যে কারণে বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটি ‘বিলুপ্ত’ করল বিএনপি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:০০ | অনলাইন সংস্করণ

যে কারণে বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটি ‘বিলুপ্ত’ করল বিএনপি
ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর স্থগিত করা হল বিএনপির ‘বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটি’র কার্যক্রম। পাশাপাশি এ কমিটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্যদের দলত্যাগ, জেষ্ঠ সদস্যদের বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে যাওয়া, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, বিদেশের সঙ্গে দলের সম্পর্ক বজায় রাখায় এক দশক ধরে টানা ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণে এই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

গত ১৭ জানুয়ারি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কমিটি স্থগিতের বিষয়টি বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্যদের অবহিত করা হয়।

বিএনপির বৈদেশিক সম্পর্ক বিলুপ্ত সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিএনপির বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটি নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত করা হয়েছে। আগামী এক সম্পাহান্তে নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন কমিটি গঠনের পূর্বে যদি পুরনো কমিটির কোনো সদস্য কমিটিসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করেন, তা হলে তাকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করছি।’

স্থগিত হওয়া বিএনপির বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নানা কারণ দেখিয়ে কয়েক মাস আগে ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্যরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কমিটি পুনর্গঠনের অনুরোধ করেন। পরে তারেক রহমান কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন দলের মহাসচিবকে।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্যরা মূলত কূটনৈতিক বিষয়াবলি দেখভাল করেন। এই কমিটিতে সাবেক আমলা, রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, সাংবাদিকসহ বুদ্ধিজীবীদের রাখা হয়েছিল। গত কয়েক বছরে ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বয়স, সময় ও সক্ষমতার কারণে সময় দিতে পারছিলেন না।

শমসের মবিন চৌধুরী দল থেকে পদত্যাগের পর কমিটির হাল ধরেন সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান। ২০১৫ সালে তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর কমিটিতে কাজ বন্ধ করে দেন।

পরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ রহমানকে চেয়ারম্যান করতে চাইলে তিনি ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে এ পদে নিয়োগের প্রস্তাব করেন।রিয়াজ রহমান গত নির্বাচনে আগে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তাকে আগের মত সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। দায়িত্ব পাওয়ার পর ইনাম আহমেদ চৌধুরী কিছুদিন কাজ করলেও সম্প্রতি তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

এরপরই দলের নীতি ও বৈদেশিক কাজে নতুন অগ্রগতি আনতে এই কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা গেছে, গত এক দশক ধরে এ কমিটি দলের বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তেমন কোনো অবদান রাখতে পারেনি। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিদেশিদের ইতিবাচক সহযোগিতা পায়নি দলটি। এমনকি ভোটের পরও বন্ধু দেশগুলো নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে বিএনপির অভিযোগের পক্ষে জোরালো কোনো অবস্থান নেয়নি। তাই এ কমিটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিলুপ্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে অনেকটাই জোড়াতালি দিয়ে চলছিল বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি। বিশেষ করে কমিটির সিনিয়র সদস্যদের অনেকেই অসুস্থতার কারণে ধারাবাহিকভাবে সভায় আসতে পারেননি। অনেকে অংশ নিলেও বাড়তি চাপ নিতে অপারগ ছিলেন।

তাদের অগারগতায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মঈন খানকে কূটনৈতিক বিষয়গুলো দেখভাল করতে হচ্ছে।তাদের সহায়তা করছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা রহমান।

কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন কমিটির আকার ছোট হবে এবং কার্যকর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এক্ষেত্রে তারেক রহমানের সঙ্গে ইতোমধ্যে কয়েকজন সদস্যের কথা হয়েছে।

জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য কিংবা বিএনপি সমর্থক সাবেক এক কূটনীতিককে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং আগে যারা এ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মতামত নিচ্ছেন।তিনিই ঠিক করবেন এই কমিটর চেয়ারম্যান কে হবেন।

দলের এক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপির বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য সংখ্যা অনেক। কিন্তু কাজ করেন গুটিকয়েক জন। এ জন্য যাদের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, এমন নেতা ও দল সমর্থক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশ, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও চীনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এবারের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটি গঠন করা হবে। এসব দেশের সঙ্গে যেসব নেতার যোগাযোগ রয়েছে, তাদের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হতে পারে।

নতুন কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ রহমান আলোচনায় আছেন। তাদের সম্মতি থাকলে আগামী কমিটিতে তাদের একজনকে চেয়ারম্যান করা হতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×