তিন কারণে ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপিতে টানাপোড়েন

  মোহাম্মদ আতাউর রহমান ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০২ | অনলাইন সংস্করণ

তিন কারণে ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপির টানাপড়েন
ছবি : যুগান্তর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অকল্পনীয় ব্যর্থতার পর মুষড়ে পড়া বিরোধী শিবিরে এখন লেজেগোবরে অবস্থা। হতাশা ভর করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যেও। সেই সঙ্গে নানা হিসাব-নিকাশ চুকাতে গিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়ে গেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভেতরে-বাইরে।

দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে- ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান কাণ্ডারি বিএনপির সম্পর্ক এখন তলানিতে। মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই দূরত্ব সৃষ্টি হলেও ভোটের পর গত কয়েক দিনে সেই সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। তারই বহির্প্রকাশ ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে। সেখানে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি-ই উপস্থিত ছিলেন না।

বেশ কয়েকটি কারণে এ টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত জামায়াত ইস্যু। দ্বিতীয়ত নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ নিয়ে বিএনপি ও গণফোরামের দ্বিমত। তৃতীয়ত নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ।

ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আভাস পাওয়া গেছে, এ তিনটি কারণের মধ্যে মূলত জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে জোট বেঁধে পথচলা, না চলার ইস্যুতেই জোটে অচলাবস্থার সৃষ্টি।

জামায়াত নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত মূলত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের একটি সাক্ষাৎকার ও একটি সংবাদ সম্মেলন কেন্দ্র করে।

ভারতের একটি বহুল প্রচারিত গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকার ও নির্বাচনোত্তর ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রবীণ এ আইনজীবী জামায়াত ইসলামীকে নিয়ে কথা বলেন। তার সাক্ষাৎকার ও সংবাদ সম্মেলনের মূল কথা ছিল- বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে নিজ দলীয় প্রতীক ধানের শীষ দিয়ে ভোট করার সুযোগ দেবে জানলে তিনি বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করতেন না। তাদের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) সঙ্গে ঐক্য ধরে রাখতে হলে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে।

ড. কামালের এ বক্তব্যের পরই তোলপাড় শুরু হয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিএনপির প্রতি চাপ সৃষ্টি হয় জামায়াত ছাড়ার। আবার জামায়াতের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ শুরু হয় যে, বিএনপি যদি জামায়াতকে বোঝা কিংবা দায় মনে করে, তবে তাদের সঙ্গে থাকার যুক্তি কি? এ নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি ওঠে সব মহলে। এ নিয়ে বিএনপি বিপাকে পড়ে যায়।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, ড. কামাল হোসেন জামায়াত শর্তটি এ মুহূর্তে না দিলেও পারতেন। এ ইস্যুটি তুলে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলে দেয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির হাতে ইস্যু তুলে দেয়া হয়েছে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যফ্রন্টের আগামী দিনের কর্মপন্থা ঠিক করতে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন এ জোটের স্টিয়ারিং কমিটির নেতারা। তবে এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কেউ-ই উপস্থিত ছিলেন না।

বিএনপি নেতাদের অনুপস্থিতিতেই এ বৈঠকে ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে ‘গণসম্মিলন’ নাম দিয়ে জাতীয় সংলাপ করার সিদ্ধান্ত হয়।

এতে জামায়াতে ইসলামী বাদে দেশের অপরাপর রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এই সংলাপকে ‘গণসম্মিলন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নীতিনির্ধারক এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে জানান, তারা ২০-দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রেখে আরও বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার পক্ষে। দলের হাইকমান্ড থেকেও এমন বার্তা দেয়া হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জামায়াত ইস্যুতে টানাপড়েন দেখা দিলেও বিএনপি জামায়াতকে আপাতত ত্যাগ করছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় মতিঝিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন সামনে রেখে সরকারবিরোধী এ জোট গঠনের পর এবারই প্রথম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে বিএনপির কাউকে দেখা যায়নি। জোটের নেতাদের দাবি, অসুস্থতার কারণে বৈঠকে যোগ দেননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে দলটির অন্য কোনো প্রতিনিধি কেন বৈঠকে যোগ দেননি, এর কোনো জবাব তারা দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোটের একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, মূলত জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে একসঙ্গে পথ চলতে জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন আপত্তি জানানোর পর থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভ্যন্তরে এ টানাপড়েনের সূত্রপাত। সম্প্রতি গণফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে গিয়ে কিছু ভুল হয়েছে। জোট টিকিয়ে রাখতে হলে এখন সময় এসেছে এ ভুল সংশোধন করার।’

