বিদিশার আবেগঘন স্ট্যাটাস: উনাকে আরও কিছুদিন বাঁচতে দিন

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

বিদিশা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন। দেশে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বেশ কিছু দিন চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দুদিন আগে সিঙ্গাপুরে যান।

 

মঙ্গলবার প্রখ্যাত সুরকার ও গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুর খবর প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে একটি গুঞ্জন ওঠে। যেটিকে নিছকই গুজব বলে উল্লেখ করেছে জাতীয় পার্টি।

 

বিরোধীদলীয় এ নেতার মৃত্যুর গুঞ্জনকে গুজব বলছেন তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদও। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বিষয়টি জানান তিনি। ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাসে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে আরও কিছু দিন বাঁচতে দিতে আকুতি জানান তার সাবেক স্ত্রী।

 

এ স্ট্যাটাসে এরশাদের সঙ্গে তার ছেলে এরিকের সম্পর্ক, তাদের অতীত ও বর্তমান জীবন নিয়েও বহু তথ্য উঠে আসে। বিদিশার সেই পোস্টটি (ইংরেজি অক্ষরে বাংলায় লেখা) হুবহু তুলে ধরা হলো-

 

‘উনাকে আরও কিছু দিন বাঁচতে দিন। এফবিতে (ফেসবুকে) দেখেছি উনাকে মেরে ফেলেছেন। বিশ্বাস করুন, উনি আরও কিছু দিন বাঁচতে চান আমাদের ছেলে এরিকের জন্য। উনি পৃথিবীতে এরিক ছাড়া বোধহয় আর কাউকে এত ভালোবাসেননি। আমিও সব মাতৃত্বের লড়াই করার পরও ছেলেকে বাবা থেকে আলাদা করতে পারিনি।

 

সব থেকে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছি আমি আমার সন্তানকে কাছে না রেখে, চোখে না দেখে। তারপরও আমাকে পরম আনন্দ দেয় বাবা ছেলের খুঁনসুটি দেখে। কোনো শর্তের বন্ধন নেই। বাবা-ছেলের বয়সের পার্থক্যের পরও তাদের মধ্যে আড্ডা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক চোখে পড়ার মতো। ছেলেকে স্কুলে দিয়ে এবং নিয়ে আসে একজন বৃদ্ধ পিতা। ছুটির দিনে বাবা-ছেলের একসঙ্গে ভ্রমণ।

 

রাতে এরিক ছাড়া উনি ঘুমাতে পারেন না একদম। তাই তো গত সপ্তাহে আমি যখন সিএমএইচ গেলাম দেখতে, দেখি নাশতা করেন নাই, অপেক্ষায় আছে এরিকের। দুপুরে এরিক স্কুল থেকে ফিরলে লাঞ্চ করবেন বললেন। আমাকে সরি বললেন, অনেক অন্যায় হয়ে গেছে আমার সঙ্গে, যা সংশোধন করার উপায় নেই। তা অন্য প্রসঙ্গ। অনেক স্মৃতিচারণ করলেন তিনি।

 

বলেই ফেললেন, রাত জেগে এরিক নাকি বকবক করে, যা নাকি আমি করতাম এককালে। উনি চোখ বন্ধ করলে এরিক নাকি চোখ খুলে দেয়, বলে আচ্ছা ড্যাডি এইবার তা হলে একটা রবীন্দ্রসংগীত শোনাই, কিন্তু তুমি তো ঘুমাবে না আমার আগে। গান করতে করতে এরিক নিজেই ঘুমিয়ে পড়ে। আমিও নাকি একি কাজ করতাম অনেক বছর আগে। সেদিন উনার চোখে জল ছিল। জীবনমৃত্যুর এই শেষ সময়ে উনার উপলব্ধিগুলো নিশ্চয়ই মিথ্যা নয়।

 

চল্লিশ মিনিট আমার হাত উনার দুই হাত দিয়ে ধরে বসেছিলেন। চোখ দিয়ে ঝরছিল জল আমাদের দুজনেরই। আমাদের দুজনের মধ্যে সময়ের গ্যাপটা অনেক বেশি হয়ে গেছে এতদিনে, তাই উনার জীবনে শেষ সময়ে আমি কোনো সেবা করতে পারলাম না।

 

উনি (এরশাদ) বললেন, আমি নাকি বেশি সোজাসাপ্টা, সাদাসিধা ছিলাম, লম্বা হয়েছি, বুদ্ধি হয়নি আমার। আমি আরও খুশি আছি অল্প বুদ্ধিতে সোজাসাপ্টা সিম্পল জীবনে। রাজনীতি, প্যাঁচ ষড়যন্ত্র টেনশন নিয়ে ঘুমাতে হয় না আমার। সততার সঙ্গে স্বল্প পরিশ্রমে আমার ফাউন্ডেশনটা চালাই তাতেই আমার শান্তি।

 

দিনের শেষে রাতে এরিকের কথা মনে হলে মায়াকে বুকে চেপে ঘুমাই আমি। উনিও মায়াকে ভালোবাসেন। বললেন, তোমার মতো মা থাকলে বাবার দরকার নেই। আমি শুধুই বললাম- i wish our marriage wasn't so crowded. উনি আমার গালে আলতো করে কাঁপা কাঁপা হাতে স্পর্শ করে বললেন, সরি!

 

(এরশাদ বললেন) এরিক আছে, মায়া আছে তোমার পাশে। আমার মনে হয়েছে উনি আরও কিছু দিন বাঁচতে চান উনার এরিকের জন্য শুধু। আমিও চাই আরও কিছু দিন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আনন্দ উনি এরিকের কাছ থেকে নিয়ে যাক। যেটি একমাত্র এরিকই দিতে পারবে উনাকে। কারণ এরিক তো স্পেশাল চাইল্ড।’