আওয়ামী লীগ দেশ চালাতে পারবে না: রব

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

  নীলফামারী প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে নিহত বিএনপি নেতা তোজাম্মেল হকের বাড়িতে জেএসডি সভাপতি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। ছবি: রংপুর ব্যুরো

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও বাংলাদেশ জাতীয় সামাজতান্ত্রিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, মহাজোটের শরিকদের মধ্যে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে তা কিছুই না। আগামীতে তাদের সম্পর্কের আরও অবনতি হবে এবং আওয়ামী লীগ দেশ চালাতে পারবে না।

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। দেশে শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত কেউই ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এসব ধর্ষকের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে তারা।

সোমবার সকাল ১১টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আ স ম আবদুর রব এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অসাংবিধানিকভাবে নির্বাচনী তামাশার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে একক আধিপত্য বিস্তারের কারণে মহাজোটের শরিকদের ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি কোনো রকম রাজনৈতিক আন্দোলন ছাড়াই আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে পালাতে বাধ্য হবে।

ঐক্যফ্রন্টের এ নেতা বলেন, এখনই যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে মাদক নির্মূলের নামে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে চুনোপুটি কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত মাদক সম্রাট তথা রাঘববোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে যাচ্ছে। যা তাদের জন্য একসময় বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহির্বিশ্বের সমালোচনায় সরকারের কূটনীতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে তিনি বলেন, বহির্বিশ্ব তথা জাতিসংঘসহ দাতা সংস্থাগুলোর চাপের মুখে সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। কিন্তু তা কোনোভাবেই ফলপ্রসূ হবে না। এতে বোঝা যায় সরকার তাদের অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার অপচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য কূটনৈতিকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মূখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু এবং নীলফামারী, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এরপর তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতারা বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হত্যার শিকার বিএনপিকর্মীদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে লালমনিরহাটের পথে রওনা দেন।