কে হচ্ছে সংসদের বিরোধী দল?

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সরকার গঠনে নিশ্চিত হলেও এখন সর্বোত্র আলোচনা চলছে একাদশ সংসদের বিরোধীদল নিয়ে। কে হচ্ছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল এবং তার দলনেতা?

এবার সমীকরণটা একটু ভিন্ন। কারণ দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

তবে দশম সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবারও মহাজোটের অংশ হয়ে নির্বাচন করেছে। জোটভুক্ত ও উন্মুক্ত মিলে মোট ২২টি আসন পেয়েছে দলটি।

যেহেতু জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ, তাই আসন কম পেলেও সাতজন সংসদ সদস্য নিয়ে বিএনপি বিরোধীদলের আসনে বসবে নাকি একই সঙ্গে সরকারে এবং বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টিই আগেরবারের মতোই সংসদে প্রধান বিরোধী দল হবে? এ নিয়ে চলছে আলোচনা।

যদি শেষমেশ জাতীয় পার্টিই সংসদের বিরোধী দল হয় তাহলে কে হবেন দলনেতা? পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, নাকি বর্তমান বিরোধী দলনেতা পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ?

কারণ দশম সংসদে বিরোধী দলনেতা হওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এরশাদ প্রথমে স্ত্রী রওশনকে বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য মত দিলেও পরে আবার নিজেই হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষেমেশ রওশনই হয়েছিলেন দলনেতা।

যদিও এ নিয়ে তখন এরশাদ-রওশন দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছিল। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী এরশাদকে তার বিশেষদূত হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে এবার এরশাদ-রওশনের মধ্যে খুব একটা মতপার্থক্য নেই বলেই দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতাদের ভাষ্য, তারা এবারও রওশন এরশাদকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে চান।

এখন একাদশ সংসদে কোন দল হচ্ছে সংসদের বিরোধীদল এবং কে হচ্ছেন দলনেতা? এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটি দিন।

রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল ঘোষণা করা ২৯৮ আসনের।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ২৯৯ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৭টি। ২২টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। বিএনপি ৫টি আসন এবং অন্যান্যরা ১৩টি আসনে জয় লাভ করেছে। সে হিসাবে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল এবার জাতীয় পার্টিই।

২০১৪ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৩৪টি, জাতীয় পার্টি ৩৪টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ ৫টি, জাতীয় পার্টি জেপি) ২টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ২টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) ১টি ও স্বতন্ত্র ১৫টি আসনে বিজয়ী হয়।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আসন বাড়লেও কমেছে বাকিদের আসন। জাতীয় পার্টির বাইরে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ ৩টি, বাংলাদেশ জাসদ ১টি, জাতীয় পার্টি জেপি) ১টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ১টি করে আসন পেয়েছে।