ইসিতে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিলেও সাড়া পাইনি: হাফিজ উদ্দিন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২২ | অনলাইন সংস্করণ

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি-যুগান্তর

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভোলা-৩ আসনে অতীতে ৬ বার জনগন আমাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন। অথচ আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের বাধার কারণে আমি একজন প্রার্থী হয়ে আমার নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছি না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েও কোনো সাড়া পাইনি। লঞ্চ টার্মিনালে বুধবার আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হলেও পুলিশের কোনো ভুমিকা দেখতে পাইনি। সন্ত্রাসীরা ৫০জন দলীয় নেতাকর্মীকে আহত করেছে। লঞ্চের কেবিন ভেঙ্গে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি একজন সিনিয়র সিটিজেন, ৭৪ বছর বয়স আমার। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে, একজন গণতান্ত্রিক কর্মী হিসেবে কোনো সম্মান আমি পাচ্ছি না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন উপলক্ষে সেনা মোতায়েনে বিলম্ব করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাফিজ উদ্দীন বলেন, সামরিক বাহিনী মোতায়েন হবে ১৫ তারিখ থেকে পত্রিকায় এসেছিল। আজকে ১০দিন সেটা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। কারণ হলো বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের সাইজ করো, এলাকায় আতঙ্ক ছড়াও যাতে করে তারা এলাকা থেকে চলে যায়।

আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের বাধার কারণে নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছিনা অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বুধবার রাতে ভোলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে যাওয়ার জন্য আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমার সফরসঙ্গিরা লঞ্চেও উঠেছিলেন। ৬টা ২০ মিনিটে আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী ছাত্রলীগ-যুবলীগ লঞ্চ টার্মিনাল দখল করে নেয়।

তিনি বলেন, লঞ্চে প্রবেশ করে আমার প্রায় ৫০জন কর্মীকে মারাত্মকভাবে আহত করে। সদরঘাট টার্মিনালের প্রবেশ পথে ২০০ জন মাস্তান কারো হাতে অস্ত্র, কারো হাতে পিস্তল, কারো হাতে লাঠি-হকিস্টিক হাতে নৌ টার্মিনালকে কর্ডন করে রাখে যাতে করে আমি লঞ্চে উঠতে না পারি। টার্মিনালটি সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে পড়ে সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে।

তিনি বলেন, সারেংকে বাধ্য করে লঞ্চটি নদীর মাঝ খানে নিয়ে যেতে। যে কারণে আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারিনি। আমাকে অভ্যর্থনা জানাবার জন্য ৪০ হাজার লোক আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ভোলার মঙ্গল শিকদার ঘাটে সমবেত হয়েছিল। তারা হতাশ হয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেছে। এই হচ্ছে বাংলাদেশের একাদশ নির্বাচনের চিত্র।

ভোলায় তার নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে হাফিজ উদ্দীন বলেন, এলাকায় আওয়ামী লীগের ৪০০ সন্ত্রাসী অবস্থান করে যেখানে তাণ্ডব চালাচ্ছে। থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের ওপর প্রতিদিন হামলা হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসীরাও অবস্থান করছে। অথচ পুলিশকে এসব জানানো হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আজ খুব দুঃখ হয় এসব দেখার জন্য কি রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। জনগণের বাহিনী হিসেবে তাদের মুক্তির জন্যে একাত্তর সালে আমরা লড়াই করেছি। যারা বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কালো কোর্ট পরে পরিচয় দেয় তাদেরকে একাত্তর সালে রণাঙ্গনের ১০০ মাইলের মধ্যে দেখা যায়নি। অথচ আমাদের এখন কোন সম্মান দেয়া হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল লতিফ খান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×