তিনি মূলত জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং আসন ভাগাভাগির বিষয়েই হতাশা প্রকাশ করেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীকে আসন ছাড় দেয়ার বিষয়টি আমি জানতাম না। আমাকে জানানো হয়নি। আমি জানলে এটি হতে দিতাম না। নির্বাচনের আগেও গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। আমি জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে রাজনীতি করব না। ভবিষ্যতেও তাদের নিয়ে রাজনীতি করার প্রশ্নই ওঠে না।’ তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দেয়ার কথা বিএনপিকে এখন বলা যেতেই পারে।’

ড. কামাল হোসেনের এই বক্তব্যের জবাবে পর দিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটি তার (ড. কামাল হোসেন) নিজস্ব বক্তব্য। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নয়।’

বিএনপি মনে করছে, জামায়াত ছাড়ার শর্তজুড়ে দিয়ে ড. কামাল বিএনপিকে চরম দুঃসময়ে আরও বিপাকে ফেলেছেন। তিনি এ মুহূর্তে ইস্যুটি সামনে না আনলেও পারতেন। যেমনটি প্রকাশ পেয়েছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেনের জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি না করার প্রস্তাবকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।

একই সঙ্গে তার কাছে আমাদের দাবি, তিনি (ড. কামাল) যেন আওয়ামী লীগের কাছে আহ্বান জানান- যেসব জামায়াত নেতাকে আওয়ামী লীগ ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে, যাদের ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ে চেয়ারম্যান, মন্ত্রী-এমপি বানিয়েছে, তাদের যেন বাদ দেয়া হয়। তাতে জনগণ খুশি হবে। তিনি বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশন দিয়েছে। হাইকোর্টেরও একটি রায় আছে।

এর পর জামায়াতকে কেন আওয়ামী লীগ বাদ দিচ্ছে না। এখন শুনছি, দল হিসেবে জামায়াতের বিচার করতে আইন সংশোধন করা হবে। এটি নিয়েও তারা রাজনীতি করতে চায়।

তবে জামায়াতকে বিএনপির সঙ্গ থেকে ছেঁটে ফেলার পক্ষেও জনমত আছে। এ বিষয়ে বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ড. কামাল সাহেবের বক্তব্য আমরা পূর্ণ সমর্থন করি। আমাদের ঐক্যফ্রন্টের মূল কথাই ছিল- আমরা জামায়াতকে নেব না।

তিনি বলেন, একটি জিনিস প্রমাণিত ভোটের বাজারে জামায়াতকে দিয়ে বিএনপি কোনো লাভবান হয়নি। এখন জামায়াত যদি ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি করতে চায় তা হলে আমরা ভেবে দেখব। তা না হলে বিএনপির উচিত তাদের বর্জন করা।

তবে জামায়াত নেতাদের মতে, যেহেতু জোট হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের। তিনি এখন কারাগারে বন্দি আছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন, আর কেউ নয়। এ ছাড়া জোট না ছাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে- নিজে থেকে জোট ছাড়লেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের গুজব তৈরি করবে, যা জামায়াতের রাজনীতি শেষ করে দিতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এহসানুল মাহবুব জোবায়ের যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন ও রাজনীতির জন্য জোট হয়েছে। আমরা তো জোটে আছি।

