আ’লীগকে ক্ষমতায় বসাতে ভয়ঙ্কর গোপন তৎপরতায় ডিসিরা: বিএনপি

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসাতে জেলা প্রশাসকরা ভয়ঙ্কর গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

সোমবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন। 

তিনি বলেন, ভয়ঙ্কর গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক তথা রিটার্নিং অফিসাররা। পরিকল্পিত নীলনকশার মাধ্যমে অবৈধ সরকারের দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য লোক দেখানো নির্বাচন আয়োজনে ফন্দিফিকির করছেন।

ক্ষমতাসীনদের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রহসনমূলক নির্বাচনী ছক তৈরি করে এগিয়ে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন জেলা প্রশাসকরা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করছেন। ভোট ডাকাতি প্রস্তুতির শলাপরামর্শ করছেন। নির্বাচনে জাল-জোচ্চুরির সব প্রস্তুতি পাকা করছেন। 

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, গতকাল রোববার সব জেলার প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ডেকে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চারটি বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান রিজভী।

তিনি বলেন, বৈঠকে ডিসিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের যে কোনো মূল্যে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। 

‘ইউএনওদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং পুলিশ ও র‌্যাবকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। 

প্রিজাইডিং অফিসারদের নিরাপদে কন্ট্রোলরুমে আসার ব্যবস্থা করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান রিজভী। 

এ ছাড়া প্রিজাইডিং অফিসারদের ব্ল্যাংক সিগনেচার নিয়ে রাখার কথা বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। 

রিজভী বলেন, ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে-গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত পুলিশের সহযোগিতায় নৌকা প্রতীককে জয়ী করার জন্য ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালটবাক্স ভর্তি করে রাখতে হবে।

‘সকাল হওয়ার পর ভোটগ্রহণের আগেই ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষের এজেন্টরা তাদের দায়িত্ব পালনের উদ্দেশে নিজ নিজ কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে সরকারদলীয় লোকজন তাদের ঢুকতে বাধা দেবে এবং কেন্দ্রে নিয়োজিত পুলিশ সহায়তা করবে।’

রিজভী বলেন, সাজানো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং দলবাজ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।