‘প্রচণ্ড অসুস্থ’ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার আবেদন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেছেন, খালেদা জিয়াকে এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, কিন্তু চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখে তাকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। অর্থাৎ সমস্যাগুলো সম্পূর্ণ নিরাময়ের আগেই তাকে জেলে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি (খালেদা জিয়া) প্রচণ্ড অসুস্থ। তিনি নিজেই আমাদের (আইনজীবী) কাছে তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা কোন কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ তা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুচিকিৎসার লক্ষে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসার আদেশ দেন।

মঙ্গলবার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর স্থাপিত ঢাকার নয় নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে এসব কথা বলেন তিনি।

শুনানি শেষে এ বিষয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান বিচারক। এদিন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ দুই আসামির পক্ষে আংশিক চার্জ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এদিন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় গৃহকর্মী ফাতেমা তার সঙ্গে ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই বিচার এজলাসে আসলে বিচারকাজ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মওদুদ আহমদ তার নিজের পক্ষে চার্জ শুনানি শুরু করেন।

আদালতে তিনি বলেন, আমি এখনও পর্যন্ত বুঝতে পারিনি যে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ কি? আমি এতটুকু জানি যে ল’ মিনিস্ট্রি একটা নয়, অনেকগুলো মতামত দিয়েছে। আর এ মতামতের ভিত্তিতে আমার বিরুদ্ধে মামলা। আর আমি মতামতটাই এখনও দেখতে পারিনি। আমি কোনো মতামত দেইনি। সেটা ছিল মিনিস্ট্রি অব ল’ মতামত। ওই মতামতে মোট ৮ জন স্বাক্ষর করেন।

মওদুদ বলেন, তবে একমাত্র আমি ছাড়া বাকি ৭ জনকে আসামি কিংবা সাক্ষী পর্যন্ত করা হয়নি। আমাকে আসামি করা হয়েছে, কারণ আমি বিএনপির রাজনীতি করি। আমাকে হয়রানি ও অপমান করতে এ কাজ করা হয়েছে। দেশের সুনাম রক্ষার্থে মিনিস্ট্রি ওই মতামত দিয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষী নেই। কেউই তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে আমার নাম বলেনি।

নির্ধারিত সময়ে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আমার সাবমিশন যদি ভুল না হয়, তাহলে এক্ষুনি আমাকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে দিন। আমার কোনো বক্তব্য না শুনেই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আমার বক্তব্য না নেয়ায় প্রতিবেদন অসম্পন্ন হয়েছে। আর কমিশন কিছু না দেখেই প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে নিলেন? অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনাতে হবে। সভ্য দেশে সভ্য আইন করেছিলেন এখানে বাস আছেন যিনি (খালেদা জিয়া)। তবে তা এখন মিস ইউস হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি তার চার্জ শুনানি এদিনের মতো শেষ করে সময় চান। আদালত সময় মঞ্জুর করেন। এরপর আসামি খন্দকার শহীদুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী আসাদুজ্জামান চার্জ শুনানি শুরু করেন। তবে তিনি এদিন তা শেষ করেননি।

এরপর দুপুর ২টার দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতের কাছে দুটি আবেদন করেন। একটি মামলার রেকর্ডপত্র চেয়ে আবেদন ও অপরটি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য আবেদন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল কারাবিধি অনুসারে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় আপত্তি নেই বলে জানান। আদালত শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার আবেদনের বিষয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান।

একই সঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্রের জন্য প্রেসক্রাইভ ফরমে আবেদন করতে বলেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুর ২টা ৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য তাকে ওই বছরের ৬ অক্টোবর বিএসএমএমইউ’তে নেয়া হয়।

তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির অপর মামলায়ও সাজাপ্রাপ্ত হন। সেখান থেকে গত ৮ নভেম্বর তাকে সরাসরি আদালতে হাজির করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির করে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) এসএম সাহিদুর রহমান এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। এদের মধ্যে বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা গেছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

আরও
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×