বছর পটুয়াখালী-১ আসনটি ছিল অভিভাবকশূন্য।

পটুয়াখালী-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাব হোসেন চৌধুরীর ভোটের রাজনীতির কাছে রহুল আমিনের অবস্থান একেবাড়েই নড়বড়ে।

কারণ জেলা আওয়ামী লীগের মূল এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এই নেতা।তার বিপক্ষে এখনো পটুয়াখালীতে কোনো শক্ত অবস্থান তৈরি হয়নি। গতবারের মতো এবারের র্নিবাচনে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ থাকলেও তৃণমূল রাজনীতি এবার জাতীয় পার্টির পক্ষে কাজ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে কয়েকটি সভা-সমাবেশে। সেক্ষেত্রে রুহুল আমিনকে নিয়ে মহাজোট ঘোর বিপাকে রয়েছে। ফলে আসনটি বিএনপির দখলে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এদিকে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, পটুয়াখালীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ কোনো কিছুতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ছিল না। কারণ ছিল নিজ দলের এমপি না থাকা। এবার তাই পটুয়াখালী-১ আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে ও দলের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা স্বাভাবিক রাখতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সব প্রার্থী এবার একযোগে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এরপরও যদি চলমান রাজনীতির জটিল সমীকরণে মহাজোট রক্ষায় এ আসনে রুহুল আমিন হাওলাদারকে দেয়া হয়, সে ক্ষেত্রে এ আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা নেতাদের।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, 'সব কিছুই আমার হাতে নয়, যে কারণে আমাকে আঘাত করা হচ্ছে। সেখানে আমার হাত নেই। সেখানে মহাজোটের সিদ্ধান্ত জড়িত। আমি কখনো মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো কাজ করিনি। মঙ্গলবার পটুয়াখালীতে মনোনয়ন দাখিল করতে আসিনি। আমি মা-বাবার কবর জিয়ারত করতে এলাকায় এসেছি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে গেলাম।'

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×