ভেঙে দেয়ার বিষয়ে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই জোট অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, এই জোটের প্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে আমাদের নেতারা আলোচনা করেই জোটটি করেছিলেন। তাই শীর্ষ নেতারা কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত জোট থাকবে।

সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে পরস্পরবিরোধী এ অবস্থান প্রকাশ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতারা। জোটের একাধিক নেতা জানান, বুধবার ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বিকাল ৪টায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

বিএনপি নেতাদের অনুরোধে এটি একদিন পিছিয়ে একই জায়গায় বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলটির কাউকেই দেখা যায়নি বৃহস্পতিবারের বৈঠকে। পরবর্তী বৈঠকগুলোয়ও বিএনপি আর অংশ নেবে কিনা, তা-ও এখন অনিশ্চিত।

জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করা ছাড়াও বিএনপির কাছে আরও দুটি দাবি সামনে আনতে চাইছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর মধ্যে রয়েছে- বিএনপির ভেতরে জামায়াতের কোনো নেতা বা লোক থাকতে পারবেন না। এমনকি জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেও কেউ থাকতে পারবেন না। দলের ভেতরে চিরুনি অভিযান চালিয়ে তাদের বের করে দিতে হবে। নির্বাচনে জয়ী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সদস্যরা শপথ নেবেন। এ ব্যাপারে বিএনপিকে কালক্ষেপণ না করে ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

সূত্র জানায়, বিএনপির নেতাদের জন্য অপেক্ষা করে বৈঠক এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু করা হয়। ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ অংশ নেন।

বৈঠকে যে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াতে ইসলামী ছিল না। এখনও নেই। জাতীয় সংলাপেও জামায়াত থাকছে না। এ ছাড়া নির্বাচনে যেসব দল অংশ নিয়েছে, তাদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টে কোনো ফাটল ধরার সুযোগ নেই। এ জোট অটুট থাকবে।

কারণ আমরা অভিন্ন দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছি। জামায়াত নিয়ে গণফোরামের সভাপতি হিসেবে ড. কামাল হোসেন বক্তব্য দিয়েছেন। তা ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নয় বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

গত বছরের ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রা শুরু হয়। বিএনপি, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া শুরুতে সঙ্গী হলেও পরে এতে শামিল হয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নেয় এ জোট। ছয়টিতে জয় পায় বিএনপি। অন্যদিকে দুটি আসন পায় গণফোরাম। যদিও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিতে এখনও তারা শপথ নেননি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাদে জোটের শীর্ষ নেতাদের সবাই এ নির্বাচনে পরাজিত হন।

বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু একটি সিদ্ধান্তে তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। সেটি হচ্ছে- নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ ইস্যু। ড. কামালসহ গণফোরাম নেতারা চাচ্ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিতরা শপথ নিক, সংসদে যাক। ভোটের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল সেই ইঙ্গিতও দেন। পরে বিএনপির চাপে তিনি ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। বিএনপি শুরু থেকেই বলে আসছিল যে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, আর সেই ভোটে নির্বাচিতরা শপথ নিলে বিষয়টি হাস্যকর হবে। এ নিয়েও গণফোরামের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বাড়ে।

এদিকে নির্বাচন-পরবর্তী কলাকৌশল নির্ধারণেও টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে ঐক্যফ্রন্টে। বিএনপির সঙ্গ বহু বিষয়ে তাদের মতের দ্বিমত হচ্ছে। বিশেষ করে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে থেকে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো আন্দোলন কিংবা কর্মসূচি দিতে পারছে না। তারেক রহমানের পক্ষে কোনো বক্তব্য দিতে পারছে। বিষয়গুলো বিএনপি নেতাদের কাছে অস্বস্তির কারণ।এছাড়া বিএনপির প্রথম সারির বেশ কয়েক নেতা ড. কামালদের প্রভাব মানতে পারছেন না। জোটের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিএনপির নীতি কিংবা চাওয়ার মূল্য থাকছে না বলে মনে করছেন তারা।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×