ডাকসু নির্বাচনে প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি

  রাজিবুল হাসান ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

ডাকসু।
ডাকসু।

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ১৩টি ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রদল ও প্রগতিশীল ছাত্র জোটভুক্ত বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কারা প্রার্থী হতে পারবেন, তা নিয়ে মতামত দেয়া হয়।

ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনবিষয়ক কমিটি গঠন

ডাকসুর ২১ বছরের পুরনো গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে একটি কমিটি করে দিয়েছেন পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো.আখতারুজ্জামান।

সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ডাকসুর গঠনতন্ত্রটি সংশোধন ও পরিমার্জনের বৈঠক হয়েছিল। ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ৬ জুন ১৯৯০। পরে বিভিন্ন সময়ে ডাকসুর নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করলেও নির্বাচন আর হয়নি। বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। অবশেষে আবারও ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অবশ্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতারা নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংঠনের সহাবস্থানের ওপর জোর দিয়েছেন।তারা বলেছেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ছাড়া ডাকসুর সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা চাই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হোক।

প্রগতিশীল ছাত্র জোটভুক্ত বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের যে দখলদারিত্ব রয়েছে, এটি বহাল রেখে কোনোভাবেই একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, ডাকসুর বিদ্যমান গঠনতন্ত্রটি ২১ বছরের পুরনো। তাই এটিকে সংশোধন করে যুগোপযোগী করা দরকার। এ জন্য একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে।

অছাত্রদের হল ছাড়ার উদ্যোগ

সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনেকটাই নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ওপর। নির্বাচন উপলক্ষে আবাসিক হলগুলোতে অছাত্র ও বহিরাগতদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলছে হলের আবাসিকত্ব হালনাগাদ করার কার্যক্রম।

ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে এর আগে সব ছাত্র সংগঠনের নেতাদের ডেকে আলোচনা, রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, গঠনতন্ত্র সংশোধন, আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটি ও পরিবেশ পরিষদের সভা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ সম্পর্কে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, যারা হলে থাকেন কিন্তু আবাসিক হননি, হলের প্রাধ্যক্ষরা আমাদের কাছে তাদের নামের তালিকা চেয়েছেন। আমরা হলের নেতাদের তালিকা দিতে বলেছি। ডাকসু নির্বাচনের জন্য আমরা প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করব।

এদিকে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠন ইসলামিক শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় ছাত্র সমাজ ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক কোনো সংগঠনের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই। ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য গত ২৩ জানুয়ারি তারা ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে। ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা চেয়ে জাতীয় ছাত্র সমাজ ২৮ জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বরাবর আবেদন জানিয়েছে তারা।

ছাত্র সমাজ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ কিনা, জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী বলেছেন, প্রশ্নটি আপত্তিকর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সংগঠনের জন্ম দেয় না, কাউকে বাতিল বা অন্তর্ভুক্তও করে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×