বিএনপি এখন কী করবে?

  যুগান্তর ডেস্ক    ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি এখন কী করবে?
বিএনপি এখন কী করবে?

খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারাগারে যাওয়ার পর গভীর সঙ্কটে পড়া বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট গড়ে সুদিনে ফেরার স্বপ্ন দেখলেও নির্বাচনে হেরে দলটির কর্মীদের এখন দিশা হারানোর দশা।

ভোটের পর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আবার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট পুনর্নির্বাচন দাবি করছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোটের আগের দিন বলেছিলেন যে কারচুপির নির্বাচন হলে তারা তা মানবেন না। রোববারও তিনি এ ইঙ্গিত গণমাধ্যমকে দিয়ে বলেছেন, এটি কোনো নির্বাচনই হয়নি।

তাদের ভাবনাটা এমন যে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ফল কেমন হতে পারে তা আগেই বোঝা উচিত ছিল নেতাদের।

তফসিল ঘোষণার পরও সারা দেশে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার হয়রানির অভিযোগ জানিয়ে আসা বিএনপি আশা করেছিল, সেনা মোতায়েনের পরপর পরিস্থিতি বদলাবে, তাদের ভাষায়, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হবে।

কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীকে ‘স্বাধীনভাবে’ কাজ করতে দিচ্ছে না বলে ভোটের আগেই অভিযোগ করা হয় দলটির পক্ষ থেকে।

বিএনপি থেকে যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা কি সংসদ বর্জন করবেন নাকি অন্য কোনো পন্থা বেছে নেবে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে কতটুকু সুবিধা করতে পারবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সে রকম চাপ দিতে আগ্রহী নয় এবং এবার আগ্রহী হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ আছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ নয়। হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একদিকে থাকতে পারে। কিন্তু ভারত, চীন, রাশিয়া অন্যদিকে থাকতে পারে। কাজেই এখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভক্ত।

এছাড়া সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য যে ধরনের আন্দোলন করা প্রয়োজন, সেটি করার মতো সামর্থ্য বিএনপি ও তার শরিকরা রাখে কি না, সেটিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১৪ সালে তারা এমন আন্দোলন করার চেষ্টা করেছিল। তবে সেটি ছিল খুবই সহিংস। এতে কোনো গণসমর্থন ছিল না, যার ফলে এটি ব্যর্থ হতে বাধ্য হয়েছে।

অপরদিকে রোববার অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যেখানে ২৫৯ আসনে জয় পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় যাচ্ছে, সেখানে বিএনপি ও তাদের শরিকরা মিলে আসন পেয়েছে সাতটি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ১০ মাস ধরে কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এক যুগ ধরে। তিন মামলায় সাজার রায় মাথায় নিয়ে তারেকের ফেরার কোনো আশা বিএনপিকর্মীরা দেখছেন না।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে স্থায়ী কমিটির নেতাদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই কার্যত দল চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে মাত্র পাঁচটি আসন পাওয়া বিএনপির সামনে এখন প্রধান বিরোধী দল হওয়ারও আশা নেই।

ভোটের পর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক কামাল হোসেন একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুণঃভোটের দাবি জানান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ নির্বাচনকে একটি ‘ভয়ংকর প্রহসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

এ সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে সোমবার বৈঠকে বসেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। ২০ দলীয় জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হবে। কিন্তু এত অল্প আসন নিয়ে সংসদে যাওয়ার প্রশ্নে দ্বিধা-বিভক্ত বিএনপি নেতারা।

এবার তারা কী করবে? আন্দোলন কি সহিংসতা ছাড়া করার কোনো কৌশল তাদের জানা আছে কি না। আওয়ামী লীগকে তারা কীভাবে বাধ্য করবে নতুন নির্বাচন দিতে। বিএনপি যদি তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে না পারে লোকজন মনে করবে বিএনপি ও তার শরিকরা জানে না তারা কী করবে। এটি তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে অনেকটাই ক্ষুণ্ন করবে।

ঐক্যফ্রন্টের কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেটিও বাংলাদেশের জনগণ জানে না। ঐক্যফ্রন্ট কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থীও দাঁড় করাতে পারেনি।

পরপর দুই জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হতো বিএনপিকে। ফলে এবারের ভোট এড়ানোর কোনো সুযোগ ছিল না বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সামনে।

ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অনেকে মনে করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়াটা ভুল ছিল, আজকের নির্বাচন প্রমাণ করল যে, সেটা ভুল ছিল না।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

কিন্তু রোববারের ভোটে তাদের বড় পরাজয়ের পর সরকারের শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি এখন মুসলিম লীগের পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×