জীবনের নিরাপত্তা না দিলে গণসংযোগ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করব: মওদুদ

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ
নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমার নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত না হয় তাহলে আমি গণসংযোগের কর্মসূচি থেকে আমি নিজেকে প্রত্যাহার করব। আমার এ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আসার পর নারী-পুরুষ সবার ভয়ভীতি ও আতঙ্ক দূর হবে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। যদি সেটা হয় তাহলে দেশের সেনাবাহিনী সার্থকতা প্রমাণ হবে।

সোমবার দুপুরে তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি ডিসি, রিটার্নিং অফিসার, লে. কর্নেল মনিরকে বলেছি, আমার জীবনের নিশ্চয়তা যদি দিতে না পারেন তাহলে আমি নির্বাচনী প্রচারণা অর্থাৎ গণসংযোগে অংশগ্রহণ করব না। আমি গণসংযোগে আর যাব না। যেখানে আমার নিরাপত্তা নেই, তাহলে সেখানে কী করে গণসংযোগ করব?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আমি আর্মি অফিসারদের কাছে অনুরোধ করেছি- ভোটারদের মনে যে ভয়ভীতির শঙ্কা রয়েছে এটা আপনারা দূর করার চেষ্টা করুন। আপনারা এমন কিছু করেন যাতে তাদের মনে আস্থা ফিরে আসে। তারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারবে। আর আমার নেতাকর্মীরা নির্ভয়ে ভোটের কাজে নিয়োজিত রাখতে পারে। ভোটের দিন যেন তারা ভোটকেন্দ্রের আশপাশে থাকতে পারে।

মওদুদ আহমদ বলেন, গত ১০ দিনে আমার নির্বাচনী এলাকার ৩০০ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে। ৮টি গায়েবি মামলা দিয়ে ৪০০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় ছাত্রদলের সভাপতি, সেক্রেটারি, যুবদলের সভাপতি, সেক্রেটারি, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি সবাইকে গ্রেফতার করেছে। আজও আমার গাড়ি ভাঙচুরের পর পুলিশ রামপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা নাইমুল হক কাটার ও মুছাপুর ইউনিয়নের বিএনপির নেতা আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।

তিনি বলেন, আমি পুলিশকে অবগত করে গণসংযোগ করতে বাসা থেকে বের হয়েছি। পুলিশ বলেছে আপনার কোনো অসুবিধা হবে না। আপনি গণসংযোগ করতে পারবেন। চরকাঁকড়া ইউনিয়নের নতুন বাজার পৌঁছে আমি হ্যান্ডবিল বিলি করছি। বাজার মাঝামাঝি পর্যন্ত গেলে আমার প্রতিপক্ষ ওবায়দুল কাদেরের দলীয় ক্যাডাররা লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। আমি অল্পের জন্য বেঁচে গেছি।

বিএনপি এ নেতা বলেন, আমার দলীয় ৫ জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আহতরা হলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আফসার, রামপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা নাইমুল হক কাটার, মুছাপুর ইউনিয়নের বিএনপির নেতা আলমগীর হোসেন, সিরাজপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি আবুল হাসনাত রাকিব।

তিনি বলেন, আমি এখানকার সেনাবাহিনীর প্রধান মেজরকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছি। রিটার্নিং অফিসারকেও বিষয়টি জানিয়েছি। নোয়াখালীর পুরো জেলার সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মুনির হোসেনকে জানিয়েছি। এখানে সত্যিকার অর্থে নির্বাচন করার কোনো পরিবেশ নেই, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক যে নির্বাচন বলতে যা বোঝায় সেটা নেই।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় ককটেল ফোটানো হচ্ছে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মহিলা ও বয়স্ক পুরুষদের ভয় দেখানো হচ্ছে- ‘আপনার ভোটকেন্দ্রে যাওয়া লাগবে না। ভোটকেন্দ্রে গেলে আপনার ছেলের লাশ পাবেন।’ এ কথা শোনার পর কোন ছেলের মা ভোটকেন্দ্রে যাবে?

মওদুদ আহমদ বলেন, ৮ দিন আমি কোনো গণসংযোগে বের হতে পারিনি। কারণ আমাকে বলা হয়েছিল, আমি যেখানে যাব সেখানে আমাকে প্রতিহত করা হবে। ওবায়দুল কাদের প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তার দলীয় ক্যাডাররা উজ্জীবিত হয়েছে। আমাকে প্রতিহত করার কর্তব্য তার ক্যাডাররা পালন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গির আলম, চরকাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন বাহার, নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমান, উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান টিপু, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান পাভেল প্রমুখ।

ঘটনাপ্রবাহ : নোয়াখালী-৫: